আমরা পেশাদার, বন্ধুত্ব, ঝগড়া থাকে না, থাকে শুধু কাজ, অকপট তনুশ্রী-রুদ্রনীল

আমরা পেশাদার, বন্ধুত্ব, ঝগড়া থাকে না, থাকে শুধু কাজ, অকপট তনুশ্রী-রুদ্রনীল

বাংলায় প্রথম এরকম ছবি, কিন্তু তাকে ছাপিয়েও রয়েছে বর্তমান সময়ের প্রতিচ্ছবি...

  • Share this:

DEBAPRIYADUTTA MAJUMDER

#কলকাতা: সদ্য মুক্তি পেয়েছে অভিরূপ ঘোষের জম্বিস্থান। বাংলায় এটাই প্রথম জম্বি ছবি। একই সঙ্গে নামটা যে আসলে প্রতিকী, তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। এসব কিছু, বন্ধুত্ব, দূরত্ব , আবার একসঙ্গে কাজ করা সব নিয়ে নিউজ ১৮ বাংলার সঙ্গে আলাপচারিতায় রুদ্রনীল ঘোষ ও তনুশ্রী চক্রবর্তী। সঙ্গতে পরিচালক অভিরূপ ঘোষ।

বাংলায় প্রথম এরকম ছবি, কিন্তু তাকে ছাপিয়েও রয়েছে বর্তমান সময়ের প্রতিচ্ছবি...

রুদ্রনীল - এটা একটা বাঁচার লড়াইয়ের গল্প। বাঙালি দর্শক পিশাচ বা মানুষখেকোর সঙ্গে যতটা পরিচিত, জম্বি শব্দের সঙ্গে ততটা পরিচিত নন। এটা একটা রোগ বা মানসিক অবস্থান যেখানে মানুষ মানুষকে খেতে যাচ্ছে। এখন চারিদিকে যেভাবে রাগ, হিংসা, হানাহানি হচ্ছে , গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে তাতে বোধ হয় জম্বি হওয়ার দিকেই মানুষ এগোচ্ছে। মানুষ মানুষকে খাচ্ছে এরকম পরিস্থিতি হয়ত দেখব আমরা ভবিষ্যতে ।

তনুশ্রী - এই ধরনের বিষয় নিয়ে ছবি করার কথা, বহুলোক ভেবেছে, কিন্তু সাহস ছিল না, বাজেট ও নানা কারণে। থ্যাঙ্কস টু অভিরূপ এবার সেই সাহস অনেকেই দেখাবে। জম্বি ফিল্ম শুধু নয়, এটা তো সারভাইভালের ও গল্প।

অভিরূপ - আজকালকার সমাজে আমরা সবাই আসলে জম্বি হয়ে গিয়েছি, অন্ধের মত টাকা, কেরিয়ার, ধর্মের প্রতি বিশ্বাস কিছু না কিছুর পেছনে ছুটছি। কোনও যুক্তি বোধ কাজ করে না। জম্বিস্থান আসলে পৃথিবীতে, দেশে যা চলছে তা চলতে থাকলে কি হবে তারই ভবিষ্যত চেহারা।

এই সময়ে দাঁড়িয়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই ছবি ?

রুদ্রনীল - যোগ্যতা বা প্রয়োজনের থেকে বেশি পেতে চাওয়া বা নিজের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার লোভে আমরা মানুষ মেরে ফেলছি, পুড়িয়ে ফেলছি, অন্যদের মিথ্যেবাদী প্রমাণ করছি এই সব কিছুই শুধু রাজ্যে বা দেশে নয় পৃথিবীজুড়ে চলছে। এই খাই খাই মনোভাব বোধ হয় মানুষকে নরখাদক এর দিকে টার্ন করছে। সেটাই সহজ ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছে অভিরুপ।

তনুশ্রী - সিনেমার মাধ্যমে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সহজ ও উপভোগ্য ভাবে সামনে আনতে পারি। পরিবেশ দূষণ এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সারা পৃথিবীতে, সেটা সিনেমার মধ্যে দিয়ে জম্বিস্থান দেখায় ৷

অভিরূপ - আমরা বলছি এটা হরর ফিল্ম। ১০ বছর বাদে ঘটছে একটা কাল্পনিক ঘটনা, আসলে এ সব কিছু এই সময়েই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ঘটছে । তিন - চার বছর আগে আমাদের দেশের এক রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এক বন্ধুর সঙ্গে মতানৈক্য হয়। সেখানেই দেখতে পাই একটা সময়ের পর সেই বন্ধু কোনও যুক্তি মানছে না। বুঝতে পারি আমরা যে কোনো কিছুকেই অন্ধের মতো বিশ্বাস করছি। জম্বিদের মতো অবস্থান হয়ে দাঁড়াচ্ছে আমাদের। এখান থেকেই মূলত ছবির অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

রুদ্র- তনুশ্রী জুটি আবার বাঁধা মানেই নতুন করে আলোচনা়, ডিল কর কীভাবে ?

তনুশ্রী - মিডিয়া অকারণ হাইপ করে যার সঙ্গে ছবির কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা সবাই পেশাদার, তাই কাজটা করেছি।

রুদ্রদা স্মৃতি রোমন্থন, ভালো লাগা - খারাপ লাগা কাজ করে ?

রুদ্রনীল - যদি কারোর সঙ্গে আমার শত্রুতাও থাকে অথচ সে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করে তাহলে আমার জীবিকার সাধারণ দাবি মেনে আমাকে সেই চরিত্র হয়ে উঠতে হয় । তনুশ্রীর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব অনেক পুরনো। এই ছবিতে তনুশ্রীর অভিনেতা হিসেবে যা ডেডিকেশন দেখেছি অনেকের ক্ষেত্রে তার স্কোপ থাকে না বা স্কোপ থাকলেও সেটাকে সম্মান দিতে পারে না। সেটা আমার খুব ভালো লেগেছে।

এছাড়া পার্সোনাল বন্ধুত্ব র মাঝখানে যখন বিরক্তিকর কোনো প্রসঙ্গ নেই তখন কাজ না করার কি আছে । আমাদের ছোট্ট একটা পৃথিবী, যেখানে আমাদের প্রত্যেকেরই সঙ্গে দেখা হয়, আমাদের প্রত্যেকেরই কাজের ধরন আলাদা, তাই যখন পেশাদারি ক্ষেত্রে এসে কাজ করছি তখন আর ভালোলাগা, খারাপলাগা থাকে না এবং রাখা উচিতও নয়। আমরা সবাই একটা টিম হিসেবে কাজ করেছি। ভালো চরিত্রে অভিনয় করার খিদে বেঁচে আছে বলেই একসঙ্গে উপভোগ্য কাজ হয়েছে । দর্শকের হয়ত কিছু প্রশ্ন মনের মধ্যে থাকে, কিন্তু মনে রাখবেন সেটাই যেটা তারা হলে এসে টিকিট কেটে দেখতে পাচ্ছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, ঝগড়া সবার জীবনে থাকে, বেঁচে থাকে শুধু কাজ।

তনুশ্রী - রুদ্রর সঙ্গে তো ফ্ল্যাট নং ৬০৯ এও কাজ করেছি, আবির, মমদি, সৌমিত্র জ্যেঠুও ছিল। বারবার বলেছি , বলছিও আলোচনা হওয়ার মতো কোনও বিষয় নেই। অনেক কাজ করেছি একসঙ্গে, আগামী দিনেও করবো। কাজ নিয়ে আলোচনা হোক। সেটাই থেকে যায়। বাকি কিচ্ছু থাকে না। আমি খুব প্রাইভেট পারসন। ব্যক্তিগত জীবনে কি ঘটছে সেটা আমি কাউকে জানাই না, জানাতে চাইও না।

তনুশ্রী অভিনেতা রুদ্রনীলের জার্নিটা কীভাবে দেখো ?

তনুশ্রী- একটা সময় রুদ্রনীল, রজতাভ দা, খরাজদা, কাঞ্চন দা এদের কাজ দেখে আমি কাজ করতে চেয়েছি, অভিনয় বেছে নিয়েছি। সত্যি কথা বলতে এদের কাজ দেখে আমি শিখেছি । স্বাভাবিক ভাবেই শিখে আমি নিজে পরিণত হয়েছি। এদের সঙ্গে কাজ করা একটা অভিনেতার ক্ষেত্রে আঁতুড়ঘর এর মত।

শেষ প্রশ্ন, নতুন বছরে বিয়ের ফুল কী ফুটবে ?

তনুশ্রী - একেবারেই না

রুদ্রনীল - আমি নিজেই হিড়িক তুলি প্রতিবছর এছাড়া যে সব বন্ধুদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তারা হিংসা করে প্ল্যান করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়ের নাম তুলে নিয়ে আসে, আমি তাতে মুচকি মুচকি হাসি। মিডিয়ার বন্ধুরাও প্রতি বছর নতুন নতুন নায়িকার নাম আমদানি করে সেই জন্য আমি গর্বিত, প্রতিবছর এভাবেই নতুন নতুন মানবীর সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হতে থাকুক।

First published: December 17, 2019, 11:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर