corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে বন্ধ শ্যুটিং, বন্ধ সিনেমা হল, তাহলে কি অনিশ্চয়তার মুখে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ?

লকডাউনে বন্ধ শ্যুটিং, বন্ধ সিনেমা হল, তাহলে কি অনিশ্চয়তার মুখে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ?

প্রথম দিকে করোনা ভাইরাস বা কোভিড 19 এর সংক্রমণ বিদেশে দেখে তেমন একটা ভয় পাইনি আমরা। ধীরে ধীরে সে প্রবেশ করল আমাদের দেশে।

  • Share this:

#কলকাতা: প্রথম দিকে করোনা ভাইরাস বা কোভিড 19 এর সংক্রমণ বিদেশে দেখে তেমন একটা ভয় পাইনি আমরা। ধীরে ধীরে সে প্রবেশ করল আমাদের দেশে। আমাদের রাজ্যে, আমাদের শহরে, আমাদের জেলায়। করোনা দুরারোগ্য ব্যাধি। হলে মৃত্যু। আপাতদৃষ্টিতে এটাই সমস্যা। তবে বৃহত্তর ক্ষেত্রে এর বিস্তার অনেক বেশি। লকডাউন এর জন্য সবকিছু বন্ধ। ব্যবসা থেকে আরম্ভ করে আইটি সেক্টর। আর্থিক মন্দা ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের নিচু থেকে উঁচু স্তরে। আর্থিক পরিকাঠামোয় এই ধস সামলে আবার কবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো আমরা, জানা নেই। দৈনন্দিন কাজের জিনিসের চাহিদা থাকবে। কিন্তু বিনোদন, সে তো অবসরের প্রয়োজন। বিলাসিতা। এই পরিস্তিতিতে বাংলা চলচ্চিত্রর ভবিষৎ কী? কবে খুলবে সিনেমা হল, মাল্টিপ্লেক্স? তাহলে কি ওয়েব সিরিজের দিকেই ঝুঁকবেন পরিচালক থেকে দর্শক। উত্তর খুঁজতে তদন্তে নিউজ 18 বাংলা। সৃজিত মুখোপাধ্যায়। 'ভিঞ্চি দা', 'গুমনামি', 'দ্বিতীয় পুরুষ', পরপর সবকটা ছবি লাভের মুখ দেখেছে। সমসাময়িক পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম সফল তিনি। ছবি হিট করানো, লক্ষ্মী লাভের ফর্মুলা জানা আছে তাঁর। বর্তমান পরিস্থিতি বিনোদন জগতকে অনেকটা নাড়িয়ে দেবে বলে মনে করেন তিনি। সৃজিতের কথায়, 'ওয়েব সিরিজ আরও বেশি বানানো হবে। কারণ এতদিন লকডাউনে, গৃহবন্দী হয়ে থেকে, মানুষের একটা ওয়েব সিরিজ দেখার অভ্যেস তৈরি হয়ে গিয়েছে। ওয়েব সিরিজের চাহিদা আরো বাড়বে। ইন্ডাস্ট্রির অনেকে ওয়েব সিরিজে আরও বেশি করে কাজ করবেন।' পরিচালক মনে করেন লকডাউন উঠে গেলেও মানুষ খুব একটা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখতে চাইবেন না। কয়েকটা মাস তো বটেই, পাবলিক প্লেস বা কোনও জমায়েতে মানুষ যেতে একটু ভয় পাবেন। হলে ছবি রিলিজের সংখ্যা অনেকটা কম হবে, বলে মনে করেন সৃজিত। পরিচালক জানালেন,'তেমন কোনও বড় সিনেমা, বড় স্কেলে তৈরি করা সিনেমা ছাড়া হল পাওয়া মুশকিল হবে। হিন্দি ছবির প্রকোপটা অনেকটা বেড়ে যাবে। অনেকগুলো বড় ছবি রিলিজ আটকা পড়ে আছে। হুড়মুড়িয়ে সেগুলো মুক্তি পেতে থাকবে।' অভিনেতা পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় মনে করেন সময়টা নিঃসন্দেহে কঠিন। পরমব্রত বললেন,'ছবি কিংবা বিনোদন, রোজকার প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে পড়ে না। তাই লকডাউন উঠে গেলে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এই ভাবনাটা রাখা ঠিক নয়। মানুষ হলে যেতে চাইবেন না। অর্থনৈতিক কারণে হয়তো যেতে পারবেন না। তবে কিছু মানুষের ছবি দেখা খুব ভালো লাগার জায়গা। তাঁরা আস্তে আস্তে যেতে শুরু করবেন। তবে সবকিছু ঠিক হতে সময় লাগবে।'

পরিচালক অভিনেতা চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের গলায় একই সুর। তাঁর মতে বিনোদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নয়। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইন্ডাস্ট্রি আছে যেগুলো না খুললে মানুষের বেঁচে থাকা মুশকিল হবে। তাই বিনোদন জগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা থেকেই যায়। চূর্ণী বললেন, 'ছবি বানাতে গেলে অনেক জন মিলে, গা ঘেষাঘেষি করে কাজ করতে হয়। সেখানে দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় কীভাবে কাজটা শুরু হবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। প্রতিদিন টেস্ট করা যদি সম্ভব হয়। অন্তত যতদিন ভ্যাকসিনেশন না বেরোচ্ছে, তাহলে হয়তো আমরা কাজ শুরু করতে পারবো। যদি প্রতিদিন শ্যুটিং শুরু করার আগে ও শেষের পর, সকলকে যদি টেস্ট করা যায় তবে একটা সম্ভবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি এরকম পরিকাঠামো আমরা পেয়ে যাব সেটা আমার একেবারেই মনে হয় না।'  গোটা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিনোদনও তার একটা অংশ, তাই সমস্যায় এই শিল্প টাও পড়বে। এসব পরের ভাবনা মানুষ আগে বাঁচুক, এই কামনাই করেন চূর্ণী। তিনি আরো বললেন, 'আমরা তো কোনও কোম্পানিতে চাকরি করি না। দৈনন্দিন টাকা পাই। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কথাই তো মুখে মুখে হয়। পরে পেমেন্ট পাওয়ার ব্যাপার থাকে। সে পেমেন্ট পাবো কিনা। শুটিংয়ের কাজ কবে শুরু করতে পারব সব, কিছুই প্রশ্নচিহ্নের মুখে।' পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় মনে করেন শুধু বাংলা ছবি নয় গোটা বিশ্ব জুড়ে যত এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে, সকলেরই সামনে প্রচন্ড সংকট। বলা ভাল সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অবসর সময় মানুষ ছবি দেখেন। এতদিন ধরে বাধ্য হয়ে মেলা অবসরের পর মানুষ  কতটা ছবি দেখতে চাইবেন, বা পারবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন পরিচালক। তাঁর কথায়, 'ছবি দেখা, প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া, এগুলো অনেক দূরের প্রায়োরিটি। প্রথম প্রশ্ন হল আমরা কবে থেকে শুটিং শুরু করতে পারব? শ্যুটিং শেষ করে তার পোস্ট প্রোডাকশন শেষ করে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাবে, তার জন্য সিনেমা হল, মাল্টিপ্লেক্স এগুলো খুলতে হবে। এইগুলো খুলতে অনেক দিন সময় লাগবে বলে আমার ধারণা।' কমলেশ্বর মনে করেন শ্যুটিং শুরু হলে, ওয়েব প্লাটফর্ম-এর কনটেন্টের শ্যুটিং আগে শুরু হবে। কারণ বাড়িতে বসে সেটা দেখা যায়। মানুষ বাড়িতে বসে প্রচুর দেখছেন। ছবির চেয়েও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের শ্যুটিং চালু হবে আগে। স্বাভাবিকভাবেই পরিচালক-অভিনেতা সকলেই ওয়েবের দিকে ঝুঁকবেন বেশি। লকডাউন বাদ দিয়ে যদি ভাবা যায়, এমনিতেও বিনোদন জগত ওয়েবের দিকে ঝুঁকে চলেছে বেশ কিছু বছর ধরে। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী মতে, আগে করোনা থেকে সমাজকে বাঁচানোর প্রয়োজন। তারপর লকডাউন উঠে গেলে ঠিক কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে, অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর অবস্থা কোন জায়গায় থাকবে। প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া কতটা সুরক্ষিত হবে। এই সবকিছু বিচার করে এগিয়ে যেতে হবে। এই সবকিছুর ওপরই নির্ভর করছে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ। তাঁর কথায়, 'অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই, করোনার জন্য একটা ক্ষতি তো, একটা কেন অনেকটাই ক্ষতি হবে। আমারই দু দুটো ছবি তৈরি হয়ে পড়ে আছে। কবে ছবিগুলো মুক্তি পাবে, কী হবে। কবে মানুষকে ছবিগুলো দেখাতে পারবো, লকডাউন উঠে গেলে এসব প্রশ্নের জবাব মিলবে।'  রাজ আশাবাদী বাঙালি দর্শক ছবি দেখবেন। তিনি মনে করেন, 'আমরা বিনোদন ছাড়া বাঁচতে পারি না। লকডাউনের মধ্যেও আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে কোন না কোন বিনোদনই। মনের অবসাদ, কষ্ট, সরিয়ে দিতে সাহায্য করে বিনোদন। এতদিন লকডাউনের পর, মন খারাপ, একটু বিনোদন প্রয়োজন এটা হতে পারে। আবার পয়সা নেই, ছবি দেখে টাকা নষ্ট করব না সেটাও হতে পারে। এক্ষুনি বলা মুশকিল।' রাজের ধারণা লকডাউন উঠলেই বোঝা যাবে আমরা সকলে কোন দিকে যাচ্ছি। ভারতবাসী আবেগপ্রবণ এবং আমরা বেশ বিনোদনপ্রেমী। বিনোদনকে একেবারেই দূরে ঠেলে দেবো, এটা বোধ করবেন না দর্শক। ওয়েব সিরিজ বেশি তৈরি হওয়ার প্রসঙ্গে রাজ বলেন, 'বাংলায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এর সংখ্যা খুবই কম। মানুষ ন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্ম গুলোই বেশি দেখছেন। একটা মানের ব্যাপার আছে। একটা প্লাটফর্ম রয়েছে তবে মানটা ততটা ভালো নয়, তাহলে তার জন্য কন্টাক্ট ক্রিয়েট করে কী লাভ। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো ভালো কাজ যদি হয়। আমি যদি ডাক পাই, অবশ্যই করবো। কেন করব না। ওটিটি প্লাটফর্ম এ যা হয়, তার চেয়ে যদি আলাদা কিছু করতে পারি তাহলেই করব। না হলে নয়। যদি এভারেজ কিছু করতে হয়, তাহলে টেলিভিশন করব। টেলিভিশনে তো আমার লগ্নি রয়েছে। সেটাকে বাড়াবো।'

Published by: Akash Misra
First published: April 23, 2020, 6:23 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर