corona virus btn
corona virus btn
Loading

৭৫-এ অমিতাভ, এখনও তিনিই ‘ওয়ান ম্যান ইন্ডাস্ট্রি’ !

৭৫-এ অমিতাভ, এখনও তিনিই ‘ওয়ান ম্যান ইন্ডাস্ট্রি’ !
Amitabh-Bachchan

পঁচাত্তর, ওটা তো একটা সংখ্যামাত্র। বয়সের বলিরেখা! থোড়াই কেয়ার। অফুরান প্রাণশক্তিতে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রি।

  • Share this:

#মুম্বই: পঁচাত্তর, ওটা তো একটা সংখ্যামাত্র। বয়সের বলিরেখা! থোড়াই কেয়ার। অফুরান প্রাণশক্তিতে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রি। বলা যায় একার কাঁধে। বছরের পর বছর পার হয়ে যায়। পরিচালকদের তাঁর ওপর ভরসা বাড়তে থাকে। এখনও তাঁর বিকল্প এল না মুম্বই ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে। তিনি অমিতাভ বচ্চন।

ফরাসী পরিচালক ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো অমিতাভ বচ্চনের অভিনয় দেখে বলেছিলেন, ওয়ান ম্যান ইন্ড্রাস্ট্রি। তাঁকে দেখতে দেখতে অনেক সময় মনে হয়, সত্যিই কি রক্ত মাংসে তৈরি এই অভিনেতা। এখনও এই টেনাসিটি, এই ডেডিকেশন এই ডিসিপ্লিন কী ভাবে একজন মানুষের মজ্জার মধ্যে ঢুকে পড়তে পারে।

একশ বছরেরও বেশী বয়সী ভারতীয় সিনেমা কম নায়ক দেখেনি। দেখেছে অশোক কুমারের মতো সুপারহিরোকে। একসময়ের দেব আনন্দের ক্যারিশমা মুগ্ধ করেছে আসমুদ্র হিমাচল। রাজেশ খান্নার স্টারডমের আঁচে পুড়েছে দর্শক। দিলীপ কুমারের আলটিমেট মেথড অ্যাকটিংয়ে বুঁদ হয়েছে। কিন্তু অমিতাভ যেন এই সমস্ত অভিনেতাদের মিশেল। অনেকটা জলের মতো যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন, সেই পাত্রের আকারই ধারণ করবেন।

amitabh-zanjeer_100112033825

শেরউড কলেজে পড়া এক তরুণের মাথায় হঠাৎই ভর করল অভিনেতা হওয়ার ভূত। কুড়ি বছর বয়সে কলকাতায় পা রাখা। অল ইন্ডিয়া রেডিওর অডিশনে ব্যর্থ। কারণ, হিসেবে বলা হল, তাঁর ভয়েস টোন নাকি শ্রোতারা পছন্দ করবেন না। কে জানতো, একদিন ওই ব্যারিটোন ভয়েসেই কেঁপে উঠবে আসমুদ্র হিমাচল। একটা সাদামাটা ছিমছাম চাকরি ওই ছ ফুট লম্বা স্বপ্ন দেখা যুবকের সঙ্গে কিছুতেই যেন খাপ খাচ্ছিল না। শিকে ছিঁড়ল উনসত্তর সালে। সাত হিন্দুস্থানি ছবিতে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো। কেউ বাজি রাখেনি, কেই স্বপ্নেও ভাবেনি, এই ছেলেটি বলিউডের অমিত বিক্রম হয়ে উঠবে। এরপর আনন্দ, গুড্ডি, রেশমা আউর শেরা। দিল্লি দুর অস্ত।

এল তিয়াত্তর। প্রকাশ মেহরা করলেন জঞ্জির। ইন্সপেক্টর বিজয় খান্নার চরিত্রে আপাত অচেনা একটা মুখ খুঁজছিলেন। নবজন্ম হল অমিতাভ বচ্চনের। সত্তর দশক বড় অস্থির সময়। জরুরি অবস্থা তখন গ্রাস করেছে প্রতিটি ভারতবাসীকে। দমবন্ধ হয়ে হাঁসফাস অবস্থায় ভারতবাসী তখন এক নায়ক খুঁজছেন, যে হবেন তাঁদের ত্রাতা। যে তাঁদের অল্টার ইগো হয়ে উঠবে। ঠিক সেই সময় আবির্ভাব ঘটল অ্যাংরি ইয়ং ম্যান অমিতাভের।

24sli2

বিস্ফোরণ ঘটল পর্দায়। বলা ভাল অমিতাভ ছেয়ে ফেললেন গোটা দেশ। এক্সপ্রেশন ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যদি অভিনয়ের ব্যাকরণ হয়, তাহলে অমিতাভ তাতে একশয় দুশ পাবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা নিজের খামতিগুলোকে এমনভাবে ঢেকে দিলেন, যে সুপারস্টার হতে সময় লাগল না।

জঞ্জির করার পর যাঁরা বলছেন অমিতাভ নিজেকে অ্যাংরি ইয়ং ম্যান হিসেবেই পর্দায় মেলে ধরেছেন, তাঁরা অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছেন। এই সময় বারবার নিজেকে ভাঙছেন তিনি। কখনও করছেন সওদাগর, কখনও করছেন অভিমান।

তবে পঁচাত্তর সালে দিওয়ার ভেঙে দিল সবকিছু। পর্দায় বিজয় ভার্মা এলেন আর বাকি সকলে ফিকে হয়ে গেল।

deewar

এই পঁচাত্তর সালেই এল শোলে। রমেশ সিপ্পির এই ছবি নতুন রূপকথার জন্ম দিল। ঘরে ঘরে মা-রা সদ্যোজাত ছেলের নাম রাখতে শুরু করলেন জয়- বীরু। মাল্টিস্টারার এই ছবিতে দু-জনকেই মনে রাখল দর্শক। প্রথমজন গব্বর আর দ্বিতীয়জন ট্র্যাজিক হিরো জয়।

এরপর যে ছবিতেই হাত দিয়েছেন, সেই ছবিতেই সোনা ফলিয়েছেন। পঁচাত্তর থেকে আশি। মুকাদ্দর কা সিকন্দর থেকে মিলি। আলাপ থেকে ডন। ত্রিশূল, কালা পাত্থর, দোস্তানা অমিতাভের ছায়া ঢেকে ফেলতে লাগল গোটা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিকে। আর এই সন্ধিক্ষণেই তাঁর জীবনে এলেন ভানুরেখা গনেশন।

তিনি এলেন অমিতাভের জীবনে। দেখা তো এক খোয়াব তো ইয়ে সিলসিলে হুয়ে...দো আনজানেতে মোলাকাত, আলাপে প্রেমালাপ। আর তারপর একে অপরকে চোখে হারাতেন অমিতাভ বচ্চন ও রেখা। বলিউডের রঙিন দুনিয়ায় বলা যায় সবচেয়ে আলোচিত প্রেমকাহিনি। জয়া ভাদুরির সঙ্গে সুখি দাম্পত্য টালমাটাল। কিন্তু প্রেমের ফাঁদে কেউ কাউকে ছাড়তে পারছেন না। সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন অমিতাভ। কিন্তু সম্পর্কের ফ্রেমটা তো তৈরিই ছিল। আশি সালের একুশে অক্টোবর যশ চোপড়া অফার দেন সিলসিলার। পাঁচ মিনিট সময় নেন বিগ বি। তারপর রাজি হন। কিন্তু অমিতাভ রাজি হলে কী হবে জয়া বচ্চনকে রাজি করাতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছিল যশ চোপড়াকে। শেষ পর্যন্ত তিন তারকাকে নিয়ে তৈরি হল আনোখা প্রেমকাহানি। যা ছিল সে সময় অনুযায়ী যথেষ্ট সাহসী।

প্রেমের সে দিন ভেসে গেল। রেখার বাহুডোর থেকে ফিরে এলেন অমিতাভ। মনের আঘাতকে প্রায় সইয়ে নিয়েছেন। এল শরীরে আঘাত। বিরাশিতে কুলি ছবিতে পুনিত ইসারের সঙ্গে লড়াইয়ে মারাত্বক আঘাত পেলেন। ফুটো হয়ে গেল প্লীহা। শুরু হল যমে মানুষে টানাটানি। অগনিত ভক্তের প্রার্থনায় মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরে এসেছিলেন অমিতাভ। সে ফিরে আসা ফ্যানেরা যে কী ভাবে নিয়েছিলেন, তার ইঙ্গিতও মেনে সেলুলয়েডেই।

sarkar-3-amitah-825

সময়টা সত্যই ভাল যাচ্ছিল না সেই সময়। চুরাশিতে রাজীব গান্ধির সঙ্গে বন্ধুত্বের খাতিরে এলাহাবাদে লোকসভা আসনে দাঁড়ান। হারান সুন্দরলাল বহুগুণাকে। তিন বছর স্থায়ী হয় রাজনৈতিক জীবন। ছবির কেরিয়ার তখন টালমাটাল। সাময়িক অবসর নেন ছবি থেকে। এর কয়েক বছর পর নতুন করে কেরিয়ার শুরু করতে চান। চূড়ান্ত ফ্লপ হয় ছবি। এবিসিএল প্রযোজনা সংস্থা দেউলিয়া। অস্তিত্ব সংকটে বলিউড শাহেনশা।

কিন্তু ফিরলেন তিনি। দু-হাজার সাল থেকে অমিতাভ গর্জন শুনল গোটা দেশ। দু-হাজার সালে। যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানারেই। সেই যে মোহব্বতে দিয়ে তাঁর নতুন জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। তা আজও একই রকম ক্যারিশমাটিক। আকস, খাঁকি, ব্ল্যাক হয়ে সরকার .. পর্দায় নতুন অরা। ঋতুপর্ণ ঘোষের লাস্ট লিয়ারেরও এক নতুন অমিতাভকে দেখল দর্শক।

বয়স যতই বেড়েছে নিজের তুলনা তিনিই হয়ে উঠেছেন। কী ভাবে দর্শক ভূলবে পিকু আর পিঙ্কে তাঁর অভিনয়। কেবিসিকে বছরের পর বছর একার ক্যারিসমায় টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

পঁচাত্তরের জন্মদিনে সেলিব্রেট করবেন না তিনি। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাবেন মালদ্বীপে। তবুও তিনি জানেন, তাঁকে সোশাল সাইটে সব সময় চোখ রাখতে হবে। পঁচাত্তরে দেশ থেকে বিদেশে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর ঢল নামবে। আর জন্মদিনে উঠবে একটাই শ্লোগান। তু জিও হাজারো সাল।

First published: October 11, 2017, 2:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर