corona virus btn
corona virus btn
Loading

সত্যিই কি দয়ালু সলমন খান? নাকি পুরোটাই লোক দেখানো

সত্যিই কি দয়ালু সলমন খান? নাকি পুরোটাই লোক দেখানো

খামখেয়ালী সলমন। সদ্য বন্যা কবলিত কোলাপুরে দান করেছেন। লকডাউনে অকাতরে বিলিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী, টাকাও।

  • Share this:

#মুম্বই: খামখেয়ালী সলমন। সদ্য বন্যা কবলিত কোলাপুরে দান করেছেন। লকডাউনে অকাতরে বিলিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী, টাকাও। কখনও তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে বিমুখ হতে হয়নি। তবু তাঁর সংস্থা বিয়িং হিউম্যান বার বারই সমালোচনার শিকার। যতই ভাল কাজের তালিকা বাড়ুক, বিতর্ক যেন সলমনের সহোদর ভাই।  লিখছেন শর্মিলা মাইতি

মুম্বই সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় প্রথম পর্বের লকডাউনে রাস্তায় সাঁ সাঁ করে ছুটত সলমনের মেক আপ ভ্যান। গায়ে লেখা হাংরি ক্যায়া! ভিতরে বিলাসবহুল সরঞ্জাম উঠিয়ে ফেলে অন্যরকমভাবে সাজানো। শুধুই থরে থরে চাল, ডাল, অত্যাবশ্যক পণ্যের প্যাকেট। সাবান স্যানিটাইজার আরও কত কী। প্রতিদিন 25 হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের উদরপূর্তির দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। আবার যখনই শুনেছেন, হাতে টাকা নেই বলে শ্রমিকরা দিশেহারা, তখন চাল-ডালের সঙ্টাগে টাকাও দিয়েছেন। মিডিয়া মুচকি হেসেছে, টুইটারে ভালমন্দ কথার ঝড় উঠেছে। সলমন থেকেছেন নির্বিকার।

এইরকমই থাকেন তিনি। সারাজীবন বিতর্ক তাঁর সহোদর ভাই। পরোপকার করলেও মিডিয়া বলেছে ইমেজ মেকওভারের চেষ্টা! জনকল্যাণমূলক কাজ করলেও ট্যারাবাঁকা মন্তব্য তাঁর চিরসঙ্গী। শুনতে হয়েছে, এসব কাজ নেহাতই তাঁর পাহাড়প্রমাণ পারিশ্রমিকের এক শতাংশও নয়। প্রোমোশনাল স্ট্র্যাটেজি।

সেসব তাঁকে খুব একটা টলায় বলে মনে হয় না। সদ্য বন্যা কবলিত কোলাপুরে অকাতরে দান করলেন। বন্যায় ভেসে যাওয়া শতাধিক বাড়ি বানিয়ে দিলেন নিজের উদ্যোগে। একবার নিজের বডিগার্ডের থেকে টাকা নিয়ে সাহায্য করেছিলেন জনৈক সাংবাদিককে। বাড়ি ফিরে বডিগার্ডের ধার শোধ তো করলেনই উপরন্তু তার 'মহানুভবতা'র পুরস্কার হিসেবে স্যালারিও বাড়িয়ে দিলেন।

দাবাং ছবির আউটডোরের ফাঁকে দেখতেন কালোকোলো শীর্ণ ছেলেমেয়েগুলোকে। অনেক দূর থেকে যারা শুটিং দেখত। কিন্তু নিজেই শুটিংয়ের শেষ দিন  ২০০ ছেলেমেয়েদের কিনে দিয়েছিলেন নতুন সাইকেল। সবার মুখে হাসি দেখবেন বলে।

প্রোমোশনাল স্ট্রাটেজি হোক বা কাকতালীয় , জয় হো ছবির আগে প্রচুর দানধ্যান শুরু করলেন। তাঁর একটি উক্তিও লোকমুখে ঘুরছিল। আপ থ্যাঙ্ক ইউ মত কহিয়ে, উসকে বদলেমে তিন লোগোঁ কে মদত কিজিয়ে, তিনকো কহনা কি অউর তিন লোগোসে মদত করে। (ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই। তার বদলে আপনি তিনটে লোককে সাহায্য করুন। সেই তিনজনকে বলুন আরও তিনজনকে সাহায্য করতে। তিনি বিশ্বাস করতেন, এভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে পরোপকারের সংখ্যা বাড়াতে পারলে পৃথিবী বদলাবে।

সলমন খাানের সংস্থা বিয়িং হিউম্যান প্রতিষ্ঠিত হয় 2007 সালে। এই সংস্থার ব্র্যান্ডেড আইটেম বিক্রির টাকা পুরোপুরি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। প্রতি বছর 50 কোটি ব্যয় হয় এই সংস্থার মাধ্যমে। উদ্বোধনের বছরেই নিজের হাতে আঁকা পেন্টিং বিক্রি করেন সলমন। অর্থমূল্য পুরোটাই দান করা হয় রমোলা বচ্চনের সংস্থায়। কিক ছবির প্রচারেও অগ্রণী হয়েছিল সংস্থা। 100 জন দুস্থ হৃদরোগাক্রান্ত ব্যক্তির বিনামূল্যে হার্টসার্জারির ব্যবস্থা করেছিলেন সলমন। কারজাটে শুটিংয়ের সময় সেই গ্রামের সব ভাঙাচেোরা বাড়ি মেরামত করে রং করিয়ে দেন। বস্ত্রবিতরণ করেন মহিলাদের।

আউটডোরে গেলেই যে সলমন আরও দিলদার হয়ে ওঠেন, তা অনেকেই জানেন।

ঈদে সলমন রিলিজ এবছর হয়নি। করোনা ভাইরাস এসে বলিউড অর্থনীতির সব সমীকরণ বদলে দিলেও বদলাতে পারেনি এই দাবাং খানের উদারতাকে। দিওয়ালিতে প্রতি বছরের মতো এবারও মুম্বই ধরাভিতে, অনাথাশ্রমে যাবে সলমনের উপহার। বিয়িং হিউম্যান সংস্থা অতি যত্ন করে সেই উপহার দিয়ে আসে বাড়িতে বাড়িতে। কারণ এটাই সলমন খান। বলিউডের অন্যতম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

Published by: Akash Misra
First published: September 8, 2020, 9:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर