এখন আর ‘উড়নচণ্ডী’ নই , অনেক বেশি পরিনত : সুদীপ্তা

সুদীপ্তা চক্রবর্তী ৷ ছবি সৌজন্যে : ফেসবুক ৷

  • Share this:
    #কলকাতা: সন্ধ্যার দিকে তাঁর সময় চাইতে দুপুরেই হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট করে দিয়েছিলাম ৷ আধঘণ্টার মধ্যে রিপ্লাই এল ‘ওকে’৷ তখন ঘড়িতে রাত আটটা ৷ ফোন করতেই, ওপার থেকে কলারটিউন ভেসে এল-‘‘নাদান পরিন্দে ঘর আজা/ ও নাদান পরিন্দে ঘর আজা’৷ ফোনটা রিসিভ করে ও প্রান্তে থাকা মানুষটা বললেন, ‘‘আধ ঘণ্টা বাদে ফোন করলে কি খুব অসুবিধে হবে?’’ দৃঢ় কন্ঠস্বরের পাশাপাশি মিশে যাচ্ছিল চলন্ত গাড়ির ঝাঁঝালো শব্দ ৷ এক ফোঁটা সময় ব্যয় না করে বললাম, না না ৷ আমি আধ ঘণ্টা বাদে কল করছি ৷ খানিক অপেক্ষা ৷ আধ ঘণ্টা বাদে আবার নম্বর ডায়াল করলাম ৷ একবার রিং হয়ে কেটে গেল ৷ পরেরবার ডায়াল করতেই ঝট করে রিসিভ করলেন ফোনটা ৷ তখন ফোনের অন্য প্রান্তে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী ৷ কথা শুরু হল...

    • ৩০ দিনে তোমার তিনটি ছবি-‘শব্দ কল্প দ্রুম’,‘ পিউপা’ আর ‘উড়নচণ্ডী’ মুক্তি পাচ্ছে। তিনটি আলাদা লুকে বড় পর্দায় আসছ তুমি। কেমন লাগছে এই অভিজ্ঞতা ?

    এটা তো আমার হাতে ছিল না ৷ হয়ে গিয়েছে ৷ আমার ভাগ্যে ছিল হয়তো ৷ কেননা একটা ছবির শ্যুটিং হয়ে গিয়েছে পাঁচ বছর আগে ৷ একটি হয়েছে বছর দেড়েক আগে ৷ আর অন্যটি হয়েছে পাঁচ মাস আগে ৷ যদি এক সময় সবক’টা ছবি রিলিজ করে আমি কী করব? তবে হ্যাঁ এই তিনটি ছবিতে দর্শকরা কিন্তু অন্য অন্যভাবে পাবে বলেই আমি মনে করি ৷ তবে, আগে এমন ঘটনা ঘটেনি ৷ এবার ঘটে গেল ৷ আগে অনেকটা সময় হাতে কোনও ছবি ছিল না ৷ সেটাও যেমন সত্যি ৷ আবার এটাও একটা সত্যি ৷

    • এগুলোর মধ্যে কোনটা একটু বেশি কাছের?

    (হাসি)...কেন এগুলোর মধ্যে অভিষেকের ছবি রয়েছে বলে এমন প্রশ্ন তো ? আমি তো অভিনেত্রী ৷ আমার কাছে সবক’টা ছবিই সমান ৷ সবগুলোতেই সমানভাবে এফর্ট দিয়েছি ৷ একইভাবে প্রমোট করেছি ৷ নিজের মতো করে ৷

    36565373_1950610274949263_2283515248063283200_n

    ‘শব্দকল্পদ্রুম’ ছবিতে নয়নার চরিত্রে সুদীপ্তা চক্রবর্তী ৷ ছবি: ফেসবুকের সৌজন্যে ৷

    • আচ্ছা ছবির সঙ্গে যুক্ত একজন মানুষ বলছিলেন, স্ত্রিপ্ট পড়া থেকে শুরু করে ডাবিংয়েই একটা ছবির অভিনেত্রী হিসেবে সুদীপ্তার কাজ শেষ হয় না ৷ ও পরেও ছবির জন্য প্রমোট করতে থাকে ভীষণভাবে ৷

    কষ্ট করে একটা ছবি বানানো হয় ৷ যত মানুষ দেখবেন, ততই তো ভাল ৷ তাই আমার দিক থেকে যতোটা সম্ভব প্রমোশন করি ৷ এমনও হয়, কোনও কোনও ছবির ক্ষেত্রে প্রমোশনের জন্য একটা টাকাও দেওয়া হয় না ৷ পোশাক, মেকআপ, যাতায়াত ভাড়া সব দিয়ে নিজেকেই ছবির প্রমোশন করতে হয় ৷ নিজের দিক থেকে যতটা সম্ভব করি ৷

    • ছবিতে এই প্রথমবার পরিচালকের দায়িত্ব সামলালেন অভিষেক ৷ তা তুমি কি কোনও টিপস দিয়েছিলে?

    না ৷ পরিচালক হিসেবে ও যথেষ্ট পরিণত ৷ ও কাজটা ভাল বোঝে ৷ এই ছবিটা করতে গিয়ে অন্যরকম অভিজ্ঞতা হল ৷ আসলে ‘উড়নচণ্ডী’তে একটা দৃশ্য এমন নেই, যা ইনডোরে শ্যুট হয়েছে ৷ গোটাটাই হয়েছে আউটডোরে ৷ ‘বেসিক্যালি ইটস আ রোড মুভি’৷

    • বাড়িতেও তা হলে পরিচালক আর অভিনেত্রী! ইক্যুয়েশন কি বদলাচ্ছে?

    ওঁর তো এটা প্রথম মুভি ৷ একটু চাপে আছে ৷ কিন্তু অভিষেক তো পরিচালকই ৷ অনেকদিন ধরে অ্যাডফিল্ম বানায় ৷ আসলে ছবিতে পরিচালনার দায়িত্ব না সামলালে, এখনও মানুষ পরিচালক বলে কাউকে ভাবতে পারে না ৷ এ দেশে কত ভাল ভাল অ্যাড ফিল্ম বানান এমন পরিচালক রয়েছেন ৷ কিন্তু বলো তো ক’জন তাঁদের নাম জানেন ? আসলে কেউ একটা ছবিতে পরিচালনা করেই পরিচালকের তকমা পেয়ে যান ৷

    • এতদিন তো বাড়ির ফ্লোরে অভিষেককে বর হিসেবে পেয়েছো ৷ শ্যুটিং স্পটে পরিচালক অভিষেক সাহা ঠিক কেমন?

    অভিষেক ভীষণ ঠান্ডা মাথার মানুষ ৷ শান্তভাবে নিজের কাজটা করে ৷ তবে একটা বিষয়, ও সবার বক্তব্য শোনে ৷ সবার কথার গুরুত্ব দেয় ৷ ইউনিটের সবার ভাল লাগা, খারাপ লাগা শুনে কাজটা করে ৷ মোদ্দা কথা সবাইকে নিয়ে কাজ করে ৷

    s_2

    স্বামী তথা পরিচালক অভিষেক সাহা’র সঙ্গে ৷ ছবি: ফেসবুকের সৌজন্যে ৷

    • অনেকেই বলেন আগের চেয়ে তুমি অনেক বেশি পরিনত ৷ সেটা কি ২০১৪ সালে অভিষেক দা’র সঙ্গে দেখা হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তটার জন্য?

    অভিষেকের সঙ্গে ২০১৪ সালে বিয়েটা হয় ঠিকই ৷ তবে, ২০১৫-র শেষদিক থেকেই অনেকটা পরিনত হতে শুরু করি ৷ এখন আর ‘উড়নচণ্ডী’ নই আমি ৷

    • মেয়ে হওয়ার পর থেকে ?

    একদমই তাই ৷

    • বাড়ির বাইরে গেলে চা খাও ?

    কেন বলো তো!

    • না, অভিষেক এত ভাল চা বানান ৷ তারপর অন্যের হাতের চা খেতে ভাল লাগে ?

    এখন তো চা বানিয়ে খাওয়াই না..(হাসি) ৷ ছবি নিয়েই তিনি ব্যস্ত ৷ এই তো সেদিন নিজেই বললাম-একটু চা করে খাওয়াও ৷ খাওয়ালো না ..(হাসি) ৷

    3

    মেয়ে ও স্বামীর সঙ্গে সুদীপ্তা ৷ ছবি: ফেসবুকের সৌজন্যে ৷

    • এখন তোমার সুখের সংসার, হাসি-খুশিতে সময় কাটছে ৷ তবে জীবনের একটা সময় তো কিছুটাদিন এলোমেলো কেটেছে...

    তা কেটেছে ৷ প্রায় সাড়ে নয় বছর কষ্টে ভুগেছি ৷ আর সেই সময়টা ফিরে পেতে চাই না ৷

    • সেই সময়টা তো মাছই ছিল তোমার সঙ্গী ?

    হ্যাঁ ৷ আমার বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়াম রয়েছে ৷ এখন তো প্রচুর মাছ রয়েছে ৷ তাঁদের নিয়ে প্রচুর যত্ন নিতে হয় ৷ অনেক কাণ্ড করতে হয় তাদের জন্য ৷ তবে সেই সময়টা ওরাই আমাকে সঙ্গ দিয়েছে ৷ বাড়িতে ফিরে আসার কারণ খুঁজে পেতাম ওদের জন্যই ৷ ঘরে ঢুকেই দেখতাম, ওরা আমার দিকে তাকিয়ে ৷ তারপর আমি যেভাবে যেভাবে যেতাম, ওরা আমার ফলো করত ৷ ওদের সামনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতাম ৷ মন খারাপ নিমেষেই উধাও হয়ে যেত ৷

    • আচ্ছা, উইকিপিডিয়াতে যদি বাংলায় ‘সুদীপ্তা চক্রবর্তী’ লেখা হয়, তবে এখনও তোমার দাম্পত্যসঙ্গী হিসেবে লেখা রয়েছে রাজেশ শর্মার নাম...

    উইকিপিডিয়া আপডেটেড নয় ৷ আমার জীবনটা অনেকটাই আপডেটেড ৷
    First published: