Exclusive: 'সুশান্তের মৃত্যু আমাকে জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়ে দিল ’: সঞ্জনা

Exclusive: 'সুশান্তের মৃত্যু আমাকে জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়ে দিল ’: সঞ্জনা
মুক্তির আগে তাঁর ঘাড়ে ছবির সমস্ত দায়িত্ব চাপিয়ে, চলে গেলেন নায়ক, সুশান্ত সিং রাজপুত।

মুক্তির আগে তাঁর ঘাড়ে ছবির সমস্ত দায়িত্ব চাপিয়ে, চলে গেলেন নায়ক, সুশান্ত সিং রাজপুত।

  • Share this:

#কলকাতা: সিনে দুনিয়ায় পা রেখেছিলেন শিশু শিল্পী হিসেবে। নায়িকা হলেন। মুক্তি পেল প্রথম ছবি। কিন্তু আর পাঁচটা নবাগতর মতো হলো না তাঁর ডেবিউ। মুক্তির আগে তাঁর ঘাড়ে ছবির সমস্ত দায়িত্ব চাপিয়ে, চলে গেলেন নায়ক, সুশান্ত সিং রাজপুত। কেমন ছিলেন অভিনেতা সুশান্ত, কেমন ছিলেন সহকর্মী সুশান্ত? মনের পাতা উল্টে, স্মৃতিচারণা করলেন তাঁর ‘দিল বেচারা’ কো-স্টার। নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে দুঃখ ভাগ করে নিলেন সঞ্জনা সাংভি।

প্রঃ প্রথমেই শুভেচ্ছা জানাবো। আপনার নায়িকা হিসেবে প্রথম তো ছবি দারুণ সফল।

ধন্যবাদ।


প্রঃ‘রকস্টার’-এ ছোট একটা চরিত্র। সেখান থেকে নায়িকা, এই সফরটার ব্যাপারে একটু জানতে চাইবো...

‘রকস্টার’ করার সময় আমার মাত্র ১৩ বছর বয়স ছিল। তারপর স্কুল-কলেজ শেষ করলাম। পড়াশোনা করতে ভালই লাগতো। কলেজের গোল্ড মেডেলিস্ট আমি। কিন্তু পাশাপাশি থিয়েটার, নাচ এসবও আকৃষ্ট করতো। কলেজ শেষ করে একটা চাকরিতে যোগ দেব, সব পাকা। তার কয়েকদিন আগে মুকেশ স্যার ফোন করেলেন। আমাকে অডিশন দিতে বললেন। এই ভাবে ‘দিল বেচারা’-র যাত্রা শুরু হলো।

প্রঃ‘রকস্টার’-এ অভিনয় করার প্রস্তাবও হঠাৎ এসেছিল। তাই না?

দেখুন ‘দিল বেচারা’-র কথা তাও আমি বলতে পারবো। ‘রকস্টার’-এর সময় খুব ছোট ছিলাম।আমার মধ্যে কী চলছে, তা শব্দে তখন কাউকে বোঝাতেই পারিনি। এই স্কুলে ছিলাম। হঠাৎ মুকেশ স্যারের আমাকে চোখে পড়ে। অডিশন দিই। পৌঁছে যাই ধর্মশালায়। সেখানে দেখছি আমার সামনে রণবীর কাপুর বসে আছেন।

 প্রঃ এত বড় স্টারকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তখন?

বললে হয়তো বিশ্বাস করবেন না। ইমতিয়াজ স্যার, রণবীর মজা করে বলেন, আমি নাকি ওঁদের কোনও পাত্তাই দিইনি। স্টারস্টার্ক ব্যাপারটা আমার মধ্যে কখনও ছিল না। ওই অল্প বয়সেও ছিল না।

প্রঃ একটু খুলে বলুন।

যশ ও খ্যাতির সঙ্গে আমার কেমন একটা অদ্ভুত সম্পর্ক। আমি কোনও স্টারকে দেখে দারুণ মুগ্ধ হই না। কিংবা আমি নিজের জন্যও বিপুল স্টারডম চাই না। আমি শিল্প ভালবাসি। ভাল অভিনয় ভাল লাগে। কোনও ব্যক্তিকে নয়। রণবীরকে আমার ভাল লাগে ওঁর করা সব ছবির জন্য। ওঁর স্টারডমের জন্য নয়। ছোট থেকে আমি এরকমই।

 প্রঃ ছোট চরিত্র থেকে নায়িকা। ছবির মুক্তি, ছবির প্রচার। নায়ক নেই। পুরো দায়িত্বটা একা আপনার। ভেঙে পড়েছিলন? চাপ অনুভব করেছিলেন নিশ্চয়ই?

ওই দিনগুলো কী ভাবে কাটিয়েছি বোঝাতে পারবো না। কোন পরিস্থিতিতে ছবিটা মুক্তি পেয়েছে, শুধুমাত্র এই ছবির টিমই জানে। শোকে ডুবে ছিলাম। কিন্তু সুশান্তের জন্য ‘দিল বেচারা’ দর্শকের সামনে আনতেই হবে। ভেঙে পড়েছিলাম। তখন নিজেকে বললাম, সুশান্ত আমাদের সকলকে দেখছে, এটা করতেই হবে। ওঁ ম্যানিকে (‘দিল বেচারা’-এ সুশান্তের চরিত্রের নাম) কতটা ভালবাসতো...

আমি জানি। এই ছবিতে সুশান্ত নিজেকে কতটা উজাড় করে দিয়েছিলো, আমি দেখেছি। আর নিজের ছবি বলে বলছি না, ‘দিল বেচারা’, সত্যি ভাল ছবি। শ্যুটিং-এর সময় বুঝেছিলাম আমরা স্পেশ্যাল কিছু বানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস ছিল ‘দিল বেচারা’ দর্শকের দুঃখ কিছুটা হলেও কমাবে।

 প্রঃ ছবির প্রচার মানে অনেক কথা বলতে হবে। কিন্তু অন্য দিকে সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত চলছে। কী বলবেন, কীভাবে বলবেন, সতর্ক থাকতে হচ্ছে। একটা মন্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। খুব কঠিন নিশ্চয়ই?

আমি প্রচণ্ড খোলামেলা স্বভাবের। যা মনে হয়, তা বলে ফেলি। এটাই আমার দুর্বলতা, এটাই আমার শক্তি। হয়তো এই স্বভাবের জন্য প্রথমটায় অনেকে আমাকে ভুল বুঝতে পারেন। আমি সেটা জানি। কিন্তু মনের মধ্যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে, আমি কখনওই কিছু বলিনি। হ্যাঁ মানুষ আমাকে ভুল বুঝেছেন। খারাপ লেগেছে। তবে রাগ করিনি। একজন হট করে চলে গেল।

পরিস্থিতিটা খুব অদ্ভুত। মানুষ এখন যুক্তি দিয়ে ভাবার মতো অবস্থায় নেই। কেউ যেন সত্যি শুনতেই চাইছেন না। তবে সময় পাল্টাবে। কিন্তু আমি নিজেকে পাল্টাতে পারবো না। সকলকে খুশি করার জন্য ব্যক্তিত্বে বদল আনা সম্ভব নয়।

প্রঃ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে আপনাকে অনেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। সিনে দুনিয়ায় আপনি একেবরে নতুন। মানসিক চাপ অনুভব করেছিলেন?

মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। আপনি যখন সততার সঙ্গে কিছু বলেন, অথচ তার অন্য মানে করা হয়, সেটা খারাপ লাগা স্বাভাবিক। আবার আমার মনে হয়, সকলে আপনাকে পছন্দ করবে, সেটাও হয় না। স্কুলে কত বাচ্চা একসঙ্গে বড় হয়। কিন্তু মাত্র চার-পাঁচজন ভাল বন্ধু হয়। তাই না? কী জানেন তো, কেউ সন্মান বজায় রেখে আমার সমালোচনা করলে আমার কোনও দুঃখ নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটারই বড় অভাব।

প্রঃ আপনি মনে করেন অভিনেতা কিংবা কোনও নামী ব্যক্তিত্বকে ট্রোল করা সহজ?

ভারতবর্ষের সমস্যা হচ্ছে কাউকে পছন্দ হলে, পুজো করে। আবার পছন্দ না হলে, ছুঁড়ে ফেলে দেয়। আমার মনে হয় একটু বাস্তবিকভাবে চিন্তা ভাবনা করা উচিত। মানে আমার কাউকে ভাল লাগলে, তাঁর কী ভাল লাগছে? তাঁর অভিনয়, তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস,

সেটা বুঝতে হবে।

প্রঃ আচ্ছা ‘দিল বেচারা’-র গল্প, সুশান্তের ‘ম্যানি’র মতোই চলে যাওয়া। অদ্ভুত মিল। তাই না?

ভীষণ অদ্ভুত। ছবিটা দেখলে কেমন গায়ে কাঁটা দেয়। মনে হয়, এই দৃশ্যটার সময় সুশান্তের মনের মধ্যে কী চলছিল?

 প্রঃ সুশান্ত আর আপনার প্রথম দেখা কোথায় হয়েছিল?

ছবির ওয়ার্কশপে পরিচয় হয়েছিল সুশান্তের সঙ্গে।

মুকেশ ছাবড়ার অফিসে প্রথম স্ক্রিপ্ট রিডিং হয়েছিল। ওখানেই প্রথম দেখা। ওঁর মধ্যে কোনও স্টার সুলভ আচরণ ছিল না। এই চিত্রনাট্য ১০০-২০০ বার এর আগে আমি পড়েছিলাম। কিন্তু সুশান্তের সঙ্গে চিত্রনাট্য

পড়ার পরই প্রথমবার কিজি-কে বুঝতে পারলাম। অভিনয়-বই নানা বিষয়ে কথা হতো আমাদের।

প্রঃ ১৪ জুনের আগেই কি ‘দিল বেচারা’-র মুক্তি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল?

হ্যাঁ। সুশান্ত জানতো, কয়েকদিনের মধ্যে ডিজিটালি মুক্তি পাবে এই ছবি।

প্রঃ তাহলে নিশ্চয়ই ছবি মুক্তি, প্রচার নিয়ে প্রচুর কথা হতো?কাজের জন্যই কথা হতো। কিন্তু সুশান্ত নিজের সমস্যার কথা কখনও বলেনি। কিছু বুঝতে দেয়নি। ওঁ আর নেই খবরটা কীভাবে পেলাম, ঘটনাক্রম মনে করতে চাই না। মানসিকভাবে ওই ঘটনা থেকে বেরোতে, আমার খুব কষ্ট হয়েছে।

প্রঃ সত্যি বেরতে পেড়েছেন?দেখুন আমার মাত্র ২৩ বছর বয়স। এই ঘটনা আমাকে জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়ে দিলো। বয়সের আগেই অনেক কঠিন সত্যি জানতে পারলাম। অনেক কিছু দেখে ফেললাম। যেটা না দেখলেই ভাল হতো।

 প্রঃ একটু হালকা প্রশ্ন করি, ছবির জন্য তো বাংলা শিখেছেন। বলতে পারেন?

(ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললেন) বলতে পারি না। একটু একটু বুঝতে পারি। শ্যুটিং-র সময় স্বস্তিকার কাছ থেক অনেক নতুন শব্দ শিখেছিলাম।

প্রঃ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগলো?আমি দু’জনের অভিনয়ের খুব ভক্ত। শাশ্বতদা দারুণ। স্বস্তিকার কথা কী বলবো। ওঁর মেয়ের বয়স প্রায় আমার মতোই। অফস্ক্রিনও স্বস্তিকা আমার মা-ই ছিল। ওঁর মেয়ের সঙ্গেও খুব বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে। স্বস্তিকা খুব ‘কুল মম’।

প্রঃ শেষ প্রশ্ন, আপনার প্রথম ছবি সাফল্যের ইতিহাস গড়লো, কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই উপভোগ করতে পারছেন না। আক্ষেপ হচ্ছে?

আপনি একদম ঠিক বলেছেন। ছবি মুক্তির পর ৫ মিনিটের জন্যও পরিবারের সঙ্গে বসে, জানতে চাইনি, ছবিটা ওঁদের কেমন লেগেছে। নিজেকেও বলিনি ‘সঞ্জনা প্রথম ছবিতে, তুমি ভাল কাজ করেছো।’এক মুহূর্তের জন্য আনন্দ করিনি। এটা কী আমার সঙ্গে হওয়ার কথা ছিল? হওয়া উচিত ছিল? এটা আমার প্রাপ্য নয়।

Published by:Akash Misra
First published: