corona virus btn
corona virus btn
Loading

এ দেশে সঙ্গীত স্রষ্টার চেয়ে সঙ্গীত বিক্রেতার সম্মান বেশি : শান্তনু মৈত্র

এ দেশে সঙ্গীত স্রষ্টার চেয়ে সঙ্গীত বিক্রেতার সম্মান বেশি : শান্তনু মৈত্র

কালজয়ী গানের স্রষ্টারা না-খেতে পেয়েও মারা যান। সঙ্গীতের 'মার্কেট' যাঁরা দখল করে আছেন, তাঁরা বহাল তবিয়তেই আছেন।

  • Share this:

#কলকাতা: কালজয়ী গানের স্রষ্টারা না-খেতে পেয়েও মারা যান। সঙ্গীতের 'মার্কেট' যাঁরা দখল করে আছেন, তাঁরা বহাল তবিয়তেই আছেন। মুম্বই থেকে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় শান্তনু মৈত্র মন খুলে বললেন শর্মিলা মাইতিকে

-----------------------------------------------------

পরিণীতা ছবির গানে সুর দিয়ে আত্মপ্রকাশ। সে পনের বছর আগের কথা। এক তরুণ তাজা প্রাণ ছটফট করছে সুরের আগুন ছড়িয়ে দেবে বলে। তখন না ছিল সোশাল মিডিয়া। না ছিল অ্যাপ। শুধু শুভা মুদগলের সঙ্গে অব কে সাওন অ্যালবাম মুখে মুখে ফিরছে। বৃষ্টিভেজা রহস্যের ছোঁয়া লেগেছে তামাম স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের। এক ডাকে বিখ্যাত হয়েছেন শান্তনু মৈত্র। আর তার পর, পরিণীতা। জানাল, প্লেব্যাক মিউজিকে নতুন বাতাস আসছে।

মুম্বইয়ে নিজের স্টাডি রুমে বসে ইন্টারভিউতে ধরা দিলেন তিনি। পরিণীতা ছবি রিলিজের পনের বছর পার। 2005 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির গান আজও মন প্রাণ ভরায়। " জানেন,  সেই সময়ে কিচ্ছু ছিল না আমাদের। উচ্চাশাও ছিল না। চাহিদাও নয়। শুধু ছিল সুর প্রকাশের ইচ্ছা। প্রদীপ (সরকার) আর আমরা শুধু একটা ভাল কিছু বানাব বলে তৈরি হচ্ছিলাম। দেখছিলাম বিদ্যা বালান কীভাবে পরিণীতা হয়ে উঠছে। কিন্তু পরিণীতা মুক্তির পর আত্মবিশ্বাস দশগুণ বেড়ে গেল। বিশেষ করে আইফা অ্যাওয়ার্ড সেরিমনির পর মনে হল আমরা সব কিছু একটা 'বনে' গেছি। বিদ্যা সেলিব্রিটি হয়ে গেল। " স্মৃতির নেশায় বুঁদ হয়ে গেলেন শান্তনু।

আজ সময় বদলেছে। হাতে হাতে গান। হাতের মুঠোয় অ্যালবাম। এসেছে আকণ্ঠ প্রচারের যুগ। কিন্তু শান্তনু মানুষটা বরাবর অন্যরকম। যেকোনও বক্তব্যে তিনি রাখেন একটি অন্যরকম দৃষ্টিকোণ। "পরিণীতা বহুল প্রচারিত ছবি ছিল না। তবু আজও মনে রেখেছে মানুষ, কারণ মনে থেকে গিয়েছে বলে। গেঁথে আছে বলে।

ইন ফ্যাক্ট, 1990 সালের আগে অবধি প্রচার বলে সেভাবে কিচ্ছু ছিল না। গান হোক বা সিনেমা, সবাই নিজস্ব গুণেই দর্শকের মনে জীবন্ত হয়ে থাকত। একটা সময় এসেছে, যখন উত্তুঙ্গ প্রচার করে মানুষকে কবজা করে ফেলা যায়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আসল বিচার হয় তখনই যখন প্রচারের বাজনা থেমে যায়, তখন গানগুলো জীবন্ত আছে কি নেই। কোটি কোটি টাকার প্রচারও একটা গানকে প্রাণ দিতে পারে না, বাঁচাতে পারে না যুগের পর যুগ। সবকিছু শান্ত হয়ে গেলে, যা কিছু বেঁচে থাকে, তাই-ই ভাল কাজ। চিরন্তন, কালজয়ী গান। " বললেন শান্তনু।

কিন্তু কালজয়ী গান যাঁরা তৈরি করেন, তাঁরা কি আদৌ মর্যাদা পান? অন্তত যা পাওয়ার কথা? কেন যোগেশের মতো শিল্পীকে প্রায় নিভৃতে চলে যেতে হয়? জীবদ্দশায় কেন তাঁকে বসে থাকতে হয় রেলওয়ে স্টেশনে, উদ্দেশ্যহীনভাবে? মুখ দেখে মনে হল খুবই ব্যথা পেয়েছেন শান্তনু। " যোগেশ সাব যেদিন স্টেশনে বসেছিলেন, সেদিন তাঁর এক ভক্তই তাঁকে উদ্ধার করেছিল। নিয়ে এসেছিল নিজের কাছে  রেখেছিল বলেই তিনি রক্ষা পান। জানেন, আমাদের দেশে রয়্যালটির সিস্টেমটা এখন যতটা জোরালো, আগে সেটা ছিল না।  রয়্যালটি স্রষ্টারও পাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি হয়ত জানেনই না যে তাঁর অধিকার আছে। তাঁর বদলে অন্য কেউ সেই টাকার ভাগীদার হচ্ছে কি না। এখন তাও কপিরাইট ক্লেম করা যায়, আগের যুগে মানুষ সৃষ্টির নেশায় এমন বুঁদ হয়ে ছিলেন যে এসব পার্থিব ভাবনা ভাবেননি। এমনকি আমাকেও সারা জীবন চেষ্টা করে যেতে হবে যাতে আমিও সেই জায়গায় না পৌঁছে যাই। আমাকেও যাতে না রেলওয়ে স্টেশনে খুঁজে পায় কেউ। " থামলেন শান্তনু।

কথার পরতে পরতে ছুঁয়ে গেল ব্যথা। যা একান্ত শান্তনু মৈত্রর সুরারোপিত গানে লুকিয়ে থাকে। রতন কাহারের ঘটনাকে কী বলবেন? তাঁর গান যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন অনেকেই। কিন্তু প্রথম রেকর্ড কোম্পানিই তাঁকে ক্রেডিট দেয়নি। টাকা তো দূর অস্ত। " খুবই দুঃখজনক। এত কাল লড়েছেন ভদ্রলোক। ক্রেডিটটা তো অন্তত দিক।মিউজিক দুনিয়ায় এ বড় কঠিন লড়াই। কাজের সততার প্রতি সম্মান দেওয়ার লোক বড় কম। তবু আজও মনে থেকে যায় ভাল সুর। যুগ যুগান্ত ধরে। মনে আছে, যেদিন অব কে সাওন সুর করেছিলাম, কোনও আশাই ছিল না। ওয়র্ল্ড দিস উইক শো তে প্রণয় রায় একবারই বলেছিলেন গানটির কথা। মাত্র এক উল্লেখেই তুমূল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আজ তো সবাই জেনেছে রতন কাহারের সৃষ্টির কথা। স্রষ্টাকে খুঁজে পাওয়া তো গেল। এবার মনে থেকে যাবে সকলের। ক্রেডিটটা থাক বা না থাক। ওই যে বললাম, প্রচার তুলে ধরতে পারে মাত্র কয়েকদিন। গানের জীবদ্দশা শতবর্ষ পেরিয়ে যেতেও পারে, নিজস্বতায়। স্বাতন্ত্র্যে। " বললেন শান্তনু।

Published by: Akash Misra
First published: September 9, 2020, 8:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर