• Home
  • »
  • News
  • »
  • entertainment
  • »
  • ‘‘আর যাই হোক সৃজিতের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াটা হবে না’’: রাজনন্দিনী

‘‘আর যাই হোক সৃজিতের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াটা হবে না’’: রাজনন্দিনী

পাশের বাড়ির মেয়ের মতোই খোলা মনে আড্ডা জুড়লেন টলিউডের নতুন তারকা ৷ রাজনন্দিনী পাল ৷

পাশের বাড়ির মেয়ের মতোই খোলা মনে আড্ডা জুড়লেন টলিউডের নতুন তারকা ৷ রাজনন্দিনী পাল ৷

পাশের বাড়ির মেয়ের মতোই খোলা মনে আড্ডা জুড়লেন টলিউডের নতুন তারকা ৷ রাজনন্দিনী পাল ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: আজই পরীক্ষার ‘রেজাল্ট ’৷ বললেন, জীবনে এরকম পরীক্ষায় নাকি আগে কখনও বসেননি ৷ মনে ভয়, কিন্তু গলার স্বরে তার লেশমাত্র নেই ৷ নিজেই জানালেন স্টার কিড হয়েও তারকা নন তিনি ৷ পাশের বাড়ির মেয়ের মতোই খোলা মনে আড্ডা জুড়লেন টলিউডের নতুন তারকা ৷ ইন্দ্রানী দত্তের মেয়ে রাজনন্দিনী পাল ৷ ফোনের এ প্রান্তে সিমলি রাহা ৷

    প্র: আজ তো রেজাল্ট ? ভয় করছে ? উ: হুমমম ৷ ভয় তো করছেই ৷

    প্র: প্রথম ছবি ‘উড়নচণ্ডী’ কেন ? নাচ, গান নেই, বিদেশের লোকেশন নেই.... উ: কারণ এভাবে ডেবিউ করাটা ভাগ্যের ব্যাপার ৷ সবাই এই সুযোগ পায় না ৷ এটা আমার জন্য খুব স্পেশ্যাল ৷ একদম অন্যভাবে ৷ বিদেশে নেই তো কী হয়েছে ? আমাদের বাংলা তো রয়েছে ৷ আর নাচ, গানটা বড়ো ব্যাপার নয় ৷

    প্র: তবু প্রথম ছবিতেই এরকম একটা ডি-গ্ল্যাম চরিত্র, নায়িকা-নায়িকা ব্যাপারটা তো নেই ৷ উ: দেখো এটা ঠিক যে ‘উড়নচণ্ডী’তে ওরকম নায়িকা সুলভ ব্যাপারটা নেই ৷ ছবিতে সবাই মুখ্য চরিত্র, সবাই নায়িকা ৷ ছবিটা তাঁদের নিয়ে যাঁদের কথা সমাজে খুব কম হয় ৷

    প্র: মায়ের সঙ্গে তুলনা তো হবেই... উ: মায়ের সঙ্গে তুলনা হলে তো ভালই লাগবে ৷ মা যে জায়গাটায় পৌঁছেছেন সেখানে তো আমিও পৌঁছাতে চাই ৷

    প্র: মা কী টিপস দিল ? উ: প্রতিটা শট ধরে ধরে মা টিপস দেননি ৷ কখনও বলেননি, এই জায়গাটায় ওইভাবে কাঁদতে হবে, ওইভাবে হাসতে হবে ৷ কিন্তু মায়ের গাইডেন্স সব সময় পেয়েছি ৷ সেটা সবদিক থেকেই ৷ মা অনেক কিছু নিয়ে বুঝিয়েছেন ৷ সাহায্য করেছেন ৷ তাছাড়া টুম্পা দি (সুদীপ্তা চক্রবর্তী)-র কাছে যখন যাচ্ছি তখন মা খুব নিশ্চিন্ত ছিল ৷ মা তো সব সময় টুম্পাদিকে বলত, ‘‘তোমার কাছে যাচ্ছে যখন আমার আর কোনও চিন্তা নেই ৷’’

    Rajnandini1

    প্র: শ্যুটিংয়ে মা যেতেন ? উ: না ৷ কখনও যেতে দিইনি ৷ মা যেতে চেয়েছিলেন ৷ কিন্তু মায়ের সামনে নার্ভাস হয়ে যাব বলে যেতে বারণ করেছিলাম ৷ বলেছিলাম, তুমি একেবারে ৩ তারিখেই দেখো ৷

    প্র: বাংলার সমস্যাটা কাটিয়ে উঠলে কীভাবে ? উ: সবটাই মায়ের ক্রেডিটে ৷ আমাকে বাংলা বলতে উৎসাহ দিতেন ৷ সময় পেলেই গীতবিতান নিয়ে বসতেন আমার সঙ্গে ৷ সেখান থেকে আবৃতি করতাম আমি ৷ বাংলা খবরের কাগজ পড়াতেন ৷

    প্র: প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ... চাপে পড়েছিলে নাকি ? উ: খুব চাপে ছিলাম ৷ যখন শুনলাম সুদীপ্তা চক্রবর্তী, চিত্রা সেনদের সঙ্গে কাজ করব..নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম ৷ কিন্তু ‘দে ওয়্যার অ্যামেজিং’ ৷ এত সহজ করে দিয়েছিলেন ব্যাপারটা ৷ তাছাড়া শ্যুটিং শুরুর আগে ৬-৭ মাস আমরা নিয়ম করে ওয়ার্কশপ করেছি ৷ সেটাই খুব কাজে এসেছে ৷ আমরা কিন্তু প্রথমেই স্ক্রিপ্ট হাতে পাইনি ৷ শ্যুটিং শুরুর কয়েকটা দিন আগে সেটা পেয়েছিলাম ৷

    প্র: পরিচালক কী বলছেন ? উ: আমাদের ডিরেক্টর ইজ অ্যা ম্যান অব ফিউ ওয়ার্ডস ৷ শট ওকে হলেও অভিষেকদার মুখে কোনও রিঅ্যাকশন থাকত না ৷ আমরা কিছু শোনার আশায় যেতাম ৷ আর টুম্পা দি সেটা ব্যালেন্স করে দিত একটা একশো ওয়াটের স্মাইল দিয়ে ৷

    আরও পড়ুন: এখন আর ‘উড়নচণ্ডী’ নই , অনেক বেশি পরিনত : সুদীপ্তা

    প্র: এক্ষেত্রে কম্পিটিশনটা কি অমর্ত্যর সঙ্গে ছিল ? দু’জনেই নিউকামার... উ: না ৷ আমরা দু’জেনই প্রথমত খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম ৷ আর কম্পিটিশন সবসময় নিজের সঙ্গেই ছিল ৷

    প্র: অভিনয়ে ডেবিউ হল, প্লেব্যাকও করেছ, তাও আবার মায়ের লিপে ৷ ইন্দ্রানী দত্তের মেয়ে নাচ নিয়ে কী কিছু নিয়ে আসবে আমাদের সামনে ? উ: দেখো অভিনয় তো সবে শুরু করলাম ৷ কিন্তু নাচ,গান তো সেই কোন ছোটবেলা থেকে করছি ৷ আই থিঙ্ক নাচ, গান উইল অলওয়েজ বি পার্ট অব মাই লাইফ ৷ নাচ নিয়ে তেমন কোনও সুযোগ এলে তো অবশ্যই করতে পারলে ভালই লাগবে ৷

    Rajnandini4

    প্র: সৃজিতের ছবি আগে মুক্তি পেলে কী বেশি খুশি হতে ? উ: দেখো দু’টো ছবিই আমার খুব কাছের ৷ ওটা আগে মুক্তি পেলেও একইভাবে খুব খুশি হতাম ৷ তবে এখানে আমার স্কোপটা অনেক বেশি ৷ অ্যাক্টর হিসাবে এখানে অনেক বেশি দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি আমি ৷

    প্র: কতটা রাজনন্দিনী আর কতটা তারকা রাজনন্দিনী ? উ: আমি পুরোপুরি রাজনন্দিনী (লাজুক হেসে) ৷ তারকা-টারকা নই ৷

    প্র: আজকের পর থেকে কী এটা পাল্টে যাবে ? উ: যদি আসেও সেটা ইনটেনশনালি আসবে না ৷ হয়তো চারপাশের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে ৷ তবে তারকা হওয়ার মতো কোনও ভাবনা এখন আমার নেই ৷

    প্র: ‘মিনু’ (‘উড়নচণ্ডী’তে রাজনন্দিনীর চরিত্রের নাম) তোমার থেকে কতটা আলাদা ? উ: একদমই আলাদা ৷ আমি, আমার লাইফস্টাইল, আমার ভাবনাচিন্তা, পরিবেশ কিছুই মেলে না ‘মিনু’-র সঙ্গে ৷ আমি পুরোপুরি শহুরে, আর ‘মিনু’ প্রত্যন্ত গ্রামের একটা মেয়ে ৷ আর এই জন্যই ওয়ার্কশপটা কঠিন ছিল ৷ নিজেকে ভেঙে অন্য করাও মতো ভাবা, তাঁর মতো আচরণ করা, তাঁর মতো করে জীবনটাকে দেখা... ব্যাপারটা কঠিন, কিন্তু বেশ মজারও ৷ গ্রাম্য বাংলা আর ভোজপুরী মেশানো একটা মিশ্র ভাষায় কথা বলে ‘মিনু’ ৷ সেই ভাষাটাও শিখতে হয়েছে আমাকে ৷ এর আগে আমি কোনওদিন গ্রাম দেখিইনি ৷ তাই চাপ তো ছিলই ৷

    প্র: কতটা বকা খেয়েছ ? উ: বকা আমরা কেউ খাইনি ৷ সবাই কাজের সময় কাজ, মজার সময় মজা, এভাবেই সবটা হয়েছে ৷

    প্র: এখন তো অনেক বড় বড় অভিনেতাদেরও মাঝেমধ্যেই ধারাবাহিকের পর্দায় দেখছি ৷ টেলিভিশনে দেখা যাবে তোমাকে ? উ: এখনও এটা নিয়ে ভাবিনি ৷ খুব ভাল কনটেন্ট পেলে হয়তো আসবো ৷ তবে এখন আমার পুরো ফোকাশ ফিল্মেই ৷

    প্র: আর বলিউড ? উ: ভাল ফিল্ম করতে চাই ৷ ভাল চরিত্র পেলে বলিউড, সাউথ ইন্ডিয়া যেখানে খুশি যেতে পারি ৷

    প্র: ‘মিনু’-র মতো রিয়েল লাইফে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যেতে কেমন লাগবে ? উ: খারাপ হবে না ৷ ভালই তো বেশ ৷ অ্যাডভেঞ্চার হত ৷

    প্র: মা তো খুব বকত ৷ উ: হ্যাঁ, বাট.. আমি তো তখন পালিয়ে যাব, সো....

    প্র: এমন কী কেউ আছে যাঁর সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া যায় ? উ: না গো, এখনও তেমন কেউ আপাতত নেই...

    প্র: আর সৃজিত ? অনেক কথা তো শুনছি... উ: (আঁতকে উঠে) না না, ওঁনার সঙ্গে আর যাই হোক পালানোটা হবে না ৷

    প্র: প্রথম ছবি... আর প্রথম থেকেই সম্পর্কের গুঞ্জন ৷ কীভাবে হ্যান্ডেল করছ ? উ: আজ একজনকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, কাল অন্য কাউকে নিয়ে হবে ৷ আর আলোচনা হওয়া মানে তো আমি চর্চায় রয়েছি (হাসি) ৷

    রাজনন্দিনীকে তাঁর প্রথম ছবির জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা নিউজ১৮ বাংলা ডিজিটালের পক্ষ থেকে ৷

    URANCHANDI_1

    ছবি: রাজনন্দিনীর ফেসবুক পেজের সৌজন্যে ৷

    ভিডিও : ইউটিউবের সৌজন্যে ৷

    First published: