বিনোদন

corona virus btn
corona virus btn
Loading

নাজির আহমেদ কোনওদিন মহাল‌য়ার স্তোত্রপাঠ করেননি, ভুয়ো খবর নিয়ে মত স্পষ্ট আকাশবানীর

নাজির আহমেদ কোনওদিন মহাল‌য়ার স্তোত্রপাঠ করেননি, ভুয়ো খবর নিয়ে মত স্পষ্ট আকাশবানীর

সম্প্রতি একটি লেখার কথা উল্লেখ করে একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করে, একদিন ভোরবেলা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের আসতে দেরি হওয়ায় সেদিন তাঁর স্থানে স্তোত্রপাঠ করেছিলেন নাজির আহমেদ নামে আকাশবানীর আরও এক স্বনামধন্য মানুষ।

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌ ক’‌দিন আগেই মহালয়া গিয়েছে। আর সেই উপলক্ষে বাঙালির একটা বড় অংশ ভোরবেলা উঠে শুনেছেন বেতার কেন্দ্রের বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’‌। সেখানে পরিচিত শিল্পীদের মধ্যে বাঙালির আবেগে প্রবেশ করে আছে যে মানুষটিক কণ্ঠ, তাঁর নাম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর স্তোত্রপাঠ না শুনলে বাঙালির পুজো যেন শুরই হয় না। কিন্তু সেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে নিয়েই হাজারটা রটনা, গল্পের শেষ নেই। যেমন সম্প্রতি একটি লেখার কথা উল্লেখ করে একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করে, একদিন ভোরবেলা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের আসতে দেরি হওয়ায় সেদিন তাঁর স্থানে স্তোত্রপাঠ করেছিলেন নাজির আহমেদ নামে আকাশবানীর আরও এক স্বনামধন্য মানুষ। কিন্তু এই খবরটি একেবারেই ভুল বলে দাবি করেছে আকাশবানী কর্তৃপক্ষ। কোনওদিনই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে নাজির আহমেদ স্তোত্রপাঠ করেননি। বাংলাদেশের একাধিক লেখক, তার মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত সাহিত্যিক শামসুর রহমান, তিনি তাঁর লেখাতে এই তথ্য দিলেও তথ্যটি ভুল বলে দাবি করা হয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া রেডিওর কর্মরত তুহিনশুভ্র ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‌গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জঘন্য খবর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, ১৯৪২ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত শ্রদ্ধেয় বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের জায়গায় জনৈক 'নাজির আহমেদ' স্তোত্রপাঠ করেছিলেন। আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আপনাদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ যে, এই খবরে আপনারা কোনও ভাবেই বিভ্রান্ত হবেন না, বা বিশ্বাস করবেন না। শ্রদ্ধেয় বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র ছাড়া আর কেউই কোনদিনই মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানে স্তোত্রপাঠ করেননি।’‌

একই কথা বলছেন আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের প্রোগ্রাম হেড সুব্রত মজুমদার। অনেক কথার মধ্যেই সংক্ষেপে তাঁর মন্তব্য, একটা এত বড় প্রোডাকশন করার পিছনে অনেকদিনের প্রস্তুতি, রিহার্সাল ছিল। সেই রিহার্সালের পর অনুষ্ঠান লাইভ হত। সাধারণত এই ধরনের লাইভ অনুষ্ঠানের আগে, বেশি কিছুক্ষণ আগে থেকে সমস্ত টেকনিক্যাল জিনিস তৈরি রাখা হত, যাতে অনুষ্ঠান ঠিক ভাবে হয়। শুধু তাই নয়, সেই সময়ের যত নথি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, এই অনুষ্ঠানের শিল্পীরা বেশিরভাগ আগের রাতে চলে আসতেন। ফলে অমন শেষ মুহূর্তে আসতে দেরি হওয়ার কোনও সুযোগই ছিল না। রাত আড়াইটে তিনটের মধ্যে শিল্পীরা ঢুকে যেতেন স্টুডিওতে। তারপর চারটে থেকে অনুষ্ঠান শুরু হত। এমনটা নয় যে চারটের সময় অনুষ্ঠান, আর শিল্পী দৌড়তে দৌড়তে চারটের সময় স্টুডিওতে ঢুকলেন। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ওই যে মাসখানেক ধরে রিহার্সাল হত, সেই রিহার্সালের কোনও একটি দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র হয়ত দেরি করে এসেছিলেন, বা দেরি হয়েছিল। অনেক সময়ে নাটকে যেমন প্রক্সি দেওয়া হয়, তেমন দেওয়া হয়েছিল হয়ত। সেটি অপভ্রংশ হয়ে এমন গল্পে দাঁড়িয়েছে। আর নাজির আহমেদের এতটুকু সংস্কৃত বলা তো বড় কথা নয়, তিনি নিজে একটা এত বড় শিল্পী ছিলেন। ‌নানা কারণে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য মানুষ ছিলেন। তাঁর নানা অবিস্মরণীয় কাজ আছে। তাঁর সম্পর্কেও ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে, মহিষাসুরমর্দিনী সম্পর্কেও ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

Arunima Dey, Uddalak Bhattacharya

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: September 28, 2020, 8:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर