corona virus btn
corona virus btn
Loading

পৃথিবীজুড়ে লকডাউন ! সুরের দরজা খুলছে বাংলা ব্যান্ড পৃথিবী !

পৃথিবীজুড়ে লকডাউন ! সুরের দরজা খুলছে বাংলা ব্যান্ড পৃথিবী !

পৃথিবী যে ধরনের মিউজিক করে তার থেকে অনেকটাই আলাদা এই গান।

  • Share this:

#কলকাতা: চার দেয়ালে বন্দী শহর। ঘরবন্দী জীবন। আর তার মধ্যেই সৃষ্টির নেশায় বুঁদ শিল্পীরা। বাংলা ব্যান্ড পৃথিবীও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। ডিসেম্বরের শেষে নতুন লাইন আপে পৃথিবী আসার এক মাসের মধ্যেই মুক্তি পেয়েছিল তাদের নতুন গান 'মুক্তি'। তার একমাস পরেই মুক্তি পেয়েছে লকডাউন নিয়ে তাদের নতুন গান 'চার দেয়ালের শহর'। কথা ও সুর পৃথিবীর ফ্রন্ট ম্যান কৌশিক চক্রবর্তীর। নববর্ষেই  কৌশিকের গলায় সামনে এল লালন ফকিরের গান 'মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি'। মানুষের জন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা এই সময়ে তুলে ধরতে চেয়েছেন কৌশিক। তাই বেছে নিয়েছেন লালনের এই গান।

কৌশিক জানিয়েছেন যে এপ্রিল মাসে পৃথিবীর নতুন সিঙ্গল বেরোনোর কথা ছিল, রেকর্ডিং করাই ছিল, মিউজিক ভিডিও শুট করার জন্য তাদের যাওয়ার কথা ছিল পাহাড়ে। স্বভাবতই  ফ্লাইট বাতিল, হোটেল বুকিং বাতিল হয়ে যাওয়ায় মুষরে পড়েছিল টিম পৃথিবী। কৌশিকের কথায়, 'এমনিতেই লকডাউন। ব্যান্ড ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে তৈরি হওয়া পৃথিবী-র রিহার্সাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সবমিলিয়ে মন খারাপ। সঙ্গে বৃদ্ধ বাবা মা ও সন্তান কে নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে।  চিন্তা হচ্ছিল। কিন্তু কীভাবে প্রকাশ করব বুঝতে পারছিলাম না। লকডাউন হাওয়ার দুই-তিনদিন পর মনে আছে গল্পের বই পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে মনে হল  আমি ও আমার ব্যান্ডের প্রত্যেকেই গৃহবন্দী দিন কাটাচ্ছি, নিজেদের মতন করে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রথম ৭-৮ দিন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা ছুটির মতো  ভালো লাগলেও, পরে আর ভালো লাগছে না। কোনও এক জায়গা থেকে আমার গল্প আর বাকি পাঁচ জনের গল্পই। সেটা কোথাও খাতা বন্দি করার দরকার ছিল। দরকার ছিল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। সেটাই চার দেয়ালের শহর তৈরির একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল। '

গানের মাধ্যমে একটা পজিটিভ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে পৃথিবী। কৌশিকের দাবি, শুধু ভয়ের ছবি নয়, ভালো জিনিস দেখানোর চেষ্টা ও করেছেন তাঁরা।  সহজাতভাবেই গানটা লিখেছেন তিনি।

' চার দেয়ালে বন্দী আমার শহর

ঘুমিয়ে পড়েছে চেনা রাস্তার মোড়

বিষম অসুখে হঠাৎ এল এই অবসর,

কেটেছে নিঃসঙ্গতায় ছুঁতে না পাওয়ার যন্ত্রণায় মুখ ঢেকেছে এ শহর

কাটে রাতভোর, ব্যস্ততায়

চোখে ঘুম নেই তাদেরও

যারা আলো জ্বেলে রাখে এ শরীরে

বার বার হাত ধুয়ে নিতে হবে, আলো জ্বালাতেই চার দেয়ালে বন্দী সময় ,

বন্দী  এ শহর।

পৃথিবীর নতুন লাইন আপে কৌশিকের সঙ্গে রয়েছেন অরুণাংশু ,দীপ, অনিরুদ্ধ, দীপায়ন, ও দেবাংশু। ব্যান্ড ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে কৌশিকের স্ত্রী ঈশিতার। প্রত্যেকেই বাড়িতে বসেই অডিও এবং ভিডিও রেকর্ড করেছেন । যেটা তাদের কাছে নতুন এক অভিজ্ঞতা। এই গানের সাউন্ড, পরিচিত পৃথিবীর মত নয় কেন ? সে প্রশ্নে কৌশিকের উত্তর, 'নতুন লাইন আপ তৈরি করার পর থেকেই একটু  পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি। পরিবর্তন না করলে মানুষ আমাদের শোনা বন্ধ করে দেবেন যেখানে ওয়ার্ল্ড মিউজিক এ প্রগ্রেসিভ চেঞ্জ আসছে। চার দেয়ালে বন্দী শহরেও অন্য সাউন্ড তৈরি করার চেষ্টা করেছি। ডিসটরটেড বা জোরালো শব্দ নয়, মেলোডিয়াস হ্যাপি সাউন্ড এর মধ্যে দিয়ে নিয়ে যেতে হবে মানুষকে। পৃথিবী যে ধরনের মিউজিক করে তার থেকে অনেকটাই আলাদা এই গান। '  পুরনো  অ্যালবামের গানগুলো নিয়ে নতুন করে   রিইনকার্নেশন বলে একটি সিরিজ করার প্ল্যান রয়েছে। আর নতুন  গানগুলো নিয়ে বছরের শেষে একটা কম্পাইলেশন করে বার করার প্ল্যান ও রয়েছে তাঁদের।

'হাতে হাত রেখে না চলার এই আয়োজন

ভাবনাটা কাদের এটাই ভাবার আছে প্রয়োজন'

গানের প্রতিটি ছত্রে ই  বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কৌশিক। শৃঙ্খলার বার্তা, সচেতনতার বার্তা। কিন্তু এখনো  রাজ্য বা কেন্দ্র, ডাক্তার, নার্স, জরুরী পরিষেবার  সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের প্রচেষ্টাকে তুড়ি মেরে অনেকেই রাস্তায় বের হচ্ছে লকডাউন মানছেন না। ভিড় করছেন। যা অবাক করেছে তাঁকে। তবুও কৌশিক ও পৃথিবী আশাবাদী মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে আনবেই। সুদিন আসবেই।

DEBAPRIYA DUTTA MAJUMDAR

Published by: Piya Banerjee
First published: April 17, 2020, 7:46 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर