Smita Patil: স্মিতা পাতিলের বাবা ও মায়ের কী হয়েছিল? জানা গেল প্রতীকের কাছে

Smita Patil: স্মিতা পাতিলের বাবা ও মায়ের কী হয়েছিল? জানা গেল প্রতীকের কাছে

Smita Patil and Prateik Babbar

মাত্র ৩২ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেত্রী। ছেলে প্রতীক তখন একেবারে দুধের শিশু। স্মিতা পাতিল ও রাজ বব্বরের ভালবাসার সন্তান ছিল প্রতীক। আশ্চর্যজনকভাবে, রাজ বব্বরের তারপর থেকেই ছেলেকে সঙ্গে নিতে এবং দেখভাল করতে অস্বীকার করেন। এমনটাই বিশ্বস্ত মহলের খবর।

  • Share this:

    শর্মিলা মাইতি

    #মুম্বই: অভিনেত্রী স্মিতা পাতিলের হঠাৎ মৃত্যু নিয়ে বহু বহু মানুষ এখনও সন্দেহ প্রকাশ করেন। মাত্র তিন দিনের জ্বরে তাকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়। মাত্র ৩২ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেত্রী। ছেলে প্রতীক তখন একেবারে দুধের শিশু। স্মিতা পাতিল ও রাজ বব্বরের ভালবাসার সন্তান ছিল প্রতীক। আশ্চর্যজনকভাবে, রাজ বব্বরের তারপর থেকেই ছেলেকে সঙ্গে নিতে এবং দেখভাল করতে অস্বীকার করেন। এমনটাই বিশ্বস্ত মহলের খবর। সেই সময় টা এতটাই কঠিন ছিল যে তৎকালীন পত্রপত্রিকার সাংবাদিকরাও এটা বিশ্বাস করতে পারেননি। অনেকেই হয়তো এতদুর পর্যন্ত জানেন। অন্তত স্মিতা পাতিলের বিশ্বস্ত অনুরাগীরা খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন সেই সময়। সারা জীবন যাকে এই বেদনা বয়ে চলতে হয়েছে তার নাম প্রতীক। পিতৃ প্রদত্ত পদবী ছাড়া আর কিছুই তিনি পান নি জীবনে। এমনকি বড় হওয়ার পরে তিনি নিজের নাম থেকেও মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন' এই পদবী। অনুতপ্ত রাজ বাব্বার সেটা হতে দেননি। জানা যায় ক্ষমা চেয়ে ছিলেন ছেলের কাছে।

    কিন্তু এতদিন পর্যন্ত অর্থাৎ শিশু শৈশব অবস্থা থেকে যৌবন পর্যন্ত যাদের কাছে যাদের ছত্রছায়ায় প্রতীক বেড়ে উঠেছিলেন তারা হলেন স্মিতা পাতিলের বাবা ও মা। স্মিতা পাতিলের বাবা শিবাজী রাও গির ধান পাতিল ছিলেন এক স্বাধীনতা সংগ্রামী। পরবর্তীতে তিনি মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক উজ্জ্বল মুখ। কিন্তু সারা জীবনই অত্যন্ত সৎ পথে জীবন নির্বাহ করেছেন। তিনি দাদাসাহেব শিবাজী রাও পাতিল হিসাবেও পরিচিত। সারা জীবনে বহু সমাজকল্যাণমূলক কাজ করেছেন তিনি। রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন তিনি। স্মিতা পাতিল এর মা বিদ্যা তাই পাতিল। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকেই তিনি শিবাজী রাওর সঙ্গে বিপুল কর্মকাণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে ছিলেন। পরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। ১৯৩৮ সালে।

    অতিসম্প্রতি প্রতি তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে শেয়ার করেছেন তাঁর দাদু ও দিদার ছবি। ৭৭ বছর একসঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন। একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন এমনকি শয্যাশায়ী অবস্থাতেও একে অপরকে খাবার ও ওষুধ খাইয়েছেন। সারা জীবনই অত্যন্ত অনাড়ম্বর যাপন করেছেন তাঁরা। প্রতি যে ছবিটি শেয়ার করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে শিবাজী রাও তার স্ত্রীকে পরম যত্নে খাইয়ে দিচ্ছেন। তার স্ত্রী হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে।

    ২০১৭ সালে প্রয়াত হন শিবাজী রাও পাতিল। প্রতীক বলেছেন, "বহু দিন পর্যন্ত আমি দাদু দিদাকে এই অবস্থায় দেখেছি। এঁদের কাছ থেকেই জীবনের মন্ত্র শিখেছি। কোনদিনও ভুলতে পারবো না যে, এঁরাই আমার জন্মদাতা ও জন্মদাত্রীর জায়গা জুড়ে আছেন। যে অপূরণীয় শূন্যস্থান তাঁরা প্রতিদিন পূর্ণ করে চলে ছিলেন, তার কোনও তুলনা হয় না।"

    প্রায়শই প্রতীক স্মিতা পাতিলের ছবি পোস্ট করেন। মাকে যে তিনি কোন উচ্চাসনে রেখেছেন তা তাঁর আবেগে সুস্পষ্ট। এখনও তিনি ভুলতে পারেন না যে, তাঁকে জন্ম দিতে গিয়েই অত্যন্ত জটিল অসুখে স্মিতা পাতিল ইহলোক ত্যাগ করেন।

    শর্মিলা মাইতি

    Published by:Piya Banerjee
    First published:

    লেটেস্ট খবর