corona virus btn
corona virus btn
Loading

Exclusive: 'স্ক্রিপ্ট নিয়ে অনেক তাবড় অভিনেতার অফিসে ছুটে গিয়েছি !’: বস্কো মার্টিস

Exclusive: 'স্ক্রিপ্ট নিয়ে অনেক তাবড় অভিনেতার অফিসে ছুটে গিয়েছি !’: বস্কো মার্টিস

ভেবেছিলেন ক্রীড়া জগতে নাম করবেন। ফুটবলার হবেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে অন্য এক শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন তিনি।

  • Share this:

  #কলকাতা: ভেবেছিলেন ক্রীড়া জগতে নাম করবেন। ফুটবলার হবেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে অন্য এক শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন তিনি। প্রথমে ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার, তারপর বন্ধুর সঙ্গে জুটি বেঁধে সফল ডুয়ো কোরিওগ্রাফার। ঝুলিতে,‘জব উই মেট’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘জিন্দগি না মিলেগি দোবারা’-র মতো সফল ছবি। এবার পরিচালনায় হাত পাঁকাতে চলেছেন বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার বস্কো মার্টিস। তাঁর প্রথম ছবি ‘রকেট গ্যাং’-এর শ্যুটিং শুরু হতে চলেছে খুব তাড়াতাড়ি। কেরিয়ার, সাফল্য, ব্যর্থতা- সবকিছু নিয়ে আড্ডায় মজলেন বস্কো। উঠে এলো সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু প্রসঙ্গ। ‘ছিছোড়ে’-তে সুশান্তের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন বস্কো।

প্রশ্ন- কোরিওগ্রাফার হিসেবে বিপুল সফল, পরিচালক হওয়ার ইচ্ছে কি প্রথম থেকেই? যতটুকু মনে পড়ছে, বছর দশেক আগে ভেবেছিলাম পরিচালনা করবো। কোরিওগ্রাফারকেও জানেন তো গল্প বলতে হয়। প্রতিটা গানের স্টোরি লাইন থাকে। বহু বছর ধরে এই কাজ করছি। এবার একটু বড় করে গল্প বলতে চাই। পরিচালনা আমার পরবর্তী পদক্ষেপ। কিন্তু আমি কোরিওগ্রাফি করবো না, কিংবা বোর হয়ে গিয়েছি, তেমন নয়। আরও একটু গ্রো করতে চাই।

প্রশ্ন- প্রভুদেবা, ফারহা খান, রেমো ডি’সুজা, অনেক কোরিওগ্রাফাররাই পরিচালনায় এসেছেন। আপনি কী তাঁদের পথ অনুসরণ করলেন? ওই যে বললাম, পরিচালকের পাশাপাশি আমাদেরও গল্প বলতে হয়। অনুসরণ নয়। তবে ভাবনা এক, সেটা বলতে পারেন।

প্রশ্ন- আচ্ছা, তবে ‘রকেট গ্যাং’ একটি হরর-ডান্স-কমেডি ছবি। এই ব্যাপারটা একটু খুলে বলুন। ‘রকেট গ্যাং’একটি ডান্স ফিল্ম। কিন্তু প্রথমিক ভাবে ভেবেছিলাম থ্রিলার বানাবো। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত হলো না। আসলে ছবিবানানো মানে বিপুল লগ্নি, নতুন কারও ওপর ভরসা করাও সত্যি কঠিন। অনেকগুলো জঁনার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলাম। তারপর এই ছবির কনসেপ্ট মাথায় আসে। আমার ছবি মানে এইটুকু ধরে নেওয়া যায়, গানগুলো ভাল হবে। ছবির গান পয়সা তুলে দেবে। এটা ভেবে কিছুটা কনফিডেন্স পেলাম। দেখুন সকলে ভাবে, কোরিওগ্রাফার কী আর নতুন করবে। তাই এই নতুন জঁনারে ছবি বানাচ্ছি। শিঁউড়ে ওঠার মতো হরর নেই। হাসির মোড়কে, উপভোগ করার মতো ডান্স ফিল্ম। সঙ্গে ভয়ের এলিমেন্ট রয়েছে।

প্রশ্ন- এই ছবি তো VR-এ শ্যুট করছেন তাই না? হ্যাঁ। 3-D-তে ডান্স ফিল্ম আমরা প্রচুর দেখেছি। আমি নতুন কিছু করতে চাইছিলাম। তাই VR, মানে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি-তে শ্যুট করছি। হলিউড যদিও এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ‘লায়ন কিং’, ‘জঙ্গল বুক’-এর মতো ছবি বানিয়েছে। তবে বলিউডে এটাই প্রথম। তা ছাড়াও করোনার জন্য খুব ছোট ইউনিট নিয়ে কাজ করতে হবে। VR-এ শ্যুট করছি বলে সেভাবে রিয়েল  লোকেশন লাগছে না। কম ইউনিটে কাজ সারতে পারবো।

প্রশ্ন- আপনি যা প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, তাতে খরচ বেশি। কোরিওগ্রাফি করেন যখন, গানের দায়িত্ব আপনার। কিন্তু এই ক্ষেত্রে পুরো দায়িত্বটাই আপনার কাঁধে। প্রযোজকের এত লগ্নি, আপনার নার্ভাস লাগছে? দেখুন, আমার নিজের ভিশনের ওপর ভরসা রয়েছে। আর তা ছাড়াও ডান্স ছবি শ্যুট করার জন্য যে ধরনের সেট, যতো ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার লাগে, তা কবে সম্ভব কেউ জানে না। তাই এভাবে শ্যুট করা ছাড়া বিশেষ উপায়ও ছিল না। আর প্রযোজকরা বিশ্বাস করেই আমাকে কাজ করতে দিচ্ছেন। তাই নার্ভাস লাগছে না। তবে শ্যুটিং-এ কীভাবে সব ঠিকঠাক হবে, সেটা ভাবছি।

প্রশ্ন- আচ্ছা, আপনার ছবির অ্যানাউনসমেন্টের পর অমিতাভ বচ্চন থেকে আরম্ভ করে সমস্ত সেলেবরা টুইট করেছিলেন। ইন্ডাস্ট্রি আপনার সঙ্গে আছে। আদিত্য শিল ও নিকিতা দত্তকে নিয়ে ছবি বানাচ্ছেন। আপনার ছবিতে কোনও A লিস্টার নেই কেন?

প্রশ্ন- প্রচুর চেষ্টা করেছিলাম। স্ক্রিপ্ট নিয়ে অনেক তাবড় অভিনেতার অফিসে ছুটে গিয়েছি। কেউ রাজি হননি। সকলেই নিরাপদ থাকতে চান। নতুন কারও সঙ্গে কাজ করা মানে রিস্ক। অভিনয়ও একটা পেশা, সকলে লাভ করতে চান। তাতে ভুল কিছু নেই। আমি ইন্ডাস্ট্রির অনেককে চিনি, তাই বলে কোনও সুযোগ নিতে চাইনি। আমি চেয়েছি চিত্রনাট্য শুনে যে হ্যাঁ বলবেন, তাঁকে নিয়েই ছবি বানাবো। বস্কো একজন সফল কোরিওগ্রাভার ও ছবি বানাতে চাইছে, ওকে সাহায্য করি, এই ভাবনা থেকে কেউ আমার ছবি করুক, আমি চাইনি। এটা আমার যোগ্যতা প্রমাণ করার সময়। নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে, নিশ্চয়ই নামী তারকারা আমার ছবিতে অভিনয় করতে চাইবেন।

প্রশ্ন- বস্কো, আপনার নামের সঙ্গে সিজার ওতপ্রত ভাবে জড়িয়ে। এই ছবির সঙ্গে তিনিও কি যুক্ত? বস্কো-সিজারের নাম কখনও আলাদা হবে না। আমরা সব সময় একসঙ্গে কোরিওগ্রাফি করবো। পরিচালক বস্কো হলেও এই ছবিতেও সিজার কোরিওগ্রাফার হিসেবে থাকছে। আমাদের জুটি ভাঙবে না।

প্রশ্ন- সে তো খুব ভাল কথা। কিন্তু আপনার যাত্রা শুরু হলো কীভাবে? বলিউডে কীভাবে এলেন? আমি আর সিজার একসঙ্গে ফুটবল খেলতাম। ছোটবেলা ভাবতাম ফুটবল প্লেয়ারই হব। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, ফুটবলকে ভারতবর্ষে খুব একটা প্রাধান্য দেওয়া হয় না। পাশাপাশি আমরা ডান্স শো করতে শুরু করলাম। সেখানে নাচের অনেক কদর। প্লেনে করে বিদেশে শো, ভাল হোটেলে থাকা, ভাল খাবার। সেই তুলনায়, ফুটবল খেলতে গেলে কষ্টের শেষ নেই। আমি বা সিজার খেলা চালিয়ে নিয়ে যাইনি। তবে স্পোর্টস খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। মন দিয়ে ডান্স করলাম। স্ট্রাগল করেছি। তারপর চলে এলাম মুম্বইয়ে।

প্রশ্ন- আপনি ও সিজার ফারহা খানের ডান্স ট্রুপে নাচতেন। নিজেরা কোরিগ্রাফার হলেন। বিরাট পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করলেন। জাতীয় পুরস্কার পেলেন। এতোটা সফল হবেন ভেবেছিলেন? কখনও ভাবিনি। এ যেন স্বপ্নের মতো। তবে নিজের ওপর ভরসা ছিল। কাজটা মন দিয়ে করে গিয়েছি। যাঁরা যে কোনও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তাঁদেরকে একটাই পরামর্শ দেব, প্রশংসা কেউ করুক চাই না করুক, নিজের কাজের সঙ্গে অসৎ হবেন না। সাফল্য ঠিক আসবে। জীবন দিয়ে বলছি।

প্রশ্ন- অন্য একটা জিনিস জানতে চাইবো। সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে আপনি কাজ করেছেন। ওঁর মৃত্যু রহস্য নিয়ে কী বলবেন? আমি শুধু চাই ন্যায় বিচার হোক। অপরাধী যেই হোক, সে শাস্তি পাক। আমার বিচার ব্যবস্থার ওপর ভরসা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সুশান্তের মৃত্যু মামলার কিনারা ঠিক হবে।

প্রশ্ন- ‘ছিছোড়ে’-তে আপনি সুশান্তের সঙ্গে কাজ করেছেন। ওটা ওঁর মৃত্যুর আগে শেষ মুক্তি প্রাপ্ত ছবি। কেমন ছিল কাজের অভিজ্ঞতা? সুশান্ত খুব ভাল একজন ডন্সার। ওঁ খুব প্রতিভাবান, পরিশ্রমি, বুদ্ধিমান একজন মানুষ। আমরা সুশান্তকে হারিয়েছি, সেটা আমাদের ক্ষতি।

Published by: Akash Misra
First published: August 13, 2020, 5:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर