Home /News /entertainment /
Souvik Chakraborty Interview: "টেলিভিশন মানেই যদি অশিক্ষা হয়, তাহলে আগে বাবা-মাকে শিক্ষিত করুন, ঘর সামলান! তারপরে না হয় ফেসবুকে জ্ঞানবর্ষণ বা বিষোদগার করবেন..."

Souvik Chakraborty Interview: "টেলিভিশন মানেই যদি অশিক্ষা হয়, তাহলে আগে বাবা-মাকে শিক্ষিত করুন, ঘর সামলান! তারপরে না হয় ফেসবুকে জ্ঞানবর্ষণ বা বিষোদগার করবেন..."

Souvik Chakraborty

Souvik Chakraborty

Souvik Chakraborty Interview: দিনের শেষে মায়ের মুখের হাসিটুকুই দেখতে চাই। মা অনেক লড়াই করেছেন তো। তাই মা খুশি হলে মনে হয়, "চলো, কিছু তো করতে পেরেছি।"

  • Share this:

কোনও এক মফস্বল থেকে যাত্রা শুরু। অষ্টাদশ পার হওয়ার পরেও টেলিভিশনের সঙ্গে যার কোনও সম্পর্ক ছিল না, আজ সন্ধে হলে শাঁখের আওয়াজের সঙ্গে মিশে যায় তাঁরই ধারাবাহিকের শীর্ষমন্তাজ। রাতে খাবার টেবিলে আলোচনার বিষয় হয়, তাঁরই সিরিয়ালের আজকের পর্ব। সারদাপল্লী থেকে আসা মানুষটা আজ একজন সফল লেখক। কখনও সানডে সাসপেন্সে তাঁর গল্প শোনা যায়, কখনও প্রকাশকের কাছে বাড়তে থাকে তাঁর বইয়ের চাহিদা। নিউজ ১৮ বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সৌভিক চক্রবর্তী। শুনলেন রচনা মজুমদার...

টেলিভিশনে তো পাঁচ বছর হল, তার আগে?

সৌভিক:  আচ্ছা। তার আগেরটা বেশ লম্বা গল্প। নাটকের রিভিউ দিয়ে প্রথম কাজ শুরু করেছিলাম। তারপর একটি বিজ্ঞাপন সংস্থায় বিজ্ঞাপন লেখার কাজ।  মনে হল নেট-সেট দেব। দিলাম। পেয়েও গেলাম। প্রেসিডেন্সিতে অধ্য়াপনা শুরু করলাম। হয়তো সেটাই করতামও। বরাবরই ইচ্ছে ছিল কলেজে পড়াব। কিন্তু তারপর নানা কারণে সেটা হল না। প্রেসিডেন্সি রাতারাতি কর্পোরেট হতে থাকল। আমি কোনওভাবে মানিয়ে নিতে পারলাম না। সাংবাদিকতা শুরু করলাম। দু' বছর একটি সংবাদমাধ্য়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এই হল ২০১৭-র ৯ ফেব্রুয়ারির আগের গল্প।  আমার এক বন্ধু দ্বৈপায়ন মজুমদার সুরিন্দর ফিল্মসে কাজ করতেন। তিনিই প্রথম প্রস্তাবটা আনেন। অ্য়ানিমেশনের জন্য় গল্প দিলাম। ব্য়াস, আমার অডিও-ভিস্য়ুয়ালের যাত্রা শুরু।

 লেখার আগ্রহ কি প্রথম থেকেই?

সৌভিক: হ্য়াঁ। আমি লিখতে বরাবরই ভালবাসি। নিয়মিত লেখা বের হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। গল্প লিখতে চেয়েছিলাম। তখনও লিখতাম, এখনও লিখি।

কিন্তু টেলিভিশনের জন্য় কাজ করবে কখনও কি ভেবেছিলে?

সৌভিক: না। কোনওদিনই ভাবিনি। ছোট থেকে ইচ্ছাও ছিল না। আমাদের বাড়িতে যতদিনে টিভি এসেছে ততদিনে আমার বইপড়ার নেশা তৈরি হয়ে গিয়েছে। টিভি দেখতে যখন শুরু করব, ততদিনে আমি হিন্দু হস্টেলে। সেখানে আবার প্রথম বর্ষের টিভি দেখার নিয়ম ছিল না। টিভি কোনওদিন আকর্ষণ করেইনি। এখনও আমি সিনেমা দেখার থেকে বই পড়াই পছন্দ করি।

স্ক্রিপ্ট লিখতে কেমন লাগছে?

সৌভিক: ভাল লাগছে। টেলিভিশন আমার জীবিকা। এটা একটা ব্য়বসায়িক মাধ্য়ম। এখানে টিআরপিই শেষ কথা বলে। রবীন্দ্রনাথ এসে লিখলেও যদি টিআরপি দিতে না পারেন, ওঁকে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। টেলিভিশন চলেই জনরুচির উপরে।  টিআরপি এলে পেট চলবে। মানুষ কী চাইছেন সেটা ভেবেই লেখা শুরু করি। কারণ তা না হলে গ্রহণযোগ্য়তা তৈরি হবে না।

কী চাইছেন মানুষ ?

সৌভিক: দেখো, আমার পাঁচ বছরের ক্য়ারিয়ারে যেটুকু বুঝেছি মানুষ পরিবার কেন্দ্রিক গল্প দেখতে চান।

আরও পড়ুন: অভিনেত্রীদের গানে প্রাণ দিতেন লতা মঙ্গেশকর, সুরসম্রাজ্ঞীর পছন্দের নায়িকা কে ছিলেন? জানালেন শত্রুঘ্ন সিনহা

আচ্ছা টেলিভিশনকে একেবারেই যদি ব্য়বসা হিসাবে দেখ, তাহলে এত আগ্রহ  কোথায় পাও?

সৌভিক: দেখো কোথাও গিয়ে এটা তো একটা শিল্পমাধ্য়ম। তাই সেদিক থেকে ব্য়ক্তিগত দায়বদ্ধতাও থেকে যায়। তাই কখনও কখনও মনে হয় দর্শকের ভাল না লাগলেও আমি এটা বলব। লোকে দেখুক বা না দেখুক। অনেক কিছু বলার চেষ্টা করি। আমার গল্পের চরিত্ররা এমন অনেক প্রশ্ন করে, যা বাকি চরিত্রেরা করে না। যেমন 'এই পথ যদি না শেষ হয়' তে ঊর্মি প্রশ্ন তোলে, "বউদের কি আগে খিদে পেতে নেই?" এটা হয়তো আর পাঁচটা নায়িকা হলে মুখ বুজে শুনত। 'এই পথ যদি না শেষ হয়' সম্পূর্ণ উল্টো রাস্তায় হেঁটে ভ্য়ালেন্টাইনস ডে সেলিব্রেট করবে। তো এইটুকু জায়গা আছে  বলেই হয়তো লিখে যাচ্ছি...

তোমার ফেসবুক প্রোফাইলে মাঝেমধ্য়েই কিছু সংলাপ দেখি। যেগুলো বোধ হয় তোমার লেখা ধারাবাহিকগুলোরই...

সৌভিক: হ্য়াঁ। একদম। এগুলো একেবারেই ব্য়ক্তিগত ভাললাগা। এর মধ্য়ে কোনও বিক্রি করার ভাবনা নেই। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কথা বলতে গেলে, যা ভীষণরকম ব্য়ক্তিগত, তা আসলেই ভীষণরকম সর্বজনীন। এটা আমিও বিশ্বাস করি। আমার বিশ্বাসগুলো আমি আমার দর্শককে ছড়িয়ে দিতে চাই।

টেলিভিশনে শুরু কী দিয়ে?

সৌভিক: কালার্সে 'রূপকথা' নামের একটি শো লিখতাম। সেখান থেকেই শুরু। তারপর 'সাত ভাই চম্পা', 'ত্রিনয়নী', 'রাণু পেল লটারি'। টেলিভিশনে আমার উত্থান শুরু হয়েছিল সাহানা দত্তের হাত ধরে। সাহানাদিই আমাকে লিখতে বলতেন। তারপর এসভিএফ। সাহানাদি না থাকলে আমি আজ কোথাও থাকতাম না।টেলিভিশনের ব্য়াকরণ যদি থাকে, সেটা উনিই শিখিয়েছেন। জি-এর শিল্পীদি, নবনীতাদি নতুন লেখার সুযোগ দিয়েছেন। আমি জীবনের কাছে এতেই কৃতজ্ঞ।

আরও পড়ুন: আরিয়ানের সঙ্গে জাহ্নবীর জুটি 'বাঁধলেন' খোদ জুহি চাওলা, বললেন, হুবহু শাহরুখ-জুহি!

তারপর ওটিটি?

সৌভিক: হ্য়াঁ। মিসম্য়াচ দিয়ে শুরু। সাহানা দিকে প্রথম শুনিয়েছিলাম। তারপর চলল। দুপুর ঠাকুরপো, কামিনী এরকম অনেক  প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।

এক ধারাবাহিকের দু'শো পার, আরেকটা আসছে?

সৌভিক:নতুন ধারাবাহিক আসছে। 'গৌরী এল'-র প্রোমোও বেরিয়ে গিয়েছে।দর্শক তো ভালই বলছেন। অনেকে সমালোচনা করছেন।

তাছাড়া নতুন কাজ কী আসছে?

সৌভিক: জি ফাইভে একটা ওয়েব আসছে। আমারই লেখা। শ্য়ুটিঁং চলছে।

নিজের লেখালেখি?

সেটাও চলছে। 'নীরেন ভাদুড়ি'কে মানুষ পছন্দ করেছেন। 'নিকষছায়া'ও তাই। রেডিও মির্চি একটা গল্প নিয়ে সানডে সাসপেন্স করেছে। আরেকটাও আসছে। এই আর কী! 'নিকষছায়া'র আরেকটা পর্বের ভাবনা আছে।

এত বছরে প্রাপ্তির ঝুলিতে কি শুধুই ভাল?

সৌভিক: আমি অনেককে দেখি সারাদিন টেলিভিশনের প্রতি বিষোদগার করছে। অথচ তাঁদের বাড়িতে তাঁদের মায়েরাই টেলিভিশন দেখছেন। তাই তাঁদের বলব আগে ঘরটা সামলান। টেলিভিশন মানেই যদি অশিক্ষা হয়, তাহলে আগে বাবা মাকে শিক্ষিত করুন, তারপরে না হয় ফেসবুকে জ্ঞানবর্ষণ করবেন। টেলিভিশনকে ট্রোল করে আসলে জাতে  ওঠা যায়। মানুষ টেলিভিশনের জনপ্রিয়তাকে হিংসা করেন। টেলিভিশনের আর্থিক সুরক্ষা ব্য়বস্থাকে হিংসা করেন। এসব আমাকে প্রভাবিত করে না। আমার  কারও প্রতি কোনও ক্ষোভ বা অসূয়া নেই। আমি সবসময় বলি, আমি প্রাপ্য়ের বেশি পেয়েছি।

আর পরিবার?

সৌভিক: মা বাবা আজ খুশি। আমার স্ত্রী খুশি। ও প্রথম থেকেই পাশে ছিল। আমার বন্ধুরা, আমার কাছের মানুষেরা খুব খুশি- ব্য়াস। আর কী চাওয়ার আছে! মায়ের ইচ্ছে ছিল ছেলে কলেজে পড়াক। সেই জায়গাটা পূরণ করতে পারিনি। আমি সেই দিক থেকে অক্ষম সন্তান। তবে এখন মা খুশি বলেই মনে হয়। দিনের শেষে মায়ের মুখের হাসিটুকুই দেখতে চাই। মা অনেক লড়াই করেছেন তো। তাই মা খুশি হলে মনে হয়, "চলো, কিছু তো করতে পেরেছি।"

সাক্ষাৎকার: রচনা মজুমদার

Published by:Rachana Majumder
First published:

Tags: Bengali Serial, Tollywood

পরবর্তী খবর