corona virus btn
corona virus btn
Loading

Exclusive: 'সব ছবি 'মাচিস' হতে পারে না': চন্দ্রচূড় সিং

Exclusive: 'সব ছবি 'মাচিস' হতে পারে না': চন্দ্রচূড় সিং

চন্দ্রচূড় সিং। নামটা বলতেই, সামনে ভেসে ওঠে, বেশ কয়েকটা ছবি। 'মাচিস', 'কেয়া কেহেনা', 'জোশ', পরপর ছবিগুলোর স্লাইড শো দেখতে পাই আমরা। হঠাৎ কোনো অজানা কারণে হারিয়ে গেলেন তিনি।

  • Share this:

#মুম্বই: চন্দ্রচূড় সিং। নামটা বলতেই, সামনে ভেসে ওঠে, বেশ কয়েকটা ছবি। 'মাচিস', 'কেয়া কেহেনা', 'জোশ', পরপর ছবিগুলোর স্লাইড শো  দেখতে পাই আমরা। হঠাৎ কোনো অজানা কারণে হারিয়ে গেলেন তিনি। 'জিলা গাজিয়াবাদ', 'দ্য রিলাকটেন্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট' -এর মতো কিছু ছবিতে কয়েক ঝলক দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু কেন হারিয়ে যেতে হলো এই 'চপ্পা চপ্পা' স্টারকে? তাঁর কামব্যাক ওয়েব সিরিজ 'আরিয়া' মুক্তির আগে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলো নিউজ 18 বাংলা।

 প্রশ্ন- কামব্যাক শব্দটা ভীষণ ফ্যাশনেবল। ফিরে এসেছেন সেটা খুব ভালো, কিন্তু এতদিন ছবি করলেন না কেন?

কামব্যাক শব্দটা সত্যি ফ্যাশনেবল, কিন্তু তার পিছনে লুকিয়ে থাকা বাস্তব ভীষণ কঠিন। যে ধরনের চিত্রনাট্য, চরিত্র খুঁজছিলাম তেমন কিছুই পাচ্ছিলাম না। অপেক্ষা করছিলাম। মনে হয়েছিল, একদিন ঠিক ডাক আসবে।

প্রশ্ন- তেমন ভাবেই 'আরিয়া'-তে অভিনয় করার প্রস্তাব পেলেন। এই শো-এর চিত্রনাট্যে এমন কী ছিল যেটা পরে মনে হলে, এটাই সেই চরিত্র যার জন্য অপেক্ষা করছিলেন?

এটা রাম মাধবানির শো, ওঁর 'নির্জা' দারুণ লেগেছে আমার। রামের জন্য একটা আকর্ষণ ছিল। প্রস্তাব আসে, লুক টেস্ট হয়। তারপর মুম্বাইয়ে এসে ওয়ার্কশপ করি। আমার স্ত্রীয়ের ভূমিকায় সুস্মিতা অভিনয় করছেন। ওঁর সঙ্গে বহু বছর আগে একবার কাজ করার কথা হয়েছিল। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে, এই চরিত্রে অনেক সম্পদ রয়েছে। বিভিন্ন শেড দেখানোর স্কোপ রয়েছে। ওয়েব বলে ক্যারেক্টর নির্মাণ করার সময় বেশি। আমার ধারণা, এই শো নতুন করে আমার জন্য অনেক দরজা খুলে দেবে।

প্রশ্ন- 'আরিয়া' দিয়ে সুস্মিতা সেনও কামব্যাক করছেন। তিনি তো আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

সুস্মিতা দারুণ একজন অভিনেত্রী। ও খুব ভাল মানুষও।

প্রশ্ন- কিন্তু এই শো তো সুস্মিতাকে ঘিরে, অন্তত ট্রেলর দেখে তাই মনে হয়, নিজের ছাপ ফেলবেন কী করে, এই কথা আপনাকে ভাবায়?

সুস্মিতার অভিনয় করার অনেক জায়গা আছে ঠিকই। তবে এখন তো, বিশেষ করে ওয়েব-এ একজনকে কেন্দ্র করে গল্প লেখা হয় না। 'আরিয়া'-তে আমাকে যেভাবে দেখবেন, সেভাবে আগে কখনো কেউ দেখেননি। শ্যুটিং চলাকালীন মনে হয়েছে আমরা ভাল কিছু বানাচ্ছি। তা ছাড়াও আমি দুর্দান্ত সব অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করেছি। তব্বু, ঐশ্বর্য, এখন সুস্মিতা, সকলেই দক্ষ অভিনেত্রী। 'মাচিস'- এর সময় এমনটা মনে হয়েছিল।

প্রশ্ন- চন্দ্রচূড় সিং-এর সঙ্গে কথা হবে আর 'মাচিস' বা গুলজার সাহাবের কথা হবে না, সেটা হতে পারে না। এই কাল্ট ছবি ও কাল জয়ী পরিচালকের ব্যাপারে কী বলবেন?

গুলজারজির ব্যাপারে কী বলব, আমি ভাগ্যবান আমি ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। উনি খুব ভালো মানুষ। সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক থাকতে জানেন। তাই তো আজও কাজ করছেন। উনি খুব সৎ মানুষ, নাহলে এমন সব সৃষ্টি করতে পারতেন না। 'মাচিস'-এর, পর আমি এতো ইতিবাচক পরিবেশে কখনো কাজ করিনি। 'মাচিস'-এর টিম ওয়ার্ক দারুণ ছিল। নিজের দৃশ্য না থাকলেও সহ অভিনেতাকে কিউ দেওয়ার জন্য ফ্লোরে থাকতে হতো। নিরাপত্তাহীনতা, প্রতিযোগিতা কিছুই ছিল না। শ্যুটিং চলাকালীন, ছবি সফল হবে কিনা ভাবিনি। মনে হয়েছিল ভাল একটা কাজের অংশ হয়েছি।

প্রশ্ন- গুলজার সাহাব কী সিন নিজে অভিনয় করে দেখাতেন, না রিহার্সাল করতেন, অভিনেতাদেরকে কীভাবে বোঝাতেন তিনি?

উনি মহড়া দেওয়া একেবারে পছন্দ করতেন না। চিত্রনাট্য পড়তে বলতেন। শটের ১০-১৫ মিনিট অগে, সিনটা পরে শোনাতেন। তাতেই আমরা সিনের জন্য কোন আবেগ প্রয়োজন বুঝে যেতাম। স্বতস্ফূর্ততা পছন্দ করতেন গুলজারজি। রিহার্সালে আবেগ নষ্ট না করে সিনের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে বলতেন।

প্রশ্ন- নব্বইয়ের দশকে যখন কাজ শুরু করেছিলেন, তখন আর এখনকার কাজ করার ধরনের মধ্যে বিস্তর ফারাক। এই যে বললেন লুক টেস্ট, ওয়ার্কশপ এসব কিছুই হতো না হয়তো, নতুন ভাবে কাজ করতে কেমন লাগলো?

আগের কাজ করার ধরন খারাপ ছিল না। তবে এখন পেশাগত ভাবে হয়, সেটা তখন হতো না। তার চেয়েও আমার মনে হয় মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। এখন অভিনেতারা টাইপকাস্ট হন না। আগে যেটা হতো।

প্রশ্ন- আপনিও হয়েছিলেন, তাই না?

হ্যাঁ। অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই। 'দাগ' আর 'আমদানি অঠান্নি খরচা রূপাইয়া' বাদ দিলে, বলিউডের ভাল, পীড়িত ছেলের ছিলাম আমি। আসলে আপনি, শুধু আপনি কেন সকলেই 'মাচিস' দিয়ে আমাকে কানেক্ট করেন। এই ছবি, গুলজারজি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু 'মাচিস'-এর পর, আমার ওপর কী চাপ ছিল বলে বোঝাতে পারব না। দেখুন সব ছবি 'মাচিস' হতে পারে না। সেই সময় বলিউডে এত বেশি ভাল ছবি হতো না। আমি যাই করেছি সেটা 'মাচিস' এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আমিও অনেক ভুল চিত্রনাট্য চয়ন করেছি। তা ছাড়াও গোয়ায় ওয়াটার স্পোর্টস করতে গিয়ে বিশাল দুর্ঘটনা ঘটে। শোল্ডার ডিসলকাশন হয়ে যায়, ওজন বেড়ে যায়। সব চরিত্রে আমাকে আর মানায় না। আক্ষেপ করে কী আর হবে। অতীতের চেয়ে আমি আগামীতে বেশি বিশ্বাসী।

প্রশ্ন- যখন সেন্টার ফ্রেম ছেড়ে এক পাশে চলে যেতে হয় খারাপ লাগে। তাই না?

দেখুন সেই সময় অনেক ছবির কথা হয়েছে কিন্তু ফ্লোরে যায়নি। ফ্লোরে গিয়েছে তো মাঝ রাস্তায় শুট আটকে গিয়েছে। শ্যুটিং শেষ হয়েছে কিন্তু মুক্তি পায়নি। আমি শুধু অভিনয়ই করতে চেয়েছি। সময় তখন আমার ছিল না। এই প্রজন্মের অভিনেতা হলে হয়তো সফল হতে পারতাম। তবে মাল্টিস্টার ছবিতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি না। সেভাবে বলতে গেলে 'মাচিস'-ও মাল্টিস্টারার ছিল।

প্রশ্ন- এত দিন ধৈর্য ধরে রাখা মুশকিল ছিল?

সৃজনশীল জিনিসের মধ্যে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি গান গাই। ছবিতেও গেয়েছি। রেওয়াজ করি। অভিনয়ের দিক থেকে বলবো হোমওয়ার্ক করে গিয়েছি, যেদিন ক্লাসওয়ার্ক পাবো, যাতে প্রথম হতে পারি।

Published by: Akash Misra
First published: June 10, 2020, 9:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर