corona virus btn
corona virus btn
Loading

অনলাইনে আইরাকে বাংলা শেখাচ্ছি : সৃজিত মুখোপাধ্যায়

অনলাইনে আইরাকে বাংলা শেখাচ্ছি : সৃজিত মুখোপাধ্যায়

শেষ দেখা হয়েছিল সেই বউভাতে। যে অনুষ্ঠানের পোশাকি নাম রিসেপশন

  • Share this:

#কলকাতা: রিসেপশনের পর দিন থেকেই আলাদা থাকতে হয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও মিথিলাকে। স্বামী স্ত্রীকে থাকতে হয়েছে দুই দেশে। বাধা কোভিড 19 ভাইরাস। স্বাধীনতা দিবসের দিন ছাড়পত্র মিলেছে বর্ডার পেরনোর। এই সুদীর্ঘ বিরহবেলা কীভাবে কাটল? শর্মিলা মাইতির সঙ্গে মনখোলা আড্ডায় ধরা দিলেন অন্য সৃজিত। বাবা সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

শেষ দেখা হয়েছিল সেই বউভাতে। যে অনুষ্ঠানের পোশাকি নাম রিসেপশন। দুইপার বাংলার দম্পতির শেষ দেখা হয়েছিল সেই দিন। তার পর থেকে কাকাবাবুর শুটিং করতে বিদেশ গেলেন বর সৃজিত মুখোপাধ্যায়। বউ মিথিলা মেয়েকে নিয়ে চলে গেলেন বাংলাদেশ। কাজ সেরে ফিরে হনিমুনের প্ল্যান। সে সব কিছু বানচাল করে দিল কোভিড ভাইরাস। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ। ভরসা শুধু ভার্চুয়াল মিডিয়াম। তাতেই কথাবার্তা।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই প্রথম সৃজিতের প্রশ্ন। "ঘরেই আছেন তো? ঘরে থেকেই কাজকর্ম হয়ে গেলে আর বাইরে বেরনোর চেষ্টা করবেন না। যে হারে করোনাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ...।"

কিন্তু সৃজিতের ক্ষেত্রে করোনা "আক্রান্ত" না হলেও, বড়সড় "চক্রান্ত" তো করেছেই! দাম্পত্য জীবনে তো বটেই, তার ওপর আটকে গিয়েছে শুটিং। অনলাইনে পাগলের মতো সারতে হয়েছে প্রোডাকশনের কাজ। "সিনেমার শেষ মুহূর্তের কাজও যে এভাবে সারা যায়, সেটা জাস্ট আগে ভাবা যেত না। এখনও ভাবা যায় না। কারণ পুরোটা ভার্চুয়াল সম্ভব না।  এমন লোকের দরকার যেদিন, তাকে পার্সোনাল ভেহিকল নিয়ে আসতেই হবে। কিন্তু সেদিন হয়ত লকডাউন ডিক্লেয়ার করা হল। আসতেই পারল না সে। এরকম নানা বাধা বিপত্তির সমাধান করে চলছি। "

তবে এই লকডাউনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মেয়ে আইরার সঙ্গে অদ্ভুত সুন্দর একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠা। বাবার সঙ্গে রোজ অনলাইনে নিছক গল্প করে না আইরা, গল্প শেখে। সৃজিত বাংলা শেখাচ্ছেন আইরাকে। তাতেই স্ত্রী মিথিলা দারুণ খুশি। শিক্ষক হিসেবেও সেল্ফ-ট্রেনিং টা হয়ে যাচ্ছে তাহলে? হাসলেন সৃজিত, "আমি মনে করি না যে, বাংলা পড়ানোর জন্য আলাদা ট্রেনিং দরকার আছে। এখন যদি আমি খুব শক্ত ব্যাকরণ নিয়ে আইরার ভিত তৈরি করতে বসি, সমাস পড়াতে শুরু করি, তাহলে হবে না। বিশেষ্য বিশেষণ সর্বনাম নিয়ে বসি তাহলে হবে না।

আমি বাংলা পড়া, বাংলার প্রতি ভালবাসা তেরি করাটার উপরে জোর দিয়েছি। ওর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, এর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই যদি উঠে আসে ওরই মনগড়া কয়েকটা বাক্য,  সেটাই ওর মনে দীর্ঘস্থায়ী ভালবাসা জাগাবে ভাষার প্রতি। যাতে ওর অন্তরঙ্গতা তৈরি হয়। কখনও ও আমায় নিয়ে লিখছে। কখনও ওর বন্ধুকে। কখনও ওর ভাললাগার বস্তু নিয়ে। এভাবেই ওর মধ্যে একটা interest তৈরি হচ্ছে!" বলে গেলেন সৃজিত।

মা মিথিলার সঙ্গে বাংলাদেশেই ছিল আইরা। কখনও নাচগান, কখনও খেলাধুলোয় ব্যস্ত রেখেছেন মেয়েকে। লকডাউন পরিস্থিতিতে যাতে দমবন্ধ না হয়ে আসে।

পুঁথিগত শিক্ষার বাইরের বর্ণময়তাকে ধরাতে চান সৃজিত। এটাই তাঁর অন্য স্বাদের পূর্ণতা। "জানেন, এইভাবে আইরার মধ্যে যে একটা পর্যবেক্ষণশক্তি আছে, তার হদিশ পাচ্ছি। আমার কাছে ব্যাকরণশিক্ষা অনেক পরে আসে। আরও একটু ম্যাচিওরিটির পর। একটা বানানে মূর্ধন্য ণ হবে না দন্ত্য ন, সেটা আগে থেকে শিখিয়ে না দিয়ে যদি আগে সে কোনও জিনিস দেখল, লিখল, তার পর ভুল বানান লিখে ঠিক বানানটা শিখল... এটাই আমার কাছে সঠিক পদ্ধতি। আমি নিজেও এভাবে শিখেছি। প্রথমে সাহিত্যটা আসুক, তার পর ব্যাকরণটা আসুক।"

এপর্যন্ত শুনে মনে হতে পারে যে, সৃজিত খুব সহজ পন্থায় ভাষা শেখাচ্ছেন, তাহলে আপনার ধারণা ভুল। ছোট্ট আইরাকে তিনি বেশ শক্ত শক্ত যুক্তাক্ষর লিখতেও দিচ্ছেন যা লিখতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বেচারাকে। কিন্তু সৃজিত মহাশয়ের থিয়োরি, হোঁচট খেলে ভুল করলে তবেই ঠিকটা শিখবে। প্রত্যেকদিনই মায়ের কাছে সে ছুটে যাচ্ছে সমস্যা সমাধান করতে। যেদিন খুব বেশি কঠিন হয়ে যায়, সেদিন ব্যালান্স করার জন্য একটা দুটো 'মজার' বাংলা শব্দ শেখানো হয়। সেগুলো কেমন? কতটা 'মজার'?

কোনদিন শিখল 'ভুঁড়ি', কোনদিন শিখল 'হাঁদা'।  আর সেইসব শব্দ প্রয়োগ করে বাক্য রচনার সময়ে বাবার নামটাও জুড়ে দেয় সে। সৃজিতকে আইরা ডাকে আব্বু বলে। 'আমার আব্বু হাঁদা, আব্বুর একটা ভুঁড়ি আছে। এইরকমই সব বাংলা বাক্য শিখে সৃজিত মাস্টারমশাইয়ের উপর প্রয়োগ করে ছোট্ট আইরা।

Published by: Akash Misra
First published: September 1, 2020, 1:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर