৯ বছর বয়সে কেঁদে ফেলেছিলেন 'পথের পাঁচালী' দেখে! আগামী ছবির জন্য ভিক্টরকে বাছলেন ফরাসি পরিচালক

৯ বছর বয়সে কেঁদে ফেলেছিলেন 'পথের পাঁচালী' দেখে! আগামী ছবির জন্য ভিক্টরকে বাছলেন ফরাসি পরিচালক

photo instagram

সত্যজিৎ রায়ের 'অপু ট্রিলজি'কে বস্তুত কালোতীর্ণ শিল্প বলেই মনে করেন ফরাসি পরিচালক ক্লেয়ার ডেনিস।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি : সমসাময়িক ফরাসি চলচ্চিত্রের অন্যতম আপোষহীন চিত্র নির্মাতা, ক্লেয়ার ডেনিস। প্রান্তিক, নির্বাসিত, পরিযায়ী, বিচ্ছিন্ন মানুষের অন্ধকার অধ্যায় বার বার উঠে আসে তাঁর ছবিতে। বেড়ে ওঠার বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছেন বুর্কিনা, ফাসো, ক্যামেরুন বা সেনেগালের মত আফ্রিকান দেশগুলিতে। ফলে প্যারিসের এই ৭৪ বছর বয়সী পরিচালকের দর্শনের পরিধিও অনেকটাই ব্যাপক। ডেনিসের সিনেমায় ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক স্তরগুলি যেমন উঠে এসেছে ঠিক তেমনই মানব সম্পর্কের জটিলতা, অপরাধবোধ এবং আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ পেয়েছে তাঁর ছবিতে। জীবন্ত হয়ে উঠেছে বেশ কিছু শক্তিশালী নারী চরিত্র যা বাঘা বাঘা চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকেও কুড়িয়েছেন প্রশংসা।

    এহেন পরিচালককেই মাত্র ৯ বছর বয়সে নাড়িয়ে দিয়েছিল 'অপু ট্রিলজি'। বললেন, 'পথের পাঁচালী' কোনও একটা নির্দিষ্ট বয়সের দর্শকদের জন্য নয়। যে কোনও বয়সেই এই ছবি দেখলে একই অনুভূতি রস সিঞ্চিত হয় মনে। তাই সত্যজিৎ রায়ের 'অপু ট্রিলজি'কে বস্তুত কালোতীর্ণ শিল্প বলেই মনে করেন ফরাসি পরিচালক। তাঁর কথায়, "পথের পাঁচালী আমার অন্তরের গভীরে নাড়া দিয়েছে।" শুধু তাই নয় তাঁর সৃজনশীল অনুপ্রেরণার একটি  বিশ্ব বরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের এই ছবি।

    ২০২১ সালের দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের "বার্ষিক আরব সিনেমা ইনকিউবেশন ইভেন্ট' এর অনলাইন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি হাজির থেকে এমনটাই বললেন ডেনিস। একইসঙ্গে বলেছেন, "আমি যে ছবিগুলি করতে চাই তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিI তবে আমি কি যথেষ্ট শক্তিশালী? ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাওয়া এই সময়ের সঙ্গে যুঝতে পারব? সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। "

    শুধুমাত্র সত্যজিতের শহর বলেই এই শহরের সঙ্গে জুড়ে থাকা সবকিছুই বড় কাছের মনে হয় তাঁর। অকপটে স্বীকার করলেন সেই কারণেই 'ঘরে বাইরে'তে দেখা অভিনেতা ভিক্টর ব্যানার্জিকে তাঁর ছবির জন্য ভাৱতে সময় নেননি ডেনিস। তাঁর সাই ফাই ছবি 'হাই লাইফে'-এর জন্য ভিক্টর ব্যানার্জী কে কাস্ট করেছেন ডেনিস। খুব শিগগিরই শুরু হতে চলেছে কাজ। এই ছবিতে এক ভারতীয় চিকিৎসকের ভূমিকায় দেখা যাবে প্রবীণ অভিনেতাকে।

    ভারতে শ্যুটিংয়ের কথা কখনও কি তাঁর ভাবনায় এসেছে? উত্তরে প্রবীণ ফরাসি পরিচালক বললেন, "আমি যখন ভিক্টরর সাথে দেখা করেছিলাম, তখন আমি তাকে বলেছিলাম যে আমি কলকাতায় তাঁকে দেখতে যাব। তবে এখনও কোনও কারণবশত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে খুব বুড়ো না হয়ে গেলে নিশ্চই যাব।" ভারতে পা রাখতে না পারলেও ইতিমধ্যেই অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে তাঁর কাছে পৌঁছে গিয়েছে 'দার্জিলিং চা'। বললেন, "যখনই এই চায়ে চুমুক দিই, আমি অনুভব করি আমি ভারতেই আছি।"

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published:

    লেটেস্ট খবর