corona virus btn
corona virus btn
Loading

বলিউড 'নয়া নিয়ম' শ্যুটিংয়ে ষাটোর্ধরা স্বাগত, টলিউডে কেন ব্রাত্য?

বলিউড 'নয়া নিয়ম' শ্যুটিংয়ে ষাটোর্ধরা স্বাগত, টলিউডে কেন ব্রাত্য?

ভাইরাসই ঝাঁ-চকচকে বিনোদন জগত ওলটপালট করে দিল। কিন্তু শুটিং শুরু হলেও ষাটোর্ধদের 'নো-এন্ট্রি'!

  • Share this:

#মুম্বই: ভাইরাসই ঝাঁ-চকচকে বিনোদন জগত ওলটপালট করে দিল। কিন্তু শুটিং শুরু হলেও ষাটোর্ধদের 'নো-এন্ট্রি'! আইনী লড়াই লড়ে অধিকার ছিনিয়ে আনলেন বলিউডের সিনিয়র আর্টিস্টরা। লিখছেন শর্মিলা মাইতি। ভাবাই যায় না। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মতো রঙিন দুনিয়াকেও এমন নির্জীব করে দিতে পারে একটি ভাইরাস। এতটা কঠিন নিষ্ঠুর বাস্তবের মুখোমুখি হয়ত বা কখনও হতে হয়নি। কোভিডের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া দিনে দিনে কঠিন হয়ে উঠছে. আনলক প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকেই মুম্বই শহরে শ্যুটিংয়ের পারমিশন দেওয়া হয়েছিল. তার নির্দেশিকা ছিল বিরাট লম্বা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক এই নিয়মাবলীর সদর্থক দিকটি ছিল এটাই যে, কেবল মাত্র নায়ক বা নায়িকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নয়, টেকনিশিয়ান থেকে স্টান্টম্যান, সবার জন্য সমান গুরুত্ব নিয়ম মেনে তবেই শুরু করা যাবে বিভিন্ন ছবির শুটিং. প্রোডিউসারদের তরফ থেকে সেই অতিরিক্ত খরচ বহনও করার সিদ্ধান্ত হচ্ছিল. প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লকডাউন ওঠার পর প্রথম 'নিউ নর্ম্যাল' প্রক্রিয়ায় শ্যুটিং শুরু করেন অক্ষয়কুমার, তাঁর প্রোডাকশন হাউস থেকে. ইউনিটে লোকবল কম ছিল, স্যানিটাইজার শাওয়ার, থার্মাল চেকিং থেকে শুরু করে প্রাইমারি গিয়ার এবং গ্লাভস, এমনকি পিপিই কিটেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল. কিন্তু সেটা ছিল বিজ্ঞাপনী শ্যুটিং. নিয়ম মেনে পূর্ণদৈর্ঘের ছবি বা মেগাসিরিয়ালের শ্যুটিং বেশ কষ্টসাধ্য হয়েছিল ৷

কিন্তু নিয়মের ফাঁসে আটকা পড়লেন সিনিয়র আর্টিস্টরা ৷ সামাজিক ও মানবিক স্বার্থেই নিষেধ করা হয়েছিল দশ বছরের কম বয়সি এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি কোনও অভিনেতা, অভিনেত্রী ও টেকনিশিয়ানকে শ্যুটিং ফ্লোরে আনা চলবে না কারণ, উক্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, নির্দেশিকায় এটাও স্পষ্ট বলা ছিল যে, তাঁদেরকে বাড়ির ভিতরেই থাকতে হবে. এই আনলক প্রক্রিয়া তাঁদের জন্য প্রযোজ্য নয়৷ একইসঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলে প্রোডিউসারের তরফ থেকে যে বিমা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল, তাও তাঁদের জন্য প্রযোজ্য ছিল না ৷ কার্যত তাঁদের আয়-উপায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল ৷ একইভাবে টলিউডেও সিনিয়র আর্টিস্টদের কাজ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে. যাঁরা কাজ করতে আসছেন, তাঁদের জন্যেও যথাযথ ইনশিওরেন্স ব্যবস্থা না থাকার দরুণ, নিরাপত্তা একেবারেই নেই. কেউ কেউ এই অবস্থায় কাজ করবেন না বলে শ্যুটিং থেকে বিরতি নিয়েছেন ৷ যাঁরা এখনও কাজ করছেন তাঁরা বাস্তব মেনে, পেটের টানে ৷ মুম্বইয়ে IMPPA, অর্থাৎ ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রোডিউসারস অ্যাসোশিয়েশনের তরফ থেকে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল জুলাই মাসেই. মুম্বই হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল আইনজীবী প্রমোদ পাণ্ডের উদ্যোগে. এক মাসের মধ্যেই জিতে গেলেন তাঁরা. কোর্ট থেকে স্পষ্ট জানানো হযেছে যে, বয়সের ভিত্তিতে  কোনও বাছবিচার করা হবে না, সব বয়সের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও টেকনিশিয়ান শ্যুটিং করতে পারবেন. আরও বলা হয়েছে এই নির্দেশিকায় যে, অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিতে যেভাবে কাজকর্ম চালু হয়েছে, ঠিক সেই নিয়মেই এখানেও কাজ শুরু হবে. ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ব্রাত্য করার এই পদ্ধতি অমানবিক ৷ নির্দেশিকার অংশটি অপরিবর্তিতভাবে তুলে ধরা হল এখানে- IMPPA alongwith one Mr. Pramod Pandey had challenged the  validity of the said directions before the Hon’ble High Court Mumbai and accordingly, by an order passed today the said Petition has been allowed by the Hon’ble High Court by holding that no such restriction could be imposed on the basis of age of the persons and clarified that only precautionary guidelines which are applicable to all other business shall be applicable. স্বভাবতই সিনিয়র আর্টিস্টরা এখন থেকে কাজ করতে অন্তত পারবেন ৷ প্রযোজকদেরও নিতে হবে আশু ব্যবস্থা এবং বিমা কর্মসূচী। অন্তত, নতুন নিয়মের তাঁরাও যে অঙ্গ সেটুকু অধিকার তো ছিনিয়ে নিতে পারলেন! কিন্তু টলিউডে কেন আজও প্রবীণদের ব্রাত্যই রাখা হল? তাঁদের হয়ে কোর্টে গেলেন না কেন আর্টিস্ট ফোরাম? একটা অস্বস্তিকর নিস্তব্ধতা নিয়েই তাঁদের অভিনয় পেশাটাকে 'ঐচ্ছিক' বিষয়ে রূপান্তরিত করা হল, কোনও ঝড় উঠল না? এখনও আঁধার। এখনও কিন্তু ভয় কাটেনি বিনোদন জগত থেকে। আর বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এই দুঃস্বপ্নের রাত কাটতে আরও কত দিনের অপেক্ষা, কে জানে!

Published by: Akash Misra
First published: August 12, 2020, 6:29 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर