Home /News /entertainment /
'ভাবতে অবাক লাগে ২৯ বছর তুমি নেই দাদু', সত্যজিতের মৃত্যুদিনে আবেগে ভাসলেন রুমা কন্যা শ্রমণা

'ভাবতে অবাক লাগে ২৯ বছর তুমি নেই দাদু', সত্যজিতের মৃত্যুদিনে আবেগে ভাসলেন রুমা কন্যা শ্রমণা

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে ২৯ টা বছর! ২৩ এপ্রিল আজকের দিনে মিলিয়ে গিয়েছিল সেই ব্যারিটোন গলার স্বর...

  • Share this:

    #কলকাতা: কার্পেট মোড়া চওড়া কাঠের সিঁড়ি উঠে গিয়েছে দোতলায়। পাশাপাশি চলেছে সাবেক আমলের একটা লিফট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাঁ দিকে সাদা দরজা ভেতর থেকে বন্ধ,  এক সময় এই দরজাতেই বেজে উঠত কলিং বেল। সাদা পাঞ্জাবি আর আলিগড়ি পায়জামা পরা এক দীর্ঘকায় সুপুরুষ শিস দিতে দিতে দরজা খুলতেন। সত্যজিৎ রায়। আজ সেই শিস নেই। সেই দরজা বন্ধ। কলিংবেলও বাজে না।

    ১০০, গড়পার রোডের বাড়ি। ঠাকুরদাদার শূন্য কাজের ঘর থেকে একটি কাঠের বাক্স পেয়েছিল ছেলেটি। সেখানে থাকত ঠাকুরদাদার রং, তুলি আর তেলরঙের কাজে ব্যবহারের জন্য লিনসিড অয়েলের শিশি। উত্তরাধিকারের সেই ধারা পরবর্তী কালে প্রজন্মজয়ী হয়েছিল বালকের হাত ধরেই। লেজিয়ঁ দ্য নর সম্মানে সম্মানিত এই বাঙালির জন্যই হীরকরাজাকে খানখান করার স্বপ্ন দেখতে পারে উদয়ন পণ্ডিতরা। অরিন্দমরা টেবিল চাপড়ে বলতে পারে, " আই উইল গো টু দ্য টপ, দ্য টপ, দ্য টপ!"

    দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে ২৯ টা বছর! ২৩ এপ্রিল আজকের দিনে মিলিয়ে গিয়েছিল সেই ব্যারিটোন গলার স্বর! প্রিয় 'দাদু'র মৃত্যুদিনে আবেগবিহ্বল হয়ে পড়লেন রুমা গুহঠাকুরতা তনয়া শ্রমণা চক্রবর্তী! সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, '' আজ একজন গায়িকা হিসেবে দুনিয়া আমাকে যতটুকু চেনে, তা সম্পূর্ণ আমার দাদুর জন্য... সত্যজিৎ রায়। আজ ২৯ বছর দাদু নেই... সত্যিই ভাবলে অবাক লাগে, বিশ্বাস হয় না। আমি জীবনের কাছে ধন্য, এরকম একজন দাদু পেয়েছি। তোমায় ভালবাসি দাদু, প্রতিটা মুহূর্তে তোমায় হারাই।''

    প্রখ্যাত অভিনেত্রী, গায়িকা, ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা ও কিশোর কুমারের প্রথমা স্ত্রী রুমা গুহঠাকুরতার কন্যা শ্রমণা চক্রবর্তী। সত্যজিৎ রায় ছিলেন রুমার মামা, সেই সূত্রে কিশোর কুমারের পরিবার অর্থাৎ গাঙ্গুলী পরিবার ও রায় পরিবারের মধ্যে ছিল খুব মিলমিশ। সম্পর্কে সত্যজিৎ রায় ছিলেন কিশোর কুমারের মামাশ্বশুর, কারণ বিজয় রায় ছিলেন রুমা গুহ ঠাকুরতার মাসি। কিশোর কুমার সত্যজিৎ-কে 'মামা' বলে সম্বোধন করতেন। 'চারুলতা' ছবিতে কিশোর কুমারকে দিয়ে প্লেব্যাক করার ইচ্ছে প্রকাশ করে তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন সত্যজিৎ রায়। সেই চিঠির উত্তরে কিশোরকুমার 'মানিকমামা' বলে সম্বোধন করে লেখেন, "আমি এই মুহূর্তে আপনার ছবির গান রেকর্ডিং করার জন্য মুম্বই থেকে কলকাতা যেতে পারছি না। কারণ এখানে আমার একটা ছবির শুটিং চলছে। প্রতিদিনই শুটিং এ ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তাছাড়া আমার মা হরিদ্বার থেকে সপ্তাহ খানেক আগে ফিরে এসে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বাড়িতেই রয়েছেন। চিকিৎসক তাকে রেখে আমাকে কোথাও যেতে বারণ করেছেন। এই অবস্থায় আপনি যদি কষ্ট করে মঙ্কুমাসি(বিজয়া রায়)কে নিয়ে মুম্বই চলে আসেন তাহলে আমাদের বাড়িতে থাকতে পারেন এবং গান রেকর্ডিং-এর ব্যবস্থা আমি করে দিতে পারি; যথাসম্ভব কম খরচে তা করে দিতে পারব"। পরবর্তীকালে সত্যজিৎ রায় গানটি রেকর্ড করতে গিয়েছিলেন এবং গানটি রেকর্ডিং এর জন্য কিশোর কুমার কোনও পারিশ্রমিক নেননি।

    Published by:Rukmini Mazumder
    First published:

    Tags: Satyajit Ray

    পরবর্তী খবর