corona virus btn
corona virus btn
Loading

মৃত্যুর বিরুদ্ধে জিতে যাওয়ার গল্প, ভালোবাসার গল্প বলে ‘দিন রাত্রির গল্প '

মৃত্যুর বিরুদ্ধে জিতে যাওয়ার গল্প, ভালোবাসার গল্প বলে ‘দিন রাত্রির গল্প '

দিন রাত্রির গল্প। অনেক চেনা , প্রত্যাশিত ছবির মাঝেই সম্প্রতি রিলিজ করেছে চিকিৎসক প্রসেনজিৎ চৌধুরীর দ্বিতীয় ছবি।

  • Share this:

#কলকাতা: দিন রাত্রির গল্প। অনেক চেনা , প্রত্যাশিত ছবির মাঝেই সম্প্রতি রিলিজ করেছে চিকিৎসক প্রসেনজিৎ চৌধুরীর দ্বিতীয় ছবি। মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন রজতাভ দত্ত। রয়েছেন রায় তি ভট্টাচার্য, সুপ্রীতি চৌধুরী, রুমকি চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, দেবেশ রায় চৌধুরী, সৌরভ চক্রবর্তী সহ অনেকেই। পেশায় চিকিৎসক। মৃত্যুকে প্রতিনিয়ত কাছ থেকে দেখেন প্রসেনজিৎ। মৃত্যুর সামনে মানুষের অসহায়তার প্রতিশোধ হিসেবেই এই গল্প লিখেছেন তিনি, দাবি পরিচালকের। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে এসেছে এই গল্প, যদিও সিনেমার প্রয়োজনে কিছুটা কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। একটি দিনের গল্প ও আরেকটি রাতের গল্প হলেও দুটো গল্পই এক অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরিচালকের সিনেমার প্রতি ঝোঁক ছোট থেকেই। বর্ধমানে একটি কালচারাল ক্লাবে ক্লাস নাইনে স্পিলবার্গের শিন্ডলারস লিস্ট দেখেই সিনেমার প্রেমে পড়ে যান । বাড়িতে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করতে চাইলেও পরিবারের আপত্তিতে তা আর হয়ে ওঠেনি কিন্তু স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন প্রসেনজিৎ। তার দ্বিতীয় ছবি দিন রাত্রির গল্প সেই স্বপ্নেরই ফসল। উপস্থাপনায় বিশেষত্ব আনতে প্রথম গল্পে যেমন স্পেস ফিকশনের খোলস আছে, দ্বিতীয় গল্পে তেমনি আছে থ্রিলারের খোলস। পরিচালকের কথায় , এ সব কিছু ছাপিয়ে ' দিন রাত্রির গল্প মানুষের কথা বলে, ভালোবাসার কথা বলে, মৃত্যুর বিরুদ্ধে জিতে যাওয়ার কথা বলে। '

ছবির অন্যতম মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রজতাভ দত্ত। তার কথায় '

সারা পৃথিবী জুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে কন্টেন্টই নায়ক। এই ছবিটার ক্ষেত্রেও তাই। স্ক্রিপ্টটা পরে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।' তার মতে এরকম ছবি আরো বেশি বানানো উচিত। এরকম ছবি দর্শক দেখলে আরো এরকম ছবি বানানো হবে। বাংলা ছবি, অভিনেতারা ঋদ্ধ হবে , সমৃদ্ধ হবে। রজতাভর চরিত্রটির নেশা ব্ল্যাক ম্যাজিক করা, অকালট সায়েন্স নিয়ে চর্চা করা। মৃত্যু চিন্তার মধ্যে ডুবে থাকে কিন্তু মৃত্যুকে সেলেব্রেটও করে। রজতাভর দাবি এরকম রঙিন চরিত্রে তাকে আগে কখনও দেখা যায়নি। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন ' বাংলা ছবিতে এর আগে ও সি ডি বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার নিয়ে এরকম কাজ হয়নি। '

সুপ্রীতি চৌধুরী এই ছবিতে সুত্রধার এর ভূমিকায়। তিনি আবার এই ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকার ও। সিনেমার প্রতি আবেগ থেকেই তার ও প্রসেনজিতের সিনেমা বানানোর নেশা জানালেন তিনি। এই ছবিতে তিনি নান এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যার মাধ্যমেই সবাই জানবে তার জীবনে ঘটে যাওয়া দুটি গল্পর কথা।

নাটকের পরিচিত মুখ রায়তী ভট্টাচার্য অভিনয় করছেন অরুণিমা চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে।নাসার থেকে এক গোপন অভিযানে নাকি মঙ্গলে যাচ্ছেন অরুনিমা। অথচ বাড়ির কেউ জানে না সে কথা, এমনকি বাঙালি মেয়ের এরকম সাফল্যের খবরও কোথাও নেই। রহস্য আরো ঘনীভূত হয় যখন নাসা থেকে বাঙালি এক মহিলা তাদের কাছে এ খবর দেয়। পাখির মতো উড়তে চাওয়া অরুণিমার এই স্বপ্নের উড়ানের পেছনে রয়েছে অন্য গল্প। চরিত্রের মধ্যেও রয়েছে অন্য এক উড়ান। গল্পে রয়েছে চমকপ্রদ টুইস্ট। রায়তীর দাবি, একজন অভিনেতা হিসেবে প্র্যাক্টিস খুব দরকার। থিয়েটার তাকে সেই জায়গা দেয়। তার মতে 'সিনেমা এক্সপেন্সিভ মিডিয়াম। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার জায়গা কম আমি ভুল করলে জায়গা ছেড়ে দিতে হতে পারে। থিয়েটারে পরীক্ষা বা ভুল করলেও সুযোগ পাবো আবার। দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে এক একটা শো তে এক এক রকম ভাবে চরিত্র উপস্থাপনা করতে পারি। থিয়েটার আমায় এই সুবিধা দেয় একটা চরিত্র বিল্ড আপ করতে। ' নাটকে অভিনয় দেখেই তাকে সিনেমায় কাজ দিচ্ছেন পরিচালকরা। কাজ পাওয়া এবং অভিনয় করা দুটো ক্ষেত্রেই থিয়েটার তাকে আলাদা জায়গা করে দেয় বলে মনে করেন রায়তী। এক একটি সিনেমায় এক এক রকম অভিনয় করা সুযোগ পাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু সিনেমার জন্য নাটক কোনও দিন ছাড়বেন না , বদ্ধপরিকর তিনি।

সব মিলিয়ে চেনা গল্প, চেনা অভিনয়ের মাঝে নতুন কিছুর স্বাদ পাওয়া যেতেই পারে দিন রাত্রির গল্প তে।

First published: March 10, 2020, 7:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर