corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘হাতোড়া ত্যাগি আমাকে পরিচিতি দিয়েছে,তবে আরও ভাল কাজের জন্য সময় দিতে হবে’- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

‘হাতোড়া ত্যাগি আমাকে পরিচিতি দিয়েছে,তবে আরও ভাল কাজের জন্য সময় দিতে হবে’- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

যা নিয়ে এত চর্চা সেই নেপোটিজম নিয়ে কেমন যেন একটু অন্যরকমের সাহসী কথা বললেন অভিষেক ৷

  • Share this:

'যে হাত হাতুড়ি চালায়, সেই হাত খুন্তিও নাড়ে'! এভাবে শুরু করাটাই বোধয় ভালো.....পাতাললোক ওয়েব সিরিজে একটি চরিত্র 'হাতোরা ত্যাগি' আর সেটাই যেন রাতারাতি এনে দিল স্টারডাম।বাঙালি ছেলের বহু দিনের পরিশ্রম শেষে সাড়া দিল।অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে চিনল গোটা দেশ।

প্রথম কথা হয় হোয়াটসঅ্যাপে।নিউজ 18 বাংলার হয়ে কথা বলতে, ওপার থেকে লিখে পাঠালেন... ‘দশ মিনিট দেবেন রান্নাটা সেরে কল করছি।’ ফোনটা যখন এলো প্রথমেই জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রান্নাও করেন? "ও ইয়েস, আমি রান্না করতে খুবই ভালোবাসি। স্কুলেই যদি জানতাম যে হোটেল ম্যানেজমেন্ট বলে কিছু আছে তাহলে আমি সেটাই করতাম হয়তো।বাঙালি আর সাউথ ইন্ডিয়ান খাবার। এই দুটোর মধ্যে কমপিটিশন চলতে থাকে।  যদিও আমি সব খাবারই পছন্দ করি।কিন্তু আলু পোস্ত আমার ফার্স্ট লাভ। "হাসতে হাসতে বললেন অভিষেক।

আসলে লকডাউনের মধ্যেই ওয়েব সিরিজের  জোয়ার আর তাতেই 'হাতোরা ত্যাগীর' চরিত্রে নজর কেড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রবাসী বাঙালি হলে যা হয়।বাংলাটা বলতে পারেন কিন্তু পড়াটা এখন বেশ সমস্যার।"এখন তো কিছুই পড়তে পারবনা।কিন্তু ছোটবেলায় দু একটা বই পড়তে পারতাম।ফ্যান্টম কমিক্স পড়তাম আমার পরিষ্কার মনে আছে। বাবা এনে দিতেন আমি পরতাম। বাচ্ছাদের বইগুলো আগে পড়তাম। ছোটবেলাতে নাকতলায় থাকার সময় 'মে ফ্লাওয়ার' স্কুলে পড়তাম। তখন যেটুকু শেখা।" বলেন অভিনেতা।

অভিষেকের আরও একটা দিক আছে। চেন্নাইয়ে যাওয়া বাবার চাকরি সূত্রে।সেখানে  ছিল পড়াশোনা ছাড়াও এক্সট্রাকারিকুলারের ওপরে জোর দেওয়া হত। হকি, ক্রিকেট, ফুটবল জমিয়ে খেলতেন অভিষেক। ক্যারাটেতে  ব্রাউন বেল্ট।পড়াশোনাতে খুব যে খারাপ ছিলেন বলা যায় না।কারণ চেন্নাইয়ের পরে দিল্লিতে এসেও ক্লাস টেন অবধি স্ট্যান্ড থাকতো তার ক্লাসে। সব বিগড়ে গেল ক্লাস ইলেভেনে।সেই নিয়ে প্রশ্ন করায় অভিষেক বলেন, " সবই ঠিক ছিল। কিন্তু বিজ্ঞান আমার দ্বারা হল না।ইকুয়েশন,অঙ্ক  এগুলো আমার একেবারেই ভালোই লাগত না।তার মধ্যে আামার ছিল ডিসলেক্সিয়া।পড়তাম এক লিখতাম আারেক। গল্প বলা বা পড়া আমার অনেক বেশি পছন্দের ছিল।দিল্লিতে অভিনয় নিয়েও কোর্স করি।  কলেজে ইংলিশ নিয়ে পড়েছিলাম।কিরোরি মাল কলেজে যেখানে ৯‌০% ওপরে নম্বর লাগে সেখানে আমি অভিনয়ের কারণে ৬৪% নম্বরে চান্স পেয়ে যাই।"

অভিনয় ভালো জানলেই যে খুব সহজে কাজ পাওয়া যায় না  তা হাড়ে হাড়ে  টের পেয়েছিলেন অভিষেক।তিনি জানান"এখানে তোমাকে লড়ে নিতে হবে। আমি অভিনয় জেনে এখানে এসেছিলাম তাও বেশ কয়েকদিন পর থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম,অভিনয়ের পাশাপাশি এমন কিছু কাজ খুঁজে নিতে হবে যেটা পেট চালাবে।তখনই আমি কাস্টিং ডিরেক্টরের কাজ করতে শুরু করি।তার পাশাপাশি আরোও ভাল অভিনয় কী করে করা যায় চলতে থাকে তার প্র্যাকটিস।জানতাম একদিন ঠিক সাফল্য আসবে। "

কিন্তু ২০০৮ থেকে মুম্বইয়ে। বেশ কয়েকটা কাজের পরেও এতো বছর বাদে রেকগনিশন.... অনেক বেশি সময় লেগে গেল না? অভিনেতা জানান, "এখানে কাজ করতে হলে সময় তো দিতেই হবে...  তুমি যদি মনে করো তোমার আগে থেকে যে এখানে স্ট্রাগল করছে তাঁর থেকে তুমি আগে বেরিয়ে যাবে সেটা হবে না।নিজেকে সব রকমের কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে যাতে রোজগার থেমে না থাকে।অলরাউন্ডার হতে হবে। আমি নিজে অভিনয় জানি তাই আমার কাস্টিং করতে সুবিধে হয়।আমিও কষ্ট করেছি। এতো বছর বাদে সুযোগ এসেছে। হতাশ হলে চলবে না।"

যা নিয়ে এত চর্চা সেই নেপোটিজম নিয়ে কেমন যেন একটু অন্যরকমের সাহসী কথা বললেন অভিষেক ৷ বলেন, "নেপোটিজম নতুন নয়।আগেও ছিল আগামী দিনেও থাকবে।স্টারদের সন্তানদের সুযোগ অনেক বেশি।কিন্তু আমার মধ্যে যদি ট্যালেন্ট থাকে তাহলে ওকে একদিন আমি ধরে ফেলবোই।অ্যাডভান্টেজ নিয়ে কত দূরে দৌড়োবে? কিন্তু নিজের মধ্যে প্রতিভা থাকাটাও দরকার।নিজের অভিনয় এতো তুখোড় করে দাও যাতে কেউ তোমাকে এড়িয়ে না যেতে পারে।"

হাতোরা ত্যাগি'কে যখন পর্দায়  দেখেছেন অভিষেক, নিজে মনে করেন...  "অনেক জায়গায় আরও ভালো অভিনয়ে করতে পারতাম কিন্তু আমি বেশ কয়েকটা জায়গাতে বেশ ভাল আ্যাক্টিং করেছি বলে মনে হয়।"এতদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন অভিষেক।এর মধ্যেই অনেকগুলো ছবির অফার চলে এসেছে তাঁর কাছে। কিন্তু না। সময় নিতে চান তিনি।নিজেকে আরও বড় জায়গাতে নিতে গেলে রয়ে সয়ে বেছে ভেবে কাজ করতে চান অভিনেতা।ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ইতিমধ্যেই 'হেলমেট' ও 'আঁখ মে চোলি' এই দুটো ছবি মুক্তির অপেক্ষায়।

বাংলা ছবি খুব একটা দেখা হয় না, তবে 'মাছের ঝোলে'র ট্রেলার দেখে বেশ ভাল লেগেছিল তাঁর।'ভূতের ভবিষ্যত'ও বেশ পছন্দের। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিও বেশ পছন্দ অভিষেকের। ভালো ছবি ও গল্প থাকলে একশোবার বাংলা ছবিতে রাজি তিনি। সংসারে স্ত্রী টিনা  ও পোষ্য বেড়াল কিরি।তাঁদের নিয়েই এখন জীবন। মা বাবা থাকেন খড়্গপুরে।একমাত্র সন্তান তাঁদের ছেড়ে অভিনয়ের টানে পরে রয়েছেন এত্ত দূরে, তাই বলিউড এক্কেবারে না-পসন্দ অভিষেকের মায়ের।

Sreeparna Dasgupta

Published by: Elina Datta
First published: June 17, 2020, 12:05 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर