বিনোদন

corona virus btn
corona virus btn
Loading

exclusive: 'নাসির স্যার বলেছিলেন, কলকাতার মানুষ খুব সাহিত্য ভালবাসেন’: আহানা কুমরা

exclusive: 'নাসির স্যার বলেছিলেন, কলকাতার মানুষ খুব সাহিত্য ভালবাসেন’: আহানা কুমরা

অভিনেতা ও স্টার, একেবারে আলাদা দুটি শব্দ। অর্থও ভিন্ন। তিনি অভিনেতা হতেই চেয়েছিলেন।

  • Share this:

#মুম্বই: অভিনেতা ও স্টার, একেবারে আলাদা দুটি শব্দ। অর্থও ভিন্ন। তিনি অভিনেতা হতেই চেয়েছিলেন। মঞ্চ কিংবা সিনেমার পর্দা,  মাধ্যমে কিছু যায় আসে না তাঁর। সুযোগ কম পান, আফশোস আছে। পিছিয়ে পড়লেই থেমে যেতে হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি। নাসিরউদ্দিন শাহের পরিচালনায় প্রথম নাটক, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ, সম্প্রতি ওয়েবে মুক্তি প্রাপ্ত ছবি 'ফরবিডেন লভ', মেমোরি লেনে পা রাখলেন নায়িকা। আহানা কুমরার পথ চলার সঙ্গী হলো নিউজ 18 বাংলা।

প্রশ্ন- আপনি পর্দায় মূলত দৃঢ় চরিত্র করে থাকেন।

'লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা' হোক কিংবা হালফিলের 'ফরবিডেন লভ'।

প্রশ্ন- এমন চরিত্রই টানে বেশি? প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো। আপ্লুত হলাম যে, আপনার আমার চরিত্রগুলোকে দৃঢ় মনে হয়েছে। আমি ভাগ্যবান, তাই অনেক অন্য ধরনের চরিত্র করতে পেরেছি। অনেকটাই ভাগ্য, জানেন তো। ঠিক সময় ঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকতে পেরেছি। বিশ্বাস করবেন না হয়তো, বহু অভিনেত্রীর ছেড়ে যাওয়া চরিত্র আমি করেছি।  সেই সিরিজটা কিংবা সেই ছবিটাই আমার জন্য ক্লিক করেছে। যাঁরা চরিত্র গুলো ছেড়ে গিয়েছেন, আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন- বাঙালি ব্রিগেডের সঙ্গে কাজ করলেন বলা যায়। 'খেল কা দি এন্ড' অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর ছবি।আপনার বিপরীতে চন্দন রায় সান্যাল। কেমন লাগলো কাজ করে? এই দুজনের সঙ্গে কাজ করার সময়, আমি অর্ধেক বাঙালি হয়ে গিয়েছিলাম। চন্দন ও অনিরুদ্ধদা সারাক্ষণ বাংলাতেই কথা বলতেন। কিছুক্ষণ পর পর বলতেন 'খাবো'। পরে বুঝেছিলাম ওটা লাঞ্চ ব্রেক এর কথা হচ্ছিলো। প্রশ্ন- তাহলে অনেকটা বাংলা শিখে গিয়েছেন? তা বলতে পারেন। আমার অন্যতম প্রিয় শহর কলকাতা। প্রশ্ন- বিশেষ কোনো স্মৃতি রয়েছে? এই শহরে প্রচুর থিয়েটার করেছি। সায়েন্স সিটি, রবীন্দ্র সদনের মঞ্চের সঙ্গে অনেক পুরোনো সম্পর্ক। প্রশ্ন- সেটা কেমন? বেশ খানিকটা পেছনে যেতে হবে। আমি তখন নাসির স্যারের (নাসিরউদ্দিন শাহ) দলে অভিনয় করি। আমার প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্স। নাটকের নাম ছিল 'আর্মস অ্যন্ড দ্য ম্যান'। নাসির স্যারের পরিচালনা। আমার এখনও মনে আছে, কোনো একটা সংলাপ একটু আস্তে বলেছিলাম। একজন মহিলা ব্যাকস্টেজে এসে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনি ওই সংলাপটা কী বললেন? আমি একেবারে শুনতে পাইনি।' আমি একটু বিরক্তই হয়েছিলাম। নাটক শেষ হয়নি। তখনই আমার আবার এন্ট্রি। কোনো রকম ওই মহিলাকে পাশ কাটিতে স্টেজে গেলাম। নাসির স্যারকে বললাম, কলকাতার দর্শকরা কী অদ্ভুত। স্যার যে উত্তরটা দিয়েছিলেন, তাতে আমি কলকাতাকে চিনতে পারি। প্রশ্ন- কী বলেছিলেন নাসিরজি? স্যার বলেছিলেন, কলকাতার মানুষ খুব সাহিত্য ভালবাসেন। থিয়েটার ভালবাসেন। বাঙালিদের সৃজনশীলতা, তাঁদের রুচিবোধ একেবারে ভিন্ন। স্যার বুঝিয়েছিলেন, ওই মহিলা অর্থ ব্যায় করে নাটকটা দেখতে এসেছেন। মন দিয়ে দেখছেন। পয়সার বিনিময় উনি সবটা শুনতে চান। এরকম মনোযোগী দর্শক আর কোথাও পাওয়া যায় না। আসলে কলকাতার দর্শকের মধ্যে রেশ অনেক দিন থেকে যায়। এটাই এই শহরের নিয়ম। তাছাড়া সঞ্জয় নাগের সঙ্গে ছবি করেছি 'ইওর'স ট্রুলি'। তখন অনেক দিন বাংলায় ছিলাম। একটা শো করছিলাম দিন কয়েক আগে। মহিলা ক্রিকেটেরদের নিয়ে। তখন কলকতায় এসে ঝুলন গোস্বামীর সঙ্গেও দেখা করলাম। এই শহর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। প্রশ্ন- শেখার কথাই যখন হচ্ছে, একটা প্রশ্ন করি। নাসিরজির সঙ্গে কেরিয়ার শুরু করেছেন। আবার 'দ্য ফাদার' নাটকটায় একসঙ্গে কাজ করলেন। বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো, এমন মনে হয়? অনেকটা সেরকম। আমার কাছে পাঠশালায় ফিরে যাওয়ার মতো। স্যারের কাছে শিখেছি, সুযোগ কম আসে। কিন্তু সম্ভাবনা প্রচুর থাকে। সিনেমা, ধারাবাহিক, সিরিজ যাই করিনা কেন, মূল শিক্ষা থিয়েটার করলেই পাওয়া যায়। মঞ্চ করলে যা আগে শিখেছি, বা ভুল শিখেছি, সব ভুলে যেতে হয়। ছবি কিংবা সিরিজ, একবারই করা হয়। থিয়েটার করলে, আপনি একই জিনিস বার বার করতে থাকেন। নতুন করে আবিষ্কার করেন। জানেন, আসল মজা এই পদ্ধতিটায়। মহড়া দেওয়ায়, মঞ্চস্থ হওয়ার দিনটায় নয়। শো তো ভাল হবেই। পদ্ধতিটাকে ভালবাসতে শিখিয়েছেন স্যার। ওঁর সঙ্গে কাজ করলে, চোখে জল চলে আসে। নাসির স্যার আমার কাছে অভিভাবকের মতো। জানেন, এমন সময়ও কাটিয়েছি, যখন কাজ পেতাম না। অধৈর্য হয়ে পড়তাম। স্যারকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতাম। কিছু কি ভুল করেছি? এরকম হচ্ছে কেন? আমাকে বোঝাতেন, 'মাধ্যমের কথা ভেবো না আহানা। যা পাচ্ছো তাই করো। নিজের কাজে দক্ষ হলে, ভাল কাজ পাবেই।' স্যার তখন সাহস জুগিয়েছিলেন বলে এগিয়ে যেতে পেরেছি। প্রশ্ন- আপনি প্রথমেই নিজেকে ভাগ্যবান বললেন, এটা কিন্তু সত্যি। প্রথম নাটক করেছেন নাসিরউদ্দিন শাহ-র সঙ্গে। টিভি তে প্রথম শো করেছেন অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। কী বলবেন? আমার কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। আমি দি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করছিলাম। এখানেও একটা কলকাতা যোগ রয়েছে। এক মাস টানা শ্যুট করেছি ওঁর সঙ্গে। আমি হা করে অমিতজির অভিজ্ঞতা শুনতাম। আমার মনে হতো, গোটা জীবন ধরে শুনলেও ওঁর ঝুলি শেষ হবে না। একদিনের কথা মনে আছে। চুপ করে বসে আছি দুজন। শট রেডি হওয়ার অপেক্ষা করছি। অমিতজি বললেন, 'নিজের শিল্পসত্তা অনুভব করতে চাইলে কখনো কলকাতা যেও।' আর সত্যি বলছি, এই শহরে এসে উনি যেমনটা বলেছিলেন, ঠিক তেমনটাই অনুভব করি। প্রশ্ন- আচ্ছা, তখন আপনার একেবারেই অল্প বয়েস।অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করতে ভয় করেনি? একদম ভয় করেনি। ওঁর সঙ্গে প্রথম সেটে দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতা, মনে আছে। আমি জানতাম, সবচেয়ে বড় মেগাস্টারের সঙ্গে দেখা করছি। কিন্তু প্রথম দেখাতেই অমিতজি যখন আমার দিকে তাকালেন,খুব চেনা লাগলো ওঁর চাহনি। কোনো স্টার সুলভ দৃষ্টি ছিল না। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'রিহার্সাল করতে আপত্তি নেই তো?' ওঁর মতো একজন স্টারের আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন আছে? আপনিই বলুন। আমি নাটকের মেয়ে। রিহার্সাল দেওয়ার অভ্যেস আমার অনেক পুরোনো। আমার সুবিধেই হয়েছিল। আর একটা কথা, অমিতজি কিছু ভোলেন না। এখনও আমার জন্মদিনে প্রথম ম্যাসেজ ওঁর কাছ থেকে আসে। প্রশ্ন- সত্যিই অসাধারণ বিষয়। আপনার ছবি নিয়ে একটু কথা বলি। একেবারে অন্য ধরনের কাজ করেন আপনি। সেখান থেকে বিদ্যুৎ জামালের সঙ্গে 'খুদা হাফিজ', একেবারে বাণিজ্যিক ছবি। কেন বেছে নিলেন এই ছবি? আমি এই ছবিটা করতে প্রথমে রাজি হইনি। অন্য একটা ছবির কাজ হাতে ছিল। আরবের ভাষা বলতে হবে, অ্যাকশন করতে হবে। প্রথম থেকেই মনে হয়েছিল, পারব না। অডিশন দিতেও যাইনি। অন্য ছবির শ্যুটিং-এর জন্য লন্ডন যাবার কথা পাকা হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ জামালের ছবিতে অ্যাকশন করবো, আমার পক্ষে সম্ভবই না। শেষ মুহূর্তে লন্ডনের ছবিটা হাত থেকে চলে যায়। ওই দিনই আবার 'খুদা হাফিজ'-এর কাস্টিং ডিরেক্টর ফোন করেন। আমাকে আসতে বলেন। আর কী, চলে যাই অডিশন দিতে। জানেন অন্য ছবিটাও পেয়ে গেলাম। উচবেকিস্থান ও লন্ডনের মধ্যে কয়েক মাস ঘোরাফেরা করলাম। 'খুদা হাফিস'-এর মতো বাণিজ্যক ছবিতে, এরকম একটা ভাল চরিত্র করতে পেরেছি। এটাও ভাগ্যই বলবো। সচরাচর কোনো অভিনেত্রী হিজাব পরে অ্যাকশন করার সুযোগ পান না। ফারুক আমাকে এরকম একটা চরিত্রের জন্য ভেবেছেন, সেটা আমার সৌভাগ্য। প্রশ্ন- শেষ প্রশ্ন করবো, আপনি এত প্রস্তুতি নিয়ে অভিনয় করতে এসেছেন। মনে হয়, মেধা থাকলেও বহিরাগত বলে কম সুযোগ পান? কষ্ট পাই। ভীষণ ভাবে এই কথা মনে হয়। এত কাজ করার পরও স্বীকৃতি পাই না। কেন বলুন তো নিজেকে প্রমাণ করতে, এত সময় লেগে যায়? স্ট্রাগল করতে করতে, অনেক বয়েস বেড়ে যায়। বলিউড ইনসাইডাররা কত প্রস্তুত থাকেন। আমাদের তো বুঝে উঠতেই, সময় পার হয়ে যায়। আমার মতো অভিনেতার সাক্ষাৎকার হওয়াই একটা বড় ব্যাপার। আর স্টারকিডরা, ১৬ বছর বয়সে ম্যাগাজিন কভারে চলে আসেন।
Published by: Akash Misra
First published: September 28, 2020, 9:15 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर