বিনোদন

corona virus btn
corona virus btn
Loading

অভিনয়ে আসার আগে জুতো বেচতেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, বললেন একান্ত সাক্ষাৎকারে

অভিনয়ে আসার আগে জুতো বেচতেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, বললেন একান্ত সাক্ষাৎকারে

সাফল্য বলে কোনও শব্দকে কোনওদিন প্রিয় বলে ভাবেননি এই চূড়ান্ত সফল অভিনেতা।

  • Share this:

শর্মিলা মাইতি

#মুম্বই: সাফল্য বলে কোনও শব্দকে কোনওদিন প্রিয় বলে ভাবেননি এই চূড়ান্ত সফল অভিনেতা।

মির্জাপুর সিজন টু রমরমিয়ে চলছে অ্যামাজন প্রাইমে। প্রথম দিনই এত বেশি সংখ্যায় দর্শক লগ ইন করেন যে, ক্র্যাশ করে অ্যাপ। চূড়ান্ত জনপ্রিয় এই শোয়ের দ্বিতীয় পর্বের কেন্দ্রবিন্দুতে কালিম ভাই। পঙ্কজ ত্রিপাঠী। এই মুহূর্তে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ট্রাম্প কার্ড।

কেমন লাগছে কোটি কোটি দর্শকের ভালবাসা বার বার পেতে? "আমার অভিনয় মানুষের মনে দাগ কাটছে। ভগবানকে ধন্যবাদ। এটাই ইচ্ছা ছিল। আমরা অভিনেতা। এটুকু হলেই খুশি।" বললেন পঙ্কজ। এইরকমই পঙ্কজ। যে কোনও চরিত্রে অসম্ভব একটা নম্রতার স্রোত বইয়ে দেন। কালিম ভাইয়ের বজ্রকঠিন, হিংস্রতার মধ্যেও এটা লুকিয়ে ছিল। এই অনবদ্য টাচ পঙ্কজের একান্ত নিজস্ব। কীভাবে পারেন এটা। আবার সেই শান্ত হাসি, "আমি গ্রামে মানুষ হওয়া ছেলে। মাথা নিচু করে শ্রদ্ধা কীকরে করতে হয় তা জানি। সেজন্যেই বোধহয় আপনাদের মনে হয়! "

বহু দিন স্ট্রাগল করেছেন মুম্বইয়ের মাটিতে। "তখনও সেভাবে কাজ আসছিল না হাতে। আমি ডুবে থাকতাম ম্যাক্সিম গোর্কি ও আনেন চেকভের রচনায়। এখনও নীরবে সেই অনুশীলন করে যাই। প্রত্যেকটা চরিত্র তাঁরা কীভাবে কলমের জোরে রক্তমাংসের করে তুলেছেন। পড়তে পড়তেই তাদের মতো হয়ে যাই। আসলে কী জানেন, ভাল অভিনেতার কোনও রুলবুক নেই। জাত অভিনেতা যা দেখে, পড়ে ও শোনে, তা থেকেই নিজের অস্ত্র তৈরি করে। "

সেই অস্ত্রাঘাতেই আজ গোটা পৃথিবী কাত! শাহরুখ সলমন আমির খানের জমানা শেষ, বলতে শুরু করেছেন অনেকেই। "নাহ, এটা বললে সঠিক মূল্যায়ন হয় না। আমি যা যা চরিত্র পেয়েছি, তার বচন ভঙ্গিমায় জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যেমন সে কেমনভাবে হ্যাঁ বলবে, না বলার সময়ে তার বডি ল্যাঙ্গোয়েজ কেমন হবে। 'মাসান' এ আমার চরিত্র যে টোনে কথা বলবে, স্ত্রী ছবিতে আমার চরিত্র সেভাবে কথা বলবে না। স্ত্রী তে আমার একটা সংলাপ হঠাৎ জনপ্রিয় হয়েছিল। ইয়েস মিনস ইয়েস। তখনও পিঙ্ক ছবির সংলাপ 'নো মিনস নো' খুব চলেছিল। স্ক্রিপ্টে কিন্তু আমার সংলাপটা এভাবে লেখা ছিল না। কিন্তু বলতে গিয়ে খুব কনফিডেন্স পেয়ে গেলাম। তেমনি মির্জাপুর ওয়েব সিরিজের চরিত্রটাকে গড়ে তোলার অনেকটা সময় পেয়েছিলাম। জীবন্ত করে তোলাটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের মতো অভিনেতাদের প্রতিনিয়ত এই যুদ্ধটা করে চলতে হয়। কখনও হারি, কখনও জিতি। জেতাটা ইম্পর্ট্যান্ট নয়। হারলেই তবে অভিনেতা হতে পারব। পরের কাজটার জন্য। "

জীবন তৈরি হয় প্রত্যেকটা হার, প্রত্যেকটা নিষ্ফলা দিয়ে। সাফল্য মানুষকে গড়ে না। ব্যর্থতা গড়ে। এমনটাই বিশ্বাস করেন পঙ্কজ। অভিনয়ে আসার আগে জুতোর ব্যবসা করতেন। কলকাতা থেকে পটনায় জুতো কিনে নিয়ে যেতেন তিনি। অর্ডার সাপ্লাইয়ের কাজ। প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হত। এখন মনে পড়ে সেসব দিনের কথা? "নিশ্চয়ই। মনে পড়বে না। জীবন চেনার শুরু তো সেখান থেকেই। সাতাশ হাজার টাকা ইনভেস্ট করেছিলাম। পুরোটাই লস হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সাপোর্ট পুরোটাই ছিল। আমার বাবা মা এখনও গ্রামেই থাকেন। তাঁরা মুম্বইয়ে পাকাপাকি আসতে চাননি। গ্রাম এখনও আমার আপন। প্রতি শুটিংয়ের থেকে ছুটি পেলেই গাড়ি চালিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাই। " বললেন তিনি।

Published by: Akash Misra
First published: October 27, 2020, 4:37 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर