সব ধরণের মিউজিকের আলাদা আলাদা ট্রেনিং নিয়েছি : শ্রেয়া চৌধুরী

সব ধরণের মিউজিকের আলাদা আলাদা ট্রেনিং নিয়েছি : শ্রেয়া চৌধুরী
বলিউডে ডেবিউ হয়েছে কয়েকবছর আগে। কাজ করেছেন মণীষা কৈরালার সঙ্গে।

বলিউডে ডেবিউ হয়েছে কয়েকবছর আগে। কাজ করেছেন মণীষা কৈরালার সঙ্গে।

  • Share this:

    #মুম্বই: বন্দিশ ব্যান্ডিটস-এর নায়িকা শ্রেয়া এখন লাইমলাইটে। এই একমাত্র প্রজেক্ট যেখানে অভিনয়ের জন্য রীতিমতো পেশাদার গায়িকা হওয়ার ট্রেনিং নিতে হয়েছে। মুম্বইয়ের বাড়ি থেকে অনলাইন চ্যাটে মনখোলা আড্ডা দিলেন শর্মিলা মাইতির সঙ্গে।

    বলিউডে ডেবিউ হয়েছে কয়েকবছর আগে। কাজ করেছেন মণীষা কৈরালার সঙ্গে। ইমতিয়াজ আলির মতো পরিচালকের সঙ্গেও। কিন্তু তখনও শ্রেয়া চৌধরীর পরিচয় এতটা ব্যপ্ত হয়নি। আর তখনই এল এই ওয়েবসিরিজের অফার। চরিত্র এক নব্য গায়িকার। কিন্তু গানপ্রধান এই সিরিজের জন্য নিজের খোলনলচে বদলে ফেলতে হবে। তালিম নিতে হবে ধ্রুপদী ও আধুনিক সঙ্গীতের। এক্সটেনসিভ ট্রেনিং।

    মুম্বইয়ে নিজের বাড়ির রুমে বসেছিলেন শ্রেয়া। পরেছেন পার্ল হোয়াইট স্যুট। উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, " তমান্না চরিত্রটা নিয়েই সারাদিন ভেবে চলতাম। কী করে নিজেকে একজন উচ্চাকাঙ্খী গায়িকা হিসেবে দেখব। আমাকে ওয়র্কশপে একাধিক শিক্ষক গান শেখাতেন। মন দিয়ে সুর তুলতাম। মনটাকে তো আগে শেখাতে হবে!  শ্রেয়া নও তুমি। নও তুমি একজন স্ট্রাগলিং অ্যাকট্রেস। তুমি একজন গায়িকা যে এতটাই প্যাশনেট যে পরিবেশ থেকেই সুর আহরণ করে। যে কোনও শব্দ থেকে সুর খুঁজে পায়। "


    চোখে বুদ্ধির ঝিলিক। হাসলে অনেকটা জিয়া খানের আদল আসে মুখে। প্রশ্ন ছিল, বলিউডের শুরুটা কি বড্ড কঠিন? "আমি আর্মি ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি। আমার পরিবারে কেউ বলিউড যাওয়ার কথা ভাবেনি। কিন্তু আমার এই ডিসিশনে পরিবারকে সর্বদা পাশে পেয়েছি। উৎসাহ দিয়েছে বন্ধুরাও। আর বলিউডে কাস্টিং এর সিস্টেমটাও খুব শক্তপোক্ত, আটসাঁট। সোশাল মিডিয়া চেক করা হয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। সেটা একজন উঠতি অভিনেত্রীর কাছে খুবই পজিটিভ একটা বিষয়। আগে থেকেই প্রোডাকশন হাউসের কাছে প্রেজেন্ট করার মতো কিছু থাকে।" বললেন তিনি।

    নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে এক ফ্রেমে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেন, ঘুম হয়েছিল রাতে? "আমার কাছে এখনও রহস্য, কী করে আমার মতো ক্ষুদ্র একজন সুযোগটা পেল। আমি নাসির স্যরের ছবির ভক্ত। সামনে গিয়ে ভক্তিভরে প্রণাম করেছি। কোনওদিন যে কথা বলতে পারব, এমনটা সুখস্বপ্নেও ভাবিনি! ভয় করছিল কথা বলতে। কিন্তু স্যরই আমায় সহজ করে দিয়েছিলেন যাতে অভিনয় করতে অসুবিধা না হয়। আমি ধন্য। ভগবানকে ধন্যবাদ। " বললেন শ্রেয়া।গ্রুমিংএ গান ছাড়াও আরও কিছু স্কিল বাড়াতে হয়েছে। বাইক চালিয়েছেন কালেভদ্রে, কিন্তু স্পিডে চালানো মোটেই অভ্যেস ছিল না।  "ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইক চালিয়ে বিষয়টা আয়ত্তে আনতে হয়েছে। গানের ট্রেনিংয়ের পর দৌড়ে বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম। "

    বাঙালি কো-স্টার ঋত্বিক ভৌমিক। বাঙালি অভিনেতারা কী অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই ভাল?

    "ঋত্বিককে আমার একটা কারণেই ভাল লাগে, ওর মা, মানে আন্টি খুব যত্ন করে ছেলের জন্য রান্না করে পাঠাতেন। রাজস্থানে শুটিংয়ের সময়ে আমায় তার ভাগ দিত। এটাই সবার চেয়ে আলাদা। আর কোনও বিশেষ গুণ নেই ওর! " চোখের ইশারা করে হাসলেন, "জোকস অ্যাপার্ট, ঋত্বিক খুবই মনোযোগী অভিনেতা। কথায় কথায় প্রশ্ন করে। সঠিকটা জানার চেষ্টা করে।"

    তমান্না কি এবার শ্রেয়াকে স্বপ্নের সিঁড়িটা দেখাল, অনেকদিনের লড়াই শেষে? "সত্যিই স্বপ্নের সিঁড়ি! কিন্তু লড়াই কেন? স্ট্রাগল শব্দটা আমার ডিকশনারিতে নেই। জীবনের প্রতি আমি খুব পজিটিভ। আজ কিছু না হলে কালকের জন্য তৈরি হই। মনকে সেভাবে প্রস্তুত করে নিই। " বললেন শ্রেয়া। একগাল হাসি হেসে।

    Published by:Akash Misra
    First published:

    লেটেস্ট খবর