• Home
  • »
  • News
  • »
  • entertainment
  • »
  • বনগাঁর প্ল্যাটফর্ম থেকে তোর্সার চর, নাট্যকর্মীদের উদ্যোগে রোজ কয়েকশো নিরন্নের সামনে গরম ভাত

বনগাঁর প্ল্যাটফর্ম থেকে তোর্সার চর, নাট্যকর্মীদের উদ্যোগে রোজ কয়েকশো নিরন্নের সামনে গরম ভাত

বনগাঁ স্টেশনে রোজ এক বেলা করে খাওয়ানো হচ্ছে প্রায় ৯০ জনকে, ছবি-সংগৃহীত

বনগাঁ স্টেশনে রোজ এক বেলা করে খাওয়ানো হচ্ছে প্রায় ৯০ জনকে, ছবি-সংগৃহীত

ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে অন্নসংস্থান তাঁদের কাছে দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে ৷ গত বছর লকডাউনে কর্মহীন হকারদের কষ্ট ছুঁয়ে গিয়েছিল একদল থিয়েটার ফোরামের নাট্যকর্মীদের ৷

  • Share this:

    কলকাতা : লোকাল ট্রেন বন্ধ ৷ ফলে বনগাঁ এলাকায় কর্মহীন অসংখ্য হকার ৷ অন্য সময় ট্রেনের এক কামরা থেকে অন্য কামরায় ঘুরে ঘুরে জিনিস ফিরি করেই দিন গুজরান হয় তাঁদের ৷ ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে অন্নসংস্থান তাঁদের কাছে দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে ৷ গত বছর লকডাউনে কর্মহীন হকারদের কষ্ট ছুঁয়ে গিয়েছিল একদল থিয়েটার ফোরামের নাট্যকর্মীদের ৷

    প্রথমে নিজেদের অর্থ দিয়েই হকারদের এক বেলা খাওয়ানো শুরু করেন তাঁরা ৷ হকারদের সঙ্গে এই প্রয়াসে সামিল করা হয় ভবঘুরেদেরও ৷ বনগাঁ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে পড়ত সারি সারি পাত ৷ নিরন্ন মুখগুলোর সামনে পরিবেশন করা হত গরম ভাত ৷ সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের কাজের কথা জানাতেই শুভানুধ্যায়ীরা পাশে এসে দাঁড়ান ৷ ক্রাউড ফান্ডিং করে দু’ মাস ধরে খাওয়ানো হয় ওই অসহায় মুখগুলোকে ৷

    একই প্রয়াস শুরু হয়েছিল কুচবিহার, বহরমপুর এবং গড়িয়াতে ৷ সবক্ষেত্রেই মূল উদ্যোগী ছিলেন নাট্যকর্মীরা ৷ পাশে পেয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা অসংখ্য অচেনা মুখকে ৷ তাঁদের সাহায্যে দীর্ঘদিন খাওয়ানো হয়েছে ক্ষুধার্তদের ৷ থিয়েটার ফোরামের সত্যজিতের কথায়, ‘‘ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অসংখ্য মানুষের সাহায্য পেয়েছি ৷ অপরিচিত এই নেটিজেনদের পাশে না পেলে এই উদ্যোগ সফল হত না ৷’’

    এ বছরও লকডাউনে আবার শুরু হয়েছে একই উদ্যোগ ৷ বনগাঁ স্টেশনে রোজ এক বেলা করে খাওয়ানো হচ্ছে প্রায় ৯০ জনকে ৷ কুচবিহারে দৈনিক ৮০ জনের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে খাবার ৷  সেখানে ফাঁসির ঘাটে তোর্সা নদীর চরে বাসা বেঁধে থাকা বাসিন্দাদের সামনে পরিবেশন করা হচ্ছে খাবার ৷ হলদিবাড়িতে ভবঘুরেদের পাশাপাশি খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কোভিডরোগীদের কাছেও ৷ বহরমপুর শহরেও ঘুরে ঘুরে খাবার বিলি করা হচ্ছে ৷ সাহায্যের হাত পৌঁছে গিয়েছে পেট্রাপোল সীমান্তেও ৷ বিএসএফ-এর অনুমতি নিয়ে সেখানেও ভবঘুরেদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে খাবারের প্যাকেট ৷

    এই উদ্যোগের জন্য ডেকরেটর্সরা নিখরচায় তাঁদের বাসনপত্র দিয়েছেন ৷ নাট্যকর্মীরা নিজেরাই রান্নাবান্না এবং খাবার বিলির দায়িত্ব নিয়েছেন ৷ দলের মেয়েরা সামলাচ্ছেন রান্নার দিক ৷ তার পর খাবার প্যাকেটবন্দি করা থেকে বাসনমাজা, সে দায়িত্ব নিয়েছেন পুরুষরা ৷ ঘুরে ঘুরে খাবার বিলি করার কাজে সামিল নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলেই ৷

    রোজকার খাবারে থাকছে ভাত এবং একটা তরকারি ৷ এ ছাড়া মাঝে মাঝে ব্যবস্থা করা হচ্ছে মাছ বা মাংস বা ডিম-ও ৷ ইচ্ছে আছে, গরুর দুধ এবং মরসুমি ফল হিসেবে আম খাওয়ানোরও ৷ থিয়েটার ফোরামের সত্যজিৎ জানালেন, এই দফায় যত দিন না লোকাল ট্রেন পরিষেবা আবার শুরু হচ্ছে, তত দিন তাঁদের এই উদ্যোগ জারি থাকবে ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: