corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘স্ট্রাগল শব্দটা একেবারেই পছন্দ নয়’, সোজাসাপটা বুলবুলের কোতোয়াল শুভাশিস !

‘স্ট্রাগল শব্দটা একেবারেই পছন্দ নয়’, সোজাসাপটা বুলবুলের কোতোয়াল শুভাশিস !

ভাবছেন কে শুভাশিস? পুরো নাম শুভাশিস ঘোষ ৷ কলকাতার ছেলে ৷ নেটফ্লিক্সের ‘বুলবুল’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা ব্রিটিশরাজের কোতোয়ালকে দিব্য চিনে যাবেন ৷ আর যাঁরা চিনতে পারছেন না ৷ আজই দেখে ফেলুন বুলবুল !

  • Share this:

#কলকাতা: স্ট্রাগল শব্দটা একেবারেই পছন্দ নয় ৷ বরং স্বপ্নের পিছনে  দৌঁড়তেই বেশি পছন্দ করেন৷ ২০১৭ সাল থেকে মুম্বইয়ে একটানা, একের পর এক ছোট-বড় কাজ ৷ কেমন আছেন জিজ্ঞেস করলে, শুভাশিসের উত্তর, ‘খুব ভাল আছি ...’ !

ভাবছেন কে শুভাশিস? পুরো নাম শুভাশিস ঘোষ ৷  কলকাতার ছেলে ৷ নেটফ্লিক্সের ‘বুলবুল’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা ব্রিটিশরাজের কোতোয়ালকে দিব্য চিনে যাবেন ৷ আর যাঁরা চিনতে পারছেন না ৷ আজই দেখে ফেলুন বুলবুল !

কলকাতা থেকে সোজা মুম্বই ৷ করোনার আবহে, ঠিক এভাবেই ফোনের বার্তালাপ শুরু৷

লকডাউনে কেমন আছেন ?

শুভাশিস: ভাল ৷ গল্পের বই পড়ছি ৷ নিজেকে সময় দিচ্ছি ৷ ফোনে ফোনে কাজের কনট্যাক্টগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি ৷ সব মিলিয়ে আপাতত ভাল আছি ৷

‘বুলবুল’ তো একেবারে সুপারহিট ৷ সবাই তো ছবির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ৷ কটা ফোন এল আপনার কাছে ?

শুভাশিস: অনেক ৷ সবার যে ছবিটা ভালো লেগেছে, সেটা জেনে সত্যিই আনন্দ লাগছে৷ আমার অভিনয়ের জন্যও আলাদা করে প্রশংসা পাচ্ছি ৷ দারুণ লাগছে ৷

তা এই ‘বুলবুল’-এর অংশ কীভাবে হলেন? কীভাবে এল এই সুযোগ?

শুভাশিস: এটা বলতে গেলে আমাকে ২০১৭ সালে ফেরত যেতে হবে ৷ ২০১৭ সালেই মুম্বইতে আসি ৷ এখানে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে থাকতে শুরু করি ৷ সেভাবে মুম্বই ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্কে সেরকম কোনও আইডিয়া ছিল না ৷ তবে হ্যাঁ, কিছু বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম, কোথায়, কীভাবে অডিশন হয় ৷  তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (পাতাললোক খ্যাত) ‘কাস্টিং বে’-তে কাজ করার সুযোগ পাই৷ এখান থেকেই কিছু বিজ্ঞাপনের কাজ আছে, হঠাৎ করে ‘অল ইন্ডিয়া বাকচোদের’ একটা ভিডিওতে সুযোগ এসে যায় ৷ এরপর একে একে অর্জুন পাটিয়ালা ও কম্যান্ডো ৩ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাই ৷ সঙ্গে বিজ্ঞাপনের কাজ চলতেই থাকে ৷ এরই মাঝে ‘বুলবুল’ কাস্টিং কল৷ অডিশন হয়  ৷ আর বুলবুল-এ সুযোগ পাই ৷

তবে এখানে একটা কথা বলতে চাই ৷ আমি আসলে কোনওদিনই ভাবিনি অভিনেতা হবো৷ সিনেমা, নাটক এগুলো ভালো লাগত৷ সেই ভালো লাগা থেকেই রূপকলা কেন্দ্রের কয়েকজন বন্ধুর ডিপ্লোমা ফিল্মে প্রথম অভিনয় করি। টলিউডে 'তিন পাত্তি', 'নবাব'- সিনেমায় অভিনয় করি। এরপর টানা ৩ বছর বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে থিয়েটারও করেছি। কাজের সূত্রে সিনেমা নিয়ে আমার আগ্রহ এতটাই বেড়ে যায় যে চলচ্চিত্র শতবর্ষ ভবন থেকে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনাও করেছি।

অডিশন পর্ব কেমন ছিল?

শুভাশিস: দারুণ এক্সপেরিয়েন্স ৷ মু্ম্বইয়ে এসে একটা জিনিস বুঝলাম ৷ আপনি যত বড়ই অভিনেতা হোন না কেন, আপনাকে অডিশন দিতেই হবে ৷ আমি যখন অডিশন দিতে গিয়েছিলাম ৷ প্রচুর লম্বা লাইন ৷ সেখানে নানা বয়সের লোক ৷ খুব অনুপ্রেরণা দেয় এরকম পরিবেশ ৷ আর অডিশন? একেবারে সিনেমার দৃশ্য, সঠিক প্রপ সঙ্গে নিয়ে, স্ক্রিপ্টের সঙ্গে, এমনকী, অডিশন যারা নেয়, তাঁরাও আপনাকে সাহায্য করবে পারফর্ম করার জন্য ৷ রীতিমতো কো-অ্যাক্ট করে তাঁরা ৷ সবাই খুব প্রফেশনাল৷ যা কিনা মাইন্ড সেট করতে সাহায্য করে৷ বুলবুলের ক্ষেত্রে আমি লাকি, অডিশন দেওয়ার প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যেই আমার কাছে কল এসেছিল ৷ যে আমাকে ওদের পছন্দ হয়েছে ৷

প্রথমদিনের শ্যুটিং অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? নামী অভিনেতাদের পাশে পেয়ে টেনশন হয়েছিল?

শুভাশিস: প্রথম দিনের শ্যুট ছিল কলকাতাতে ৷ মানে বাওলি রাজবাড়িতে ৷ প্রথমদিন পরিচালক অর্থাৎ অনভিতা দত্তের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয় ৷ পরের দিন সকালে আমার শ্যুট ছিল ৷ মূলত অবিনাশ তিওয়ারির সঙ্গেই আমার দৃশ্য ছিল ৷ তবে কাকতালিয়ভাবে ওই সময়ই পরিচালক অনভিতাদি-র জন্মদিন ছিল ৷ আর সেই কারণেই সেটে সবার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় ৷ রাহুল বসু, তৃপ্তি, পাওলি দাম ৷ সবার সঙ্গে বসে আড্ডাও হয়, একটা পরিবারের মতো হয়ে যাই ৷ রাহুল বসু-র মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করাটা দারুণ অভিজ্ঞতা ৷ প্রচুর কথা হয়েছে ৷ অভিনয় নিয়ে, সিনেমা নিয়ে ৷ আমি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কেও খুব পছন্দ করি ৷ তবে আগে কোনওদিন আলাপ হয়নি ৷ বুলবুলের শ্যুটিংয়ের সময়ই আলাপ হয় ৷

ছবি মুক্তি পাওয়ার পর আপনার অভিনয় দেখে কো-স্টার বা পরিচালক কী বলছেন?

শুভাশিস: সবার সঙ্গে খুব বেশি যোগাযোগ নেই ৷ তবে হ্যাঁ, অবিনাশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে ৷ আমার কাজের খুব প্রশংসা করেছে অবিনাশ ৷ পরিচালক অনভিতাদি-ও খুব খুশি আমার কাজ দেখে ৷

চরিত্রটা নিয়ে নিজের কতটা রিসার্চ করেছেন?

শুভাশিস: গোটা বুলবুলের টিম এবং অনভিতাদি আমায় প্রচুর সাহায্য করেছেন। তবে আমি নিজেও বেশ কিছু বইপত্র পড়েছি। 'সুভাষচন্দ্র' এবং বিকাশ রায়ের 'বিয়াল্লিশ' ছবি দুটি দেখে নিজেরে তৈরি করেছিলাম ।

বাংলা প্রেক্ষাপট, বাংলার গল্প ৷ বাঙালি অভিনেতা হওয়ায় পরিচালককে কোনও টিপস দিয়েছেন?

শুভাশিস: ব্যাপারটাকে ঠিক টিপস দেওয়া বলব না ৷ কারণ অনভিতাদি ও গোটা বুলবুল টিম দারুণ রিসার্চ করেছিল ৷ তবে হ্যাঁ, একটা দৃশ্যে যেখানে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় হরিধ্বনির সুরটা ঠিক আছে কিনা পরিচালক আমাকে নিজেই জিজ্ঞেস করে৷ তারপর আমার বলায়, সেটা ঠিকও করে দেন তিনি ৷ একজন নতুন অভিনেতার পক্ষে এটা খুব বড় পাওয়া ৷

মুম্বই বড় জায়গা, স্ট্রাগল প্রচুর ৷ এসব ভাবনা আপনাকে বিচলিত করে?

শুভাশিস: আসলে এভাবে আমি ঠিক ভাবি না ৷ এই স্ট্রাগল কথাটায় আপত্তি আছে আমার ৷ আমি বরং স্বপ্নের পিছনে ছুটছি এটা বলতে ভালবাসি ৷ নিজের অভিনয়, ক্রাফ্টের ওপর ভালোবাসা ও ভরসা দুটোই আছে৷ তাই স্ট্রাগলের মতো নেগেটিভ শব্দকে গুরুত্ব দিই না ৷ আমি তো দুম করেই মুম্বইতে চলে এসেছি ৷ যদি এতকিছু ভাবতাম, তাহলে কলকাতাতেই হয়তো থেকে যেতাম৷ ২০১৭ সালে এসেছি, এখন ২০২০ ৷ অনেক ভালো ভালো কাজ করে ফেলেছি ৷ আরও ভালো কাজের সুযোগ পাচ্ছি ৷ তাই নেগেটিভ ভেবে লাভ আছে ?

৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান? স্টার নাকি অ্যাক্টর ?

শুভাশিস: স্টার কে না হতে চায়? আমিও চাই ৷ তবে হ্যাঁ, এর সঙ্গে ভালো অভিনেতা হিসেবে যেন পরিচিতি লাভ করতে পারি৷ এটাই চাই !

যদি অভিনেতা না হতেন, তাহলে কী হতেন?

শুভাশিস: ক্রিকেটার ! তবে ১০ টা ৫ টা অফিস করার মানুষ আমি নই ৷ অবশ্য চাকরিও করেছি ৷ কিন্তু সেই কাজে আনন্দ পাইনি !

Published by: Akash Misra
First published: July 12, 2020, 7:59 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर