"মরতে চাইনা ! আরো দশ বছর বাাঁচতে চাই !" ডায়েটিশিয়ানকে বলেছিলেন তাপস পাল !

খালি বলতেন , "সবাই আমায় ভুল বুঝলো।" কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলতেন তিনি।

  • Share this:

#কলকাতা: তাপস পাল ! অসুস্থ ছিলেন অনেকদিন ধরেই। অভিনয় ছেড়ে দেওয়া, যাত্রা থেকে দূরে সরে যাওয়া আর রাজনৈতিক টানাপোড়েন সব কিছু মিলিয়ে মানসিক ভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর কনসাল্টেড ডায়েটিশিয়ান সোমশ্রী চট্টোপাধ্যায় জানালেন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা!

তাপস পালের চিকিৎসার ভার আপনি পেলেন কি করে ? সেই স্মৃতিই বা কেমন !

আজ থেকে বছর দেড়েক আগের ঘটনা ! তখন সবে আমি দিল্লি থেকে ফিরে কলকাতার একটি মাল্টি স্পেশালিটি হসপিটালে জয়েন করেছি। হটাৎ আমায় একদিন স্পেশালি ডাকা হল তাপস পালের কাউন্সেলিং করার জন্য। উনি এসেছিলেন কিডলির জটিল সমস্য নিয়ে দেখাতে। আর সেখানেই আমাকে ডাকা হয় ওনার কাউন্সেলিং করার জন্য। আমি ওনার ডায়েট কাউন্সিলর ছিলাম। আমাকে ডাকা হয়। প্রথম দেখাতে আমি জাস্ট চমকে যাই। এই কে সেই কিংবদন্তী নায়ক তাপস পাল ! এই কি সেই সাহেব? এই কি সেই দাদার কীর্তির তরতাজা যুবক ! নিজের মাথার মধ্যেই ঘুরতে থাকে নানা প্রশ্ন। কারণ সামনে যাকে দেখছিলাম তিনি একেবারে শুকিয়ে গিয়েছেন। আমায় না বোলে দিলে আমি হয়তো চিনতেও পারতাম না যে ইনিই তাপস পাল। মানসিক ভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন। খাওয়া-দাওয়াও প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু এই রকম মানসিকভাবে ভেঙে পড়া একজন মানুষকে আপনি বোঝাতেন কিভাবে ?  তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী দি আমায় একদিন বলেন, "তুমি একটু বোঝাও !" সেই শুরু । তারপর থেকে প্রতি দিন নিয়ম করে মেনে চলতেন। আমি যা যা বলতাম সব শুনতেন। আমায় বলতেন, "আমি আরোও দশ বছর বাঁচতে চাই। যা বলবে আমি শুনবো। আমি মরতে চাইনা।" এই কথা শুনলেই কান্না পেয়ে যেত আমার। নানাভাবে তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করতাম। গত দুর্গা পুজোর সময় থাইল্যান্ড থেকে ফোন করে আমার পরামর্শ চেয়েছিলেন। বেড়াতে গিয়েও উনি আমার পরামর্শ ছাড়া কিছু খেতেন না। আমার স্যরকেও বলেছিলেন সোমশ্রী খুব ভাল, আমায় সব সময় সাহায্য করে। এই স্মৃতিগুলো কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। যখনই হসপিটালে আসতেন তখনই আমার সঙ্গে গল্প করতেন। কথা বলতে খুব ভাল বাসতেন তিনি।

মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছিলেন তিনি?

অভিনয় থেকে দূরে সরে আসাটা মেনে নিতে পারেননি তিনি। মাঝে মাঝেই কষ্ট পেতেন এর জন্য। মনে অনেক কষ্ট জমে ছিল ওনার। খালি বলতেন , "সবাই আমায় ভুল বুঝলো।" কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলতেন তিনি। আমাকে অনেক বার নিজের বাড়িতে ডেকেছিলেন । বলতেন আমার মেয়েতো কাছে থাকে না, তুমি চলে এস। তুমি তো আমার মেয়ের মতো। কিন্তু আমার যাওয়া আর হয়নি। আজ সব কথা খুব মনে পড়ছে। এই অকাল মৃত্যু সত্যিই মেনে নিতে পারছি না। ওনার পরিবারের মানুষ মনের শক্তি পান।

ডায়েটে কি খেতেন তাপস পাল ?

প্রোটিন কম খেতে হত। মাছ, ডিম, মাংস একসঙ্গে খাওয়া বারণ ছিল। মোমো খেতে খুব ভালবাসতেন। কিন্তু খেতে পারতেন না। নুডলস ভালবাসতেন। কিন্তু খুব কম করে খেতে পারতেন। পোহা খেতেন মাঝে মধ্যেই। তবে সবই ছিল খুব নিয়ম মেনে। আর উনি আমায় না জানিয়ে কিছু খেতেন না। এখন খুব মনে পড়ছে এই সব কথা ।

First published: February 18, 2020, 5:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर