corona virus btn
corona virus btn
Loading

হরিণের মতো চোখ ছিল!‌ সুশান্তের বলিউডি উড়ান ধূমকেতুর মতো মিলিয়ে গেল

হরিণের মতো চোখ ছিল!‌ সুশান্তের বলিউডি উড়ান ধূমকেতুর মতো মিলিয়ে গেল
২০১৩ সালে টেলিসিরিয়াল থেকে ‘কাই পো চে’ থেকে শুরু সুশান্ত সিং রাজপুতের বলিউডি উড়ান ৷ তাঁর আগে ‘পবিত্র রিস্তা’ তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেলেও সুশান্ত সিং রাজপুতের রূপোলি পর্দার জার্নি শুরু আরও অনেক অনেক আগে ৷ সে গল্প জানতে হলে ফিরতে হবে ২০০৫ সালে ৷

রবিবার‌। ছুটির দিন। এই দিনটাকেই বেছে নিলেন রাজপুত্র!‌ নিজেকে ছুটি দিলেন চির দিনের মতো। সুশান্ত সিং রাজপুত, প্রয়াত। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ‘‌আলবিদা’‌ বলে স্বেচ্ছায় নিজেকে আড়াল করে নিলেন তিনি। নিউজ 18 বাংলায় দেখে নিন তাঁর সিনে সফর নামা।

  • Share this:

সিনে দুনিয়া কাল্পনিক হলেও তা আরামদায়ক। ‘‌কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল’‌, দিয়ে ছোট পর্দায় পা রাখল পাটনার মিষ্টি ছেলেটা। পড়ায় ফাঁকি দিয়ে যে মেয়েটা মায়ের সঙ্গে লুকিয় লুকিয়ে সিরিয়াল দেখতো , তার মনে দাগ কেটেছিল সেই ছেলেটির নিষ্পাপ হরিণের মতো দু’টো চোখ। তাঁর ঠোঁটের কোণের মিষ্টি হাসি। কিন্তু ধারাবাহিকের গোড়ার দিকেই মৃত্যু হল সেই চরিত্রের। তন্বীদের মন এতোই খারাপ হল, যে চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে গল্পে আত্মা করে ফিরিয়ে আনতে হল সুশান্তকে। আবার তিনি চলে গেলেন। তবে এবার সে যাওয়া স্বেচ্ছায়, কোনও টিআরপি-র দোহাইয়ে নয়। তাই এবার ফিরিয়ে আনার উপায় নেই। কিন্তু পর্দার ঈশান, রঘু, সরফারাজ, মানসুরকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে দর্শকের। জানতে ইচ্ছে করছে, মনে কী এমন কথার পাহাড় চেপে রেখেছিলেন তিনি?‌ যার জন্য অকালে চলে যেতে হল।

ছেলেবেলা থেকেই পড়াশুনোয় তুখোর ছিলেন সুশান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রবেশিকা পরীক্ষায় র‌্যাঙ্কও করেছিলেন তিনি। তবে মনে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন। সেই তাগিদ থেকে শামক দওয়ারের ট্রুপে নাচ শিখতে যাওয়া। তার সঙ্গে থিয়েটার। কয়েকটা বিজ্ঞাপনে অফার পেতে সময় লাগেনি তাঁর। ২০০৮-এ ছোট পর্দায় কাজ শুরু। ‘‌পবিত্র রিস্তা’‌ ধারাবাহিক দিয়ে সকলের মনের ড্রয়িংরুমে ঢুকে পড়েন সুশান্ত।  ছোটপর্দায় বিপুল খ্যাতি মিললেও, সুশান্ত সন্তুষ্ট হলেন না। মাছের চোখের মতো তিনি বলিউডকেই নিজের লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছিলেন। অনেকের অমতেই ‘কাই পো চে’-এর জন্য অডিশন দেন। প্রথম ছবিতেই নজর কাড়েন সুশান্ত। বলিউড বোঝে এই নায়ক লম্বা রেসের ঘোড়া।

‘শুদ্ধ দেশি রোম্যান্স’,‘পিকে’ প্রতিটি ছবিতে সুশান্ত দেখিয়েছেন নিজের ভিন্ন অভিনয় শৈলি। তবে তিনি তাঁক লাগিয়ে দেন দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সি’-তে। হিন্দি ভাষায় বাঙালি ব্যোমকেশ নিয়ে নানা, লোকের নানা মত থাকতেই পারে। তবে সুশান্তের অভিনয় মুগ্ধ করেছিলো দর্শককে। সিনে প্রেমিরা এতেই বেশ চমকে গিয়েছিলেন। তবে পরের ছবিতে যে তিনি আরও চমকে দেবেন সেটা কেউ ভাবতেই পারেননি। মহেন্দ্র সিং ধোনির বায়োপিক। হাঁটা- চলা , শরীরী ভাষা, চুলের ছাঁট,চাহনি ধোনি ও সুশান্তের মধ্যে পার্থক্য করা অসম্ভব। অমিতাভ বচ্চন একবার সুশান্তের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে সব কিছু ঠিক আছে তবে হেলিকপটার শট মারার পর ধোনির সেই তাকানোটা কীভাবে অনুকরণ করলেন তিনি। ‘রাবতা’ ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে বক্স অফিসে। ‘কেদারনাথ’ দিয়ে বাউন্স ব্যাক করেন সুশান্ত। তাঁর পরের ছবি ‘সোনচিড়িয়া’। ভূমি, মনোজ বাজপেয়ীর মতো তাবড় অভিনেতাদের পাশে নিজের ছাপ ফেলেন সুশান্ত। ‘কেদারনাথ’, ‘সোনচিড়িয়া’ দু’টি ছবির শেষে সুশান্তের অভিনীত চরিত্রের মৃত্যুতে দর্শক কষ্ট পান। তখন কেউ ভাবেনি রিল আর রিয়্যাল এক হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।

সুশান্তের শেষ ছবি ‘ছিছোরে’। জীবনযুদ্ধে লড়ে যাওয়া। সাময়িক পরাজয় এলেও হার না মানার বার্তা দেন সুশান্ত। তবে বাস্তবে কেন হার স্বীকার করে চলে গেলেন তিনি? তাঁর মনে‌র কথা শোনার মানুষের অভাব হত না। কাই পো চে.....বলে কেন অচেনা আকাশে উড়ে গেলেন তিনি। সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ARUNIMA DEY

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: June 14, 2020, 9:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर