' আমরা যেন মানুষ হতে পারি': দেবশঙ্কর হালদার

' আমরা যেন মানুষ হতে পারি': দেবশঙ্কর হালদার

CAA- এর প্রতিবাদে সরব রাজ্য, কী বললেন নাট্য ব্যক্তিত্ব দেবশঙ্কর হালদার ?

  • Share this:

DEBAPRIYADUTTA MAJUMDER

#কলকাতা: নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে যে অশান্তি- ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তার আঁচ এসে পড়েছে এ রাজ্যেও। এতে কষ্ট পেয়েছেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব দেবশঙ্কর হালদার। শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি। ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তাঁর মনে। ব্যক্তিগত ভাবে তার বিপন্ন লাগছে, ভীত লাগছে।

দেবশঙ্কর হালদারের কথায়, যাঁরা পাশাপাশি মাঠে ময়দানে একসঙ্গে কাজ করেন, সেই নানান বর্ণের, নানান ধর্মের, নানান সম্প্রদায়ের মানুষ, তাঁরা যেন পরস্পরকে ভুল না বোঝেন। প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের ফলে এমন কোনও পদ্ধতি তৈরি না হয়, যাতে পাশের মানুষকে হারিয়ে ফেলার অবস্থা তৈরি হয়। ভয়ের বাতাবরণ যেন তৈরি না হয়। নাট্যকারের মতে, 'বিপন্নতা প্রকাশ করতে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে ঢিল ছুঁড়লে, ভাঙচুর করলে, বাধ্য হয়ে ধ্বংসের পথ নিলে, উল্টোদিক থেকেও আক্রমণ হবে যা অভিপ্রেত নয়। এতে নিজেদের বন্ধুদেরই ক্ষতি হবে।' তিনি বোঝেন একটা ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর মতে, ' যন্ত্রণার মধ্যেই ক্ষত আঁচড়ালে আরও রক্তপাত হবে। বরং এমন কোনও উপশম খোঁজা প্রয়োজন যা ক্ষতের একেবারে উৎসে নিয়ে যাবে। সকলের উচিত, গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদের রাস্তায় হাঁটা।'

তাঁর কথায়, স্টেশনে বা বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর হলে যাঁরা সমব্যথী তাঁরাও ভয় পেয়ে যাবেন, যাঁরা বিপন্ন মনে করছেন নিজেদের, তাঁদের থেকে দূরে সরে যাবেন। তাই শান্ত হয়ে মন ও মাথাকে সংযত রাখুন। প্রতিবাদ যেন সংহত করতে পারা যায় গণতান্ত্রিক উপায়ে, যার ফলে হয়তো সরকার বা রাষ্ট্র... যারই বিরোধিতা করা হোক না কেন,‌‌ তার কারণ বোঝাতে পারা যাবে। যেন ধ্বংসের চেয়ে প্রতিবাদের মধ্যে দিয়েও একটা অন্যরকম সৃষ্টি বা সুন্দরের পথে এগোনো যায়।

দেবশঙ্কর হালদারের বিনীত অনুরোধ, রক্তপাত, মৃত্যু, ধ্বংস, এটাই একমাত্র বা শেষ পথ হতে পারে না...একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই একমাত্র উপায়। যে পথের, যে মতের, যে ধর্মের, যে বর্ণের, যে পার্টির কেউ হোক না কেন। যে দলেরই সমর্থক হোক না কেন, সকলে যেন মানুষ হতে পারে।​

এই পরিস্থতিতে তাঁর মনে পড়ে যায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার পংক্তি...

'ভেঙো নাকো , শুধু ভাঙা নয়,

চাষের জন্যে যে জমিটা পেলে ভালো হয় সে তো ঠিক বালি চিকচিক ডাঙা নয়। ... মৃত্যুটা যত বড়ই হোক না

জীবনের চেয়ে এমন  কিছু সে ঢ্যাঙা নয়।'

First published: December 14, 2019, 11:53 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर