corona virus btn
corona virus btn
Loading

EXCLUSIVE: 'শেষ পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি পৌঁছনো পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাব'- সোনু সুদ

EXCLUSIVE: 'শেষ পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি পৌঁছনো পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাব'- সোনু সুদ

বাস্তব জীবনে কেমন রোল রিভার্সাল হয়ে গেল। রিলের খলনায়ক হয়ে উঠলেন বাস্তবের রবিন হুড। সোনু সুদ। মঙ্গলবার শ্রমিক বোঝাই বাস ছাড়ার ঠিক আগে নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে কথা বললেন সোনু।

  • Share this:

দবঙ্গ ছবিতে তিনি ছিলেন ছেদি সিং, আর সলমন রবিন হুড পাণ্ডে। বাস্তব জীবনে কেমন রোল রিভার্সাল হয়ে গেল। রিলের খলনায়ক হয়ে উঠলেন বাস্তবের রবিন হুড। সোনু সুদ। হাজারো-হাজারো পরিযায়ী শ্রমিককে বাড়ি ফেরানোর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার শ্রমিক বোঝাই বাস ছাড়ার ঠিক আগে নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে কথা বললেন সোনু।

প্রঃ আপনি তো গোটা দেশের নায়ক হয়ে উঠেছেন...

প্রশংসা পাব ভেবে কিছু করিনি। বিপদের সময় আমি, আপনি সকলে তো বাড়ি ফিরতেই চাই, তাই না? পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি পৌঁছনো প্রয়োজন মনে হল, সেটাই করছি।

প্রঃ অনেকেই সাধ্যমতো হতভাগ্য মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আপনার সহকর্মীরাও করেছেন। রিলিফ ফান্ডে অর্থিক সাহায্য না করে, শ্রমিকদের বাড়ি পাঠানোর কথা ভাবলেন কেন?

লকডাউনের পর একদিন বাড়িতে টিভি দেখছিলাম। দেখলাম পরিযায়ী শ্রমিকরা হাইওয়ে দিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, খালি পেটে পথ চলছেন। আর আমি ঠান্ডা ঘরে বসে রয়েছি। নিজেকে খুব ছোট লাগল। ঠিক করলাম ওঁদের যেমন ভাবেই হোক বাড়ি ফেরাব।

প্রঃ তারপর কী করলেন?

দহিস্বর, থানে এলাকায় প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিকরা আটকে ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে গিয়ে কথা বললাম। বেরিয়ে পড়তে না করলাম। তাঁদের বোঝানের চেষ্টা করলাম। বললাম আমাকে দু’টো দিন সময় দিন। আমি আপনাদের ফেরাব। বেগ পেতে হয়েছিল বোঝাতে। শ্রমিকদের অবস্থা, তাঁদের বাচ্চাদের বিষন্ন মুখ দেখে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলাম। প্রতিজ্ঞা করলাম এই কাজটা করবই।

প্রঃ তাঁদের বোঝালেন মানলাম, কিন্তু ভিন রাজ্যে বাসে করে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাঠাবেন, সে তো কঠিন কাজ। প্রত্যেকটা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এতো কিছু করলেন কীভাবে?

(হেসে)ভারতবর্ষে বলিউডের অভিনেতা হওয়ার কিছু সুবিধে রয়েছে, সেটা তো জানেন। কথা বললাম কর্ণাটক সরকাররে সঙ্গে। মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আগেই কথা বলেছিলাম। ৩৫০ কর্ণাটকের শ্রমিককে বাড়ি পাঠালাম। এটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিল। তারপর মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করলেন। আমিও তাঁদের বাড়ি পাঠাতে থাকি।

Image: Instagram Image: Instagram

প্রঃ কঠিন ছিল কাজটা?

কঠিনের চেয়ে বলব ধৈর্যের কাজ। একদম গ্রাসরুট লেভেল থেকে বড় আধিকারিক, সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। মেডিক্যাল টিমের ব্যবস্থা করেছি। শ্রমিকদের খাওয়া-দাওয়া, তঁদের থাকার জায়গা, রাস্তায় খাবার জন্য শুকনো খাবার, অনেক ছোট-খাটো জিনিস মাথায় রাখতে হয়েছে। ঈশ্বরের আর্শীবাদে, এখনও পর্যন্ত দশ হাজার মানুষকে বাড়ি পৌঁছতে পেরেছি। পথ চলা এখনও বাকি রয়েছে। অনেক বার মনে হয়েছে এবার মেজাজ হারাবো। নিজেকে কমপোসড রাখা, ওটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।

প্রঃ কোন কোন রাজ্যে শ্রমিক বোঝাই বাস পাঠাতে পেরেছেন?

কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থানেও শ্রমিকদের বাড়ি পাঠিয়েছি। 

প্রঃ রাজ্যগুলোর কাছে যখন শ্রমিক ফেরানো নিয়ে কথা বলতে গেলেন তাঁরা কোনও আপত্তি করেনি?

কোবিড 19-এর মতো মারাত্মক একটা রোগ। আপত্তি করাটাই স্বাভাবিক। বোঝাতে হয়েছে। আমরা যে সব রকম মেডিক্যাল প্রিকশন নিয়ে কাজটা করছি সেটা দেখালাম, ওঁরা মেনে নিলেন। তামিলনাডু সঙ্গে কথা চলছে। তেলেঙ্গনা সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে চাইছেন না। তবে আমি হাল ছাড়ব না। আমার মনে হয়ে ঈশ্বর আমাকে বেছে নিয়েছেন এই কাজটা করার জন্য, না হলে সব কিছু এতো সহজ ভাবে হতো না।

প্রঃ প্রতিদিন শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, কাজটা সামান জটিল হচ্ছে নিশ্চয়ই?

ভীষণ চ্যালেঞ্জিং বিষয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যোগাযোগ করছেন। এতগুলো মানুষের জীবনের প্রশ্ন, কতোটা দায়িত্ব বলে বোঝাতে পারব না।

প্রঃ একা সামলাচ্ছেন কী করে?

একা কী সামলানো সম্ভব। আমার পুরো পরিবার এই কর্মকাণ্ডে যোগ দিয়েছে। কাদের কোথায় পাঠাতে হবে, কাদের কী প্রয়োজন, এই তালিকা বানানোর দায়িত্ব আমার স্ত্রীয়ের। আমার এক বান্ধবী মিকি, ওঁর রেস্তোরাঁর ব্যবসা, খাবারের দিকটা ও অনেকটাই সামলাচ্ছে। আমার চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পঙ্কজ দিনরাত কাজ করছে। আমরা একটা টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর তৈরি করেছি। প্রতিদিন একটু একটু করে আমার টিম বড় হয়ে চলেছে। অনেকেই নিজে থেকে এগিয়ে এসেছেন। কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ ওষুধ দিচ্ছেন, কেউ বাস প্রোভাইড করছেন। প্রচুর সাহায্য পাচ্ছি। পুরোটাই টিম ওয়ার্ক।

প্রঃ ডাক্তারদের জন্যও তো থাকার ব্যবস্থা করেছেন..

হ্যাঁ, জুহু-তে আমার একটা হোটেল রয়েছে, সেখানে চিকিৎসকদের থাকার ব্যবস্থা করেছি। দূরে থাকেন অনেকেই। হাসপাতাল থেকে আমার হোটেলে এসে, খাওয়া-দাওয়া সেরে খানিক বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজে ফেরেন। ওঁরাই তো আসল হিরো। আমার সীমিত ক্ষমতায় ওঁদের জন্য যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করছি।

প্রঃ গোটা দেশ ধন্য ধন্য করবে, ভেবেছিলেন কখনও?

সত্যি কথা বলতে একবারের জন্যও ভাবিনি। সাধারণ মানুষ আশীর্বাদ করছেন, এটা সবচেয়ে বড় পাওনা। শ্রমিকরা বাড়ি পৌঁছে, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলে পাঠান, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। জানেন এর জন্যই রোজ অপেক্ষা করে থাকি।

প্রঃ আপনার মূর্তি তৈরি হচ্ছে, কেমন লাগছে?

আমি কোনও জাতীয় নায়ক নই। আমার নামে মূর্তি হবে, আমি এর যোগ্য নই। মূর্তি বানানোর টাকা যদি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কাজে লাগানো হয়, তাহলে বেশি খুশি হবো।

প্রঃ সহকর্মীরা তো আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ...

বলিউড খুবই সহমর্মি। গসিপের পাতায় যা পড়েন সব সত্যি নয়। ফারহা খান, রোজ আমার ফোন করে খবর নেন। শ্রমিকদের জন্য পানীয় জল পাঠান। অজয় ভাই (অজয় দেবগণ) সব সময় পাশে থাকেন, বলেন কোনও প্রয়োজন হলে বলতে। ফিল্ম ফ্যাটারনিটি একটা পরিবারের মতো।

প্রঃ কাজ চালিয়ে যাবেন?

শেষ পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি পৌঁছনো পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাব। সবে তো পথ চলা শুরু করেছি। মাইলস টু গো।

Arunima Dey

Published by: Elina Datta
First published: May 27, 2020, 7:16 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर