corona virus btn
corona virus btn
Loading

Exclusive: ‘ওকে সবাই ব্যবহার করেছে, কেউ ভালবাসেনি’- দেবজ্যোতি মিশ্র

Exclusive: ‘ওকে সবাই ব্যবহার করেছে, কেউ ভালবাসেনি’- দেবজ্যোতি মিশ্র

ঋতুপর্ণ ঘোষ আর দেবজ্যোতি মিশ্রের বন্ধুত্ব আসলে সাইকেল চালানো বা সাঁতার শেখার মতন। যা কোনওদিন কেউ ভুলবে না।

  • Share this:

#কলকাতা: ব্যাকগ্রাউন্ডে 'memories in march' ছবিটা চলছে। সামনে বসে ঋতু, দেবজ্যোতি। রয়েছেন আরও বন্ধুবান্ধব। দুজনের মধ্যে কথা হচ্ছে ঠাট্টা হচ্ছে। তার মধ্যেই দেবজ্যোতি ঋতুকে বললেন, ঋতু তুই এইভাবে মরে গেলি। বলেই যেন ঋতুও খানিক ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইল তাঁর দেবুর দিকে...এদিকে চোখ খুলতেই জলে ভেজা দুটো পাতা। ঘুমের মধ্যেই কেঁদেছে দেবু....এইরকম স্বপ্নই তারা করে বেড়ায় দেবজ্যোতিকে মিশ্রকে। খাট থেকে উঠেই অর্ঘ্যকমল মিত্রকে ফোন করে প্রায় কুড়ি মিনিট কেঁদেছিলেন দেবজ্যোতি। ঋতুপর্ণ ঘোষ আর দেবজ্যোতি মিশ্রের বন্ধুত্ব আসলে সাইকেল চালানো বা সাঁতার শেখার মতন। যা কোনওদিন কেউ ভুলবে না। সালটা ছিল ২০১৩। ২৮ মে নিজের মা'কে হারান দেবজ্যোতি। সেদিন দেবুকে ফোন করে তাঁর কাছে ছুটে যান ঋতু। ৩০ মে। সকালে এক সাংবাদিক বন্ধুর ফোন। ফোন পেতেই ছুটে যান ঋতুর বাড়িতে। ততক্ষনে অনেক দূরে ঘুমের দেশে জীবনের সব থেকে কাছের মানুষটা। "আমার মায়ের মৃত্যুতেও এতো শোক হয়নি যতটা ঋতু চলে যাওয়াতে হয়েছে। ও আমার জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আজকের দিনে দাঁড়িয়েও আমি মনে করি না ও নেই। ও আছে আমার সঙ্গে। জীবনে সব থেকে যদি কাউকে খুব ভরসা করে থাকে ঋতু, মনের কথা বলে থাকে সেই মানুষটা আমি। ওর সব কথা আমার সঙ্গে আছে আর থাকবে। ঋতু সবসময় বলত, তোরা কেউ আমার আগে চলে যাস না। তাহালে আমার মজার গল্পগুলোকে শোনাবে? আসলে নিজে ভীষণ একা ছিল । এই একাকীত্ত্ব  শেষ দিন অবধি নিঃশেষ করেছে ঋতুকে"ভারী গলায় জানান দেবজ্যোতি। নিজেকে নাকি খুব বড় মাপের পরিচালক কোনওদিনও মনে করেননি ঋতু।" সালটা ছিল ২০০৭। কান ফিল্ম ফেস্টিভালে ঋতু আর আমি। মনিরত্নম ঋতুকে দেখে জড়িয়ে ধরে খুব প্রশংসা করছেন ওর কাজের। কাছেই দাঁড়িয়ে আমি। খানিক বাদে আমার কাছে ঋতু এসে জিজ্ঞেস করল, ডু ইউ থিঙ্ক আমি ভাল ছবি বানাই? কিন্তু আমি নিজেকে মানিক বাবু, ঋত্বিক ঘটক, মৃনাল সেন, অপর্ণা সেনের পাশে তো একেবারেই দেখতে পাই না। এখান থেকেই ঋতুর নিজের একটা ঘরানা তৈরি করার কথা ভাবা শুরু। যে ছবিতে একটা রচনা  থাকবে, যেটা  সিনেম্যাটিক বা আর্টিস্টিক হওয়ার উর্দ্ধে। সেখান থেকেই 'চিত্রাঙ্গদা' বানানো। নিজের এই রেভোলিউশনারি মার্কের মাঝেই ছেড়ে চলে গেলো ঋতু আমাদের।"জানান দেবজ্যোতি।

ঋতুপর্ণ ঘোষ  ছিলেন ভালোবাসার কাঙাল। প্রেমে ব্যার্থতা এমন ভাবে গ্রাস করেছিল তাঁকে যা অবর্ণনীয়। দিনের পর দিন একটু ভালবাসার জন্য ডুকরে ডুকরে কেঁদেছিলেন তিনি। যাদের জীবনে অনেক ওপরে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন তারাই পরে একটা ফোন কলের জবাব পর্যন্ত দিতেন না। সত্যি কী এমন হতে পারে? সত্যি কী এমনটাই বাস্তব?"রবীন্দ্রনাথের থেকে ঋতু সব শিখেছিল, তাঁর পান্ডিত্য, জেদ, শিক্ষা সব নিয়েছিল, কিন্তু ঝড়ের মধ্যেও কিভাবে বেঁচে থাকতে হয়ে সেইটা ও শিখতে পারেনি । ভালোবাসার জন্য কত কষ্ট পেতে দেখেছি ওকে। ওর সাজ গোজ সবটাই ভীষণ এক্সটার্নাল। আসলে ভেতরে অসম্ভব একা ছিল ঋতু। ঋতুর দরকার ছিল ওকে ভীষন  ভালোবাসবে তেমন একজন মানুষের। যার সঙ্গে একটু বসে গল্প করবে। একটু আদর করবে, তাঁর সঙ্গেই ঝগড়া করবে, আবার তাঁকেই খুব ভালবাসবে। মাতায় হাত বুলিয়ে একটু আদর করে কপালে চুম্বন....এরকম একটা মানুষের অভাব ছিল ওর জীবনে। অনেকে ওকে ব্যবহার করেছেন কিন্তু কেউ সত্যি ভালোবাসা দেয়নি। বারবার প্রেমে ব্যর্থ হয়েছে ঋতু। আজ ঋতুর কত গল্প আমার জানা কিন্তু সেগুলো আমার সঙ্গেই থেকে যাবে। কত বার হাউহাউ করে কেঁদে উঠেছে ঋতু ৷ বুকে জরিয়ে আমার সোনা ছেলে আমার ভাল ছেলে বলে বাচ্ছাদের মতন ওকে ভোলাতে হয়েছে ."বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন দেবজ্যোতি। আজকের দিনটা আলাদা করে বোধহয় মনে রাখতে চান না দেবজ্যোতি। তাঁর কাছে এখনও সঙ্গেই আছেন ঋতু। "তবে এই পৃথিবীটা ওর ছিল না। সিনেমার জগৎ কবিতার জগৎ নয়। এখানে সব মিথ্যে। সবাই ফেক। তাই নিজের একাকিত্বর থেকে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করেছিল ঋতু।" বলেই চুপ করে গেল ঋতুর দেবু।

Published by: Akash Misra
First published: May 30, 2020, 12:52 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर