ডাঙায় অ্যানাকোন্ডা আর জলে কুমির, সে এক অভিজ্ঞতা আমাজনে! : সৌমিক হালদার

ডাঙায় অ্যানাকোন্ডা আর জলে কুমির, সে এক অভিজ্ঞতা আমাজনে! : সৌমিক হালদার

যে কজন চিত্র গ্রাহক এই মুহূর্তে টলিপাড়ায় কাজ করছেন তার মধ্যে যদি শ্রেষ্টত্বের পরিচয়ে কাউকে বেছে নেওয়া হয় তাহলে নিঃস্বন্দেহে সে নাম হবে সৌমিক হালদার।

  • Share this:

SREEPARNA DASGUPTA

#কলকাতা: যে কজন চিত্র গ্রাহক এই মুহূর্তে টলিপাড়ায় কাজ করছেন তার মধ্যে যদি শ্রেষ্টত্বের পরিচয়ে কাউকে বেছে নেওয়া হয় তাহলে নিঃস্বন্দেহে সে নাম হবে সৌমিক হালদার। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির নামজাদা পরিচালক তো বটেই যারা সবে মাত্র ছবি পরিচালনায় হাত পাকাচ্ছেন সকলেই চায় সৌমিকের সঙ্গে কাজ করতে। এহেন সৌমিক হালদার নিজে এতো বছর ক্যামেরাতে পারদর্শিতা দেখালেও এবারে পরিকল্পনা করছেন নিজের ছবি পরিচালনা করার।

এই ইন্ডাস্ট্রিতে যে কাজ করবে সেটা কি ভাবে স্থির করলে?

সৌমিক: আসলে অনেক কম বয়স থেকেই আমি সিনেমা ভক্ত।অনেক দেশি বিদেশী ছবি দেখে বড় হয়েছি।বরাবরই ইচ্ছে ছিল এই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করব। সেই কারণেই আমি FTII থেকে পড়াশোনা করেছি। পড়েছি ক্যামেরা ডাইরেকশন নিয়ে কিন্তু আমার একটা ইন্টারেস্ট সবসময়ে কাজ করতো যে আমি পরিচালনাটাও পারব । সেটার প্রতি আমার আগ্রহ আছে।

ব্রাত্য বসুর সঙ্গে প্রথম ছবি করেছো 'রাস্তা' তার পর একটা দারুন টার্ন নিলো কেরিয়ার, সেটা কি করে হল?

সৌমিক: আমি খুব লাকি বলে মনে করি যে আমি ঠিক টাইম এ ঠিক ব্রেকগুলো পেয়েছি। আসলে বুম্বাদা আমার অনেক কাজ দেখেছিলেন। তারপরে ওর সঙ্গে ও ঋতুদার সঙ্গে আমি সব চরিত্র কাল্পনিক করার সুযোগ পাই। আমাকে উনি খুবই সাপোর্ট করেছেন।

ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে কাজ করার কি অভিজ্ঞতা?

সৌমিক: ঋতুদাকে ডিফাইন করা যায়না। ওর সঙ্গে কাজ করে আমার কাজের পরিধি বেড়ে গিয়েছিল । ঋতুদার মতন শটডিজাইনিং , প্রোডাকশন ডিজাইনিং এবং আ‍্যক্টিং কোরিওগ্রাফি কেউ করতে পারবে না। পুরো সেট টাকেই বদলে দিতেন। আমি প্রচুর কিছু শিখেছি ওর থেকে। এসথেটিক্স বলতে যা বোঝায় আমি ঋতুদার থেকেই শিখেছি।

সৃজিত আর কৌশিকদাকে নিয়ে কি বলবে ?

সৌমিক: সৃজিত নিউ স্টাইল অফ বেঙ্গলি সিনেমা বলে আমি মনে করি। আমার সঙ্গে ওর একটা দারুন সমীকরণ আছে। ও আমাকে কিছু বলার আগেই আমি বুঝতে পারি। ও ভীষণ ভার্সেটাইল। ওর ভিশন খুব ক্লিয়ার। নিউ এক্সপেরিমেন্ট ওর থেকে শিখতে হয়। কৌশিকদা অন্য দিকে আবার ভীষণ ক্লাসিকাল ফর্ম অফ ফিল্ম মেকিং এ বিশ্বাস করেন। উনি এমন সব এলিমেন্ট যোগ করেন যেটা আলাদা একটা চমক এনে দেয় পুরো ছবিতে। উনি নিজেও দুর্দান্ত অভিনেতা,উনি সবটাই দারুণ পারেন।

ছবির কাজ করতে গিয়ে তো দুঁনিয়ার সবটাই তো ঘুরে ফেললে?

সৌমিক: আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। প্রথম বিদেশে গেলাম সেটা ছিল মিশর রহস্যের জন্য। ভাবতে পারো ? তারপরে তো পর পর অনেক বারই বিদেশে গেছি। পুরো সাউথ আফ্রিকা ঘুরে ফেলেছি চাঁদের পাহাড়ের জন্য। ভাবও আমাজন এ দু’বার গেলাম। একবার আমাজন অভিযানের জন্য আরেকবার প্রফেসর শঙ্কুর জন্য। ডাঙায় বাঘ আর জলে আ‍্যনাকন্ডা আর কুমির।এরকম কোনোদিন দেখব ভাবতেই পারিনি।

ছবি বানাচ্ছো শুনলাম?

সৌমিক: দেখো দুটো স্ক্রিপ্ট তৈরি হয়ে রয়েছে। কিন্তু এখনও ওটার কাজ চলছে। পদ্মনাভ-র সঙ্গে। মোট চারটে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ চলেছে । ২টোর কথা অনেক এগিয়ে গেছে। আগে একটা বারুদ বলে টেলিভশন এর জন্য ছবি বানিয়েছি।এবারে ওয়েব প্লাটফর্ম এর জন্য ব্যোমকেশ তৈরি করবও এটাতে অনির্বাণ অভিনয় করবে।

প্রথম ছবিতে কাকে কাস্ট করবে?

সৌমিক: দেখও বুম্বাদা, আবির, যীশু, দেব আমি এদের সঙ্গেই বেশি কাজ করেছি। আমি ওদের মধ্যে থেকে বেছে নেব। এটা নির্ভর করছে কোন গল্প আমি প্রথমে করব তার ওপরে।

কারা কারা বন্ধু ইন্ডাস্ট্রিতে ?

সৌমিক: দেখও যীশু বা আবির আমরা একসঙ্গে এই ইন্ডাস্ট্রিতে বড় হয়েছি। বুম্বাদাকে আমি মেন্টর মনে করি । আমাকে সব ক্ষেত্রেই সাহায্য করেছেন। পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ও আমার খুবই ভালো বন্ধু। ওর দুটো ছবিই আমি করেছি। দেব অভিনীত ওর আগামী ছবি গোলন্দাজে আমিই ক্যামেরা করছি।

First published: 09:25:37 PM Dec 23, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर