'সোশ্যাল ডায়লেমা'-তে বিকৃত করা হচ্ছে তথ্য ! নেটফ্লিক্সকে সরাসরি আক্রমণ ফেসবুকের !

The Social Dilemma, theatrical poster. (Image: Netflix)

তথ্যচিত্রের নাম 'সোশ্যাল ডায়লেমা'। সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি কী ভাবে সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের আচরণ পালটে দিচ্ছে ক্রমশ, তা নিয়েই তৈরি ছবি। সেই ছবির বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি মুখ খুলল বিশ্বের সব চেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা ফেসবুক।

  • Share this:

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের একটি তথ্যচিত্র ভাইরাল হয়েছে। তথ্যচিত্রের নাম 'সোশ্যাল ডায়লেমা'। সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি কী ভাবে সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের আচরণ পালটে দিচ্ছে ক্রমশ, তা নিয়েই তৈরি ছবি। সেই ছবির বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি মুখ খুলল বিশ্বের সব চেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা ফেসবুক। তথ্যচিত্রে তুলে ধরা সোশ্যাল মিডিয়ার সাতটি 'নেতিবাচক' দিক নিয়েই প্রতিবাদ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানো, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রভাবিত করা, গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার মতো বিষয়।

নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে ফেসবুক জানিয়েছে সম্প্রতি ফেসবুকের কন্টেন্টে এমন কিছু বদল আনা হয়েছে যে যার ফলাফল স্বরূপ সারা দুনিয়ায় মানুষ প্রতি দিন ৫ কোটি ঘণ্টা কম ব্যবহার করছেন এই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। তার ফলে সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি কমানোর ব্যাপারে নিজেদের দায়বদ্ধ বলেই দাবি করেছে ফেসবুক। বিশ্বের সব চেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা এও জানিয়েছে- ফেসবুক ব্যবহারকারী চাইলেই পছন্দের বা অপছন্দের বিজ্ঞাপন এডিট অথবা রিমুভ করতে পারেন। এর ফলে ছোট ছোট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও বড় সংস্থার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতায় নামতে পারে। তবে ব্যবসার সময় গ্রাহকের পরিচয় গোপন রাখা হয় বলে দাবি করেছে ফেসবুক।

ফেসবুক অ্যালগোরিদমের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল নেটফ্লিক্সের ভাইরাল হওয়া তথ্যচিত্রটি। সেই প্রসঙ্গে ফেসবুকের জবাব, এ ক্ষেত্রেও কোনও কারচুপি করা হয় না, বরং অধিকাংশ সংস্থা যে অ্যালগোরিদম ব্যবহার করে ফেসবুকও সেটিই করে থাকে। তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে সংবেদনশীল তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোকে প্রশ্রয় দেয় না ফেসবুক, এমনই মত সংশ্লিষ্ট সংস্থার।

ভুয়ো খবরে যাতে ছেয়ে না যায় ফেসবুক, সেই লক্ষ্যে ৭০ জন বিশেষজ্ঞের একটি ফ্যাক্ট চেকিং দল গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সংস্থার তরফে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে ২০২০ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া ২ কোটি ভাষণ ফেসবুক নিজেদের পেজ থেকে সরিয়েছে।

‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ সিনেমাকে ব্যঙ্গ করতেই নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছিল ‘দ্য সোশ্যাল ডায়লেমা’। এমি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত পরিচালক জেফ ওরোলস্কি এটি পরিচালনা করেন। প্রযুক্তি দুনিয়ার ডাকসাইটে ব্যক্তিত্বরা এতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাঁদের মূল বক্তব্য, মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে অর্থ আয় করছে ফেসবুক। ব্যবহারকারীকে অ্যাপে কয়েক ঘণ্টা ধরে রাখতে পারলে, অনেক বিজ্ঞাপন দেখানো যায়। আর এই বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য প্রত্যেকের নিউজফিড সাজানো হয় আলাদা ভাবে। দুই ব্যক্তির মধ্যে খুব মিল থাকলেও তাঁদের ফেসবুকের নিউজফিড হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ প্রতিটা ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা বিজ্ঞাপন, পোস্ট ও নিউজ দিয়ে নিউজফিড সাজায় ফেসবুকের অ্যালগোরিদম।

দেখা যাক, পাল্টা বিবৃতিতে ফেসবুকের যুক্তি কাটতে পারেন কি না তথ্যচিত্র নির্মাতারা!

Published by:Piya Banerjee
First published: