হোমওয়ার্ক থেকে বকেয়া বাড়িভাড়া মেটানো, তারকার রক্ষাকবচ তাঁর বাঙালি গিন্নি

মনীশ ও সংযুক্তা, ছবি-ইনস্টাগ্রাম

বাঙালিনী সংযুক্তার সঙ্গে মনীশের আলাপ দিল্লিতে ৷ সেখানেই কেটেছে দুজনের স্কুলজীবন ৷ তখন থেকেই প্রেমের প্রথম কদম ফুলের পাপড়ি মেলা শুরু ৷ সংযুক্তার কথাতেই মুম্বই পাড়ি দেন মনীশ ৷ অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে, শূন্য থেকে শুরু করতে ৷

  • Share this:

    মুম্বই:  ইতিহাসে পৃথ্বীরাজ হরণ করেছিলেন সংযুক্তাকে ৷ বাস্তবের সংযুক্তাকে অবশ্য হরণ করতে হয়নি মনীশকে ৷ স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব থেকে প্রেম এবং অবশেষে পরিণয় ৷ সংযুক্তা না থাকলে তাঁর কোনও অস্তিত্বই নেই ৷ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন সঞ্চালক ও অভিনেতা মনীশ পাল ৷

    বাঙালিনী সংযুক্তার সঙ্গে মনীশের আলাপ দিল্লিতে ৷ সেখানেই কেটেছে দুজনের স্কুলজীবন ৷ তখন থেকেই প্রেমের প্রথম কদম ফুলের পাপড়ি মেলা শুরু ৷ সংযুক্তার কথাতেই মুম্বই পাড়ি দেন মনীশ ৷ অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে, শূন্য থেকে শুরু করতে ৷

    ২০০৬ সালে প্রথম পূর্ণ সময়ের চাকরি পান মনীশ ৷ চাকরি ছিল রেডিয়ো জকি-র ৷ এর পর আর অপেক্ষা নয় ৷ পঞ্জাবি-বাঙালি মতে বিয়ে করেন তাঁরা ৷ বিয়ের পর একের পর এক চাকরি ছেড়েছেন ও ধরেছেন মনীশ ৷ উল্টোদিকে শিক্ষকতার চাকরি নিয়ে সংসারের হাল ধরে ছিলেন সংযুক্তা ৷ সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে সময় দিতে পারতেন না বিশেষ ৷ কিন্তু এক বারও অনুযোগ করেননি সংযুক্তা , জানিয়েছেন মনীশ ৷

     ২০০৮-এ এক বছর মনীশ ছিলেন চাকরিহীন ৷ বাড়িভাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও ছিল না ৷ সে সময় সংসারের সব খরচ চালাতেন সংযুক্তা ৷ ভরসা দিতেন স্বামীকে ৷ বলতেন, মনোবল না হারিয়ে ধৈর্য ধরে থাকতে ৷ সুযোগ একদিন আসবেই ৷

    সুযোগ এসেছিল এক বছর পরেই৷ মনীশ সুযোগ পান টেলিভিশন ধারাবাহিকে ৷ সেই শুরু ৷ এর পর পাল্লা দিয়ে অভিনয় ও সঞ্চালনা করেছেন তিনি ৷ ‘ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স লিল মাস্টার্স’, ‘সা রে গা মা পা সিঙ্গিং সুপারস্টার’, ‘কমেডি সার্কাস কা জাদু’, ‘ঝলক দিখলা যা’, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’, ‘নাচ বালিয়ে’, ‘মুঝসে শাদি করোগে’-সহ একাধিক জনপ্রিয় শো-এর সঞ্চালক ছিলেন তিনি ৷ বিনোদন দুনিয়ার পুরস্কা বিতরণীর মঞ্চে তিনি একচ্ছত্র ৷ পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ‘তিস মার খান’, ‘এবিসিডি : এনিবডি ক্যান জান্স’, ‘মিকি ভাইরাস’, ‘তেরে বিন লাদেন ২’-সহ বেশ কিছু হিন্দি ছবিতে ৷

    ব্যস্ত সূচির বাইরে স্ত্রী, ছেলে, মেয়েকে নিয়ে ভরপুর সংসারী মনীশ ৷ কেরিয়ার ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে পছন্দ করেন ৷ ডিনার টেবিলে কাজের আলোচনা, নৈব নৈব চ ৷ রসিকতা করে বলেন, স্কুলের হোমওয়ার্ক থেকে বেকারত্বের জীবনে বকেয়া বাড়িভাড়া মেটানো, সব সমস্যায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী ৷ তাই সংযুক্তা ছাড়া নিজেকে ভাবতেই পারেন না ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: