Meena Kumari: আজকের দিনেই প্রয়াত হন কিংবদন্তি মীনা কুমারী, মৃত্যুর পর কি হয়েছিল জানেন?

Meena Kumari: আজকের দিনেই প্রয়াত হন কিংবদন্তি মীনা কুমারী, মৃত্যুর পর কি হয়েছিল জানেন?

Meena Kumari

৩১ শে মার্চ ১৯৭২। বলিউড সিনেমার ইতিহাস যতদিন জীবিত আছে বা থাকবে, ততদিন কালো অক্ষরে লেখা থাকবে এই দিনটি। অকস্মাৎ বজ্রপাতের মত আছড়ে পড়েছিল একটি খবর। মীনা কুমারী আর নেই।

  • Share this:

    শর্মিলা মাইতি

    #মুম্বই: ৩১ শে মার্চ ১৯৭২। বলিউড সিনেমার ইতিহাস যতদিন জীবিত আছে বা থাকবে, ততদিন কালো অক্ষরে লেখা থাকবে এই দিনটি। অকস্মাৎ বজ্রপাতের মত আছড়ে পড়েছিল একটি খবর। মীনা কুমারী আর নেই। চলে গেছেন চিরঘুমের দেশে। সে ছিল অন্যরকম সময়। তখনকার দিনে শোকপালনের আচরণও ছিল ভিন্ন। আজকের দিনের মত r.i.p. লেখা স্ট্যাটাস এর বন্যায় ভেসে যেত না স্বাভাবিকই। বলিউডের সব শিল্পীদের কাছে মীনা কুমারী কে হারানোটা ছিল অপূরণীয় ক্ষতি। বাস্তবিক অর্থেই। মীনা কুমারীর শূন্যস্থানে যে শক্তি কতটা গভীরতা আছে তা তিনি গত না হওয়া পর্যন্ত জানা ছিল না। বোধের বাইরে ছিল, এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন রাজকুমার।

    ১৯৭২ এই দিনটির পরে, অর্থাৎ মিনাকুমারীর মৃত্যুর পরে, নতুন করে মুক্তি পেল 'বৈজু বাওরা' । মীনা কুমারীর সে কী মনোমুগ্ধকর অভিনয়! মুক্তি পেল সুপার সিনেমায়। তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সুবিখ্যাত তারকা ভারত ভূষণ। বৈজু বাওরা ছবিটি ভারত ভূষণের শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে আছে। মীনা কুমারীর মৃত্যুর পর সীমিত সংখ্যক ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন। মীনা কুমারীর চলে যাওয়া তাঁর কাছেও এক ছিন্নমূল হওয়ার সমতুল্য ছিল।

    ১৯৫২ সালের পর, কুড়ি বছর বাদে ছবিটি আবার রিলিজ হলেও, ছবিটি নতুন করে দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ে ছিল দর্শকের। দুই প্রজন্ম পরের দর্শকও মীনা কুমারীর অভিনয় গুণমুগ্ধ ছিলেন। প্রতিটি দিন হাউসফুল তো ছিলই, বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন হাজারো হাজারো মানুষ। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কান্নার রোল উঠেছিল ফলের মধ্যে। দর্শক এতটাই শোকার্ত হয়েছিলেন। তখনকার দিনে শোকবার্তা প্রকাশের রেওয়াজ ছিল না, থাকলেও তার চরিত্র আজকের দিনের মত ছিল না। ফিল্মফেয়ার পত্রিকায় মীনা কুমারীর এক বিখ্যাত ফটো দিয়ে লেখা হয়েছিল- 'আ স্টার ইজ ডেড'। মৌনব্রত পালন করেছিলেন বলিউডের তারকারা।

    ১৯৭২ ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ঘটেছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। বেস্ট মিউজিক ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল প্রাণ অভিনীত ও প্রযোজিত ছবি বেইমান। অসংখ্য হাততালির মধ্যে দিয়েই প্রাণ উঠেছিলেন মঞ্চে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করেছিলেন সেই অমূল্য পুরস্কার। কেন জানেন? মঞ্চে উঠে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে তার ছবিটি এই পুরস্কারের যোগ্য নয়। এই পুরস্কারের যোগ্য ছবি মীনা কুমারী অভিনীত পাকিজা। পুরস্কারটি অত্যন্ত বিনীতভাবে তিনি দিতে বলেছিলেন গোলাম মোহাম্মদ সাবকে। যিনি 'পাকিজা' ছবির সঙ্গীত পরিচালক। অত্যন্ত নম্রভাবে প্রাণ স্বর্গত মীনাকুমারীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ছিলেন সেই মঞ্চে। পরবর্তীকালে এমন ত্যাগস্বীকার আর কোন শিল্পীকে করতে দেখা যায়নি।

    শর্মিলা মাইতি

    Published by:Piya Banerjee
    First published:

    লেটেস্ট খবর