বিনোদন

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভাললাগার মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে ভুলে গিয়েছি সবাই: রুক্মিণী মৈত্র

ভাললাগার মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে ভুলে গিয়েছি সবাই: রুক্মিণী মৈত্র

দীর্ঘাঙ্গী। আওয়ার গ্লাস ফিগার। দুর্দান্ত সুন্দরী। রুক্মিণীর আগে এই সব বিশেষণগুলো নির্দ্বিধায় বসানো যায়।

  • Share this:

শর্মিলা মাইতি

#মুম্বই: দীর্ঘাঙ্গী। আওয়ার গ্লাস ফিগার। দুর্দান্ত সুন্দরী। রুক্মিণীর আগে এই সব বিশেষণগুলো নির্দ্বিধায় বসানো যায়। কিন্তু সৌন্দর্যের নেপথ্যে যে একটা সদাচঞ্চল, তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কও আছে, সেখবর ক'জন জানে! সুইজারল্যান্ড এখনও চলছে রমরমিয়ে। সিনেমাহলগুলোয়। বয়োজ্যেষ্ঠরাও দেখতে আসছেন। কিন্তু এই ছবির পর, রুক্মিণীর অন্তরমহলেও বদল ঘটেছে। দিন দিন আরও পরিণত, আরও স্পষ্টভাষী হয়ে উঠছেন তিনি। এক সন্ধ্যায় বাড়ি থেকেই আড্ডায় বসলেন। কী ব্যাপার, সুইজারল্যান্ড থেকে এক তাড়াতাড়ি ফিরে এলেন যে?

মিষ্টি করে হাসলেন, "কেমন লাগল ফিল্মটা আগে তো বলুন। সুইজারল্যান্ড যাওয়াটা কি ইমপরট্যান্ট, না কি কীভাবে গেলাম সেটা?" অবশ্যই। আর এটাও তো ভাবা যাচ্ছে না যে দুই সন্তানের মা হয়েও এমন ছিপছিপে থাকা যায়! "আরে, আমি তো এক্সপেরিমেন্ট করতেই ভালবাসি। অভিনেত্রী হয়ে যদি ভাবতে বসি যে এই বয়সে মায়ের চরিত্র করব না। তাহলে তো অভিনয়টাই করা উচিত না! এটা বলতেই মনে পড়ল। আমাকে কিন্তু প্রথমে অফার করা হয়নি। স্ক্রিপ্ট পড়ে জিতদা আমার নাম সাজেস্ট করেছিল ডিরেক্টরকে। উনিও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে আমি চরিত্রটা করব কি না। আমি কিন্তু একবার পড়েই ঠিক করেছিলাম করব। আর তার পর, যেটা সব সময় করি, দেবের পরামর্শ নেওয়া, সেটাই করলাম। ও পড়ে বলল, তুমি চোখ বুজে হ্যাঁ বলে দাও। চরিত্রটায় দম আছে।" অন্তরঙ্গ মুহূর্ত, ঝগড়া, আবিরের সঙ্গে প্রথমবার এতসব... শোনা যাচ্ছে আবির বিবাহিত বলেই দেব বিষয়টা 'সেফ' ভেবেছেন। এবার অট্টহাসি!  "কেন? অন্যদিকটা ভাবুন। আবিরের সঙ্গে আমার আগে কখনও দীর্ঘক্ষণ কথাই হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় দিনই ঝগড়ার দৃশ্য। লম্বা শট। কিছুতেই comfortable হতে পারছি না। আবির বুঝেশুনে বলল, এক মিনিট। তারপর একসঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বললাম। আরও কিছুটা সময় আলাদা ঘরে একা বসে থাকলাম। শুধুমাত্র শট দেওয়ার সময়ে বাইরে এলাম।" বলে চললেন রুক্মিণী, "জানেন, চরিত্রটা আমাকে অনেক কিছু শেখাল। আমাদের জীবনটা কত বদলে গিয়েছে এখন। পুরো দুনিয়াটাই দেখনদারিতে চলছে। আজ যেকোনও আনন্দের মুহূর্ত মানে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে সবাইকে দেখানো। ছোটবেলায় মা যখন কেক বানাতেন, সেই গরম কেকের হালকা গন্ধটা নাকে টেনে নিতাম। কখন সেই মুহূর্তটা আসবে সেই আশায় থাকতাম। মনটা পাগল পাগল হয়ে উঠত। আজকে কেউ  কেক বানালে কখন সেলফি তুলে পোস্ট করে বাহবা কুড়োবে তার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। যতক্ষণ না সেটা হচ্ছে, ততক্ষণ সে আনন্দ পাচ্ছে না। যত দিন যাচ্ছে, আমাদের জীবন থেকে creativity হারিয়ে যাচ্ছে। বাস্তববোধটাও চলে যাচ্ছে।" রুক্মিণী এখন অনেকটা অন্যরকম। "পাল্টে গেছি? না না, এইরকমই ছিলাম। জানেন, রুমি-শিবু যে পারিবারিক তাদের মধ্যে পড়ে সুইজারল্যান্ডের টোপ ফেলেছিল, ভাবেনি যে তার জন্য কতটা মূল্য চোকাতে হবে। ওই সময়ে শুটিং করতে করতে আমার ছোটবেলার আরও কিছু কথা মনে পড়ল। আমাদের আত্মীয়দের মধ্যেও এরকম ঠাণ্ডা রেষারেষি ছিল। স্ট্যাটাস সিম্বল ছিল এডুকেশন। কার ছেলে মাধ্যমিকে rank করল, কার মেয়ে পড়াশোনা করতে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ গেল, সেই সব ফলাও করে বলতে ভালবাসত আত্মীয় স্বজনরা। কেউ কেউ মুখ চুন করে বসে থাকত। মনে আছে, আমার বোর্ড পরীক্ষার নম্বরটাও কত গর্ব করে বলেছিলেন মা। বেশ কিছুদিন ধরে আমিও যেন হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলাটা খুঁজে চলেছি।

Published by: Akash Misra
First published: December 20, 2020, 7:27 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर