কে এই টুকুনবাবু? খুঁজছেন সুদীপা, সন্ধান চেয়েছেন ফেসবুকে

সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, ছবি-ফেসবুক

সন্ধান পেতে ফেসবুকে পোস্টও করেছেন রন্ধশিল্পী তথা সঞ্চালিকা৷ কিন্তু কেউ তাঁকে টুকুনবাবুর সন্ধান এখনও অবধি দিতে পারেননি৷

  • Share this:
    কলকাতা : জনৈক টুকুনবাবুকে খুঁজছেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায় ৷ তাঁর নামটুকুই জানেন ৷ আর কোনও তথ্য নেই সুদীপার কাছে ৷ সন্ধান পেতে ফেসবুকে পোস্টও করেছেন রন্ধশিল্পী তথা সঞ্চালিকা৷ কিন্তু কেউ তাঁকে টুকুনবাবুর সন্ধান এখনও অবধি দিতে পারেননি৷ কোথা থেকে টুকুনবাবুর নাম জানলেন সুদীপা? তার যোগসূত্র গড়িয়াহাটের পুরনো বইয়ের দোকান ৷ সেখানে সুদীপা খুঁজে পেয়েছেন বিক্রি হয়ে যাওয়া বেশ কিছু বই ৷ তার মধ্যে আছে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ‘শিয়ালের গল্প’, ‘বাঘের গল্প’, যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘আষাঢ়ে গল্প’৷ সঙ্গে অস্কার ওয়াইল্ডের ‘দ্য সেলফিশ জায়ান্ট’-এর বাংলা অনুবাদ ৷ চিরকালীন শিশুসাহিত্যের সম্ভার৷ চারটি বই রঙিন এবং যথেষ্ট ভাল অবস্থায় আছে৷ প্রথম পৃষ্ঠা ওল্টালেই বোঝা যায় কোনও বাচ্চাকে দেওয়া উপহার ৷ চারটির মধ্যে দুটি বইয়ে লেখা আদরের টুকুনবাবুর জন্য জবাদিদার উপহার৷ একটি বই ছিল বন্দনা দিদার তরফে৷ একটি বইয়ের উপহারের বছর উল্লেখ করা ২০১০-এর এপ্রিল, আর একটি বই ২০১৪-র এপ্রিল মাসের উপহার ৷ ভালবেসে দেওয়া অতীতের উপহার আজ ঠাঁই হয়েছে পুরনো বইয়ের দোকানে ৷ বইয়ের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সুদীপা ৷ সঙ্গে জানতে চেয়েছেন টুকুনবাবুর পরিচয় ৷ কেনই বা উপহারের বইয়ের জায়গা হয়েছে পুরনো বইয়ের দোকানে? প্রশ্ন সুদীপার৷ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘খুব জানতে ইচ্ছে করছে- তার গল্প। কে বা কারা তাকে পরম আদরে, এইসব বই উপহার দিয়েছিলো ? কেনই বা তা পুরোনো বইয়ের স্টলে ? ’ টুকুনবাবুর সন্ধান কেউ পেলে তাঁকে জানাতেও বলেছেন সুদীপা ৷ পোস্টের প্রেক্ষিতে মন্তব্য এসেছে অজস্র৷ চকচকে বাংলা বইকে অবহেলায় পুরনো বিকিকিনির দোকানে পড়ে থাকতে দেখে আহত অনেকেই ৷ তাঁদের মতে, বাংলা বই বলেই এগুলির পরিণতি এরকম ৷ অনেকের বক্তব্য, আজকের শিশুরা বই পড়েই না ৷ তবে বেশিরভাগ নেটিজেনই বইগুলো দেখে ফিরে পেয়েছেন নিজেদের শৈশব ৷ মনে পড়ছে, একদিন তাঁরাও সাগ্রহে অপেক্ষা করতেন এরকম নতুন বই উপহারের জন্য ৷ বইয়ের পাতায় গল্পরাও দলবেঁধে যেন ঘুরেফিরে আসছে মনের মধ্যে ৷ জিয়া নস্টাল করার পাশাপাশি অনেকেরই মন ভারী হয়েছে যাঁরা উপহার দিয়েছেন, তাঁদের কথা ভেবে৷ স্নেহের উপহারের এই করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারেননি তাঁরা ৷ সংখ্যায় কম হলেও কিছু জন আছেন অজ্ঞাত টুকুনবাবুর পরিবারের পাশেও৷ তাঁদের আশঙ্কা, হয়তো এই অতিমারি ইতি টেনেছে বইগুলোর প্রয়োজনে ৷ তাই তাদের ঠিকানা আজ পুরনো বইয়ের দোকান ৷ উত্তরের দোলাচলেই স্তব্ধ সুদীপার প্রশ্ন ৷ এখনও কেউ খোঁজ দিতে পারেননি অচিনপুরের টুকুনবাবুর ৷
    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: