সেটে ঘুমিয়ে পড়া, ১৫ মিনিটের কাজ করতে লাগে ৪ ঘণ্টা! নাজেহাল অর্জুন কাপুর

তাঁর কথায়, বলিউডে পা রাখা স্টার কিডদের জন্য অল্প হলেও সহজ। বিশেষ করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের পদে কাজ পাওয়া।

তাঁর কথায়, বলিউডে পা রাখা স্টার কিডদের জন্য অল্প হলেও সহজ। বিশেষ করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের পদে কাজ পাওয়া।

  • Share this:

#মুম্বই: বলিউডে ডেবিউ করেন ২০১২ সালে। কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই বলিপাড়ায় আনাগোনা অর্জুন কাপুরের (Arjun Kapoor)। ২০১২ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ইশকজাদে (Ishaqzaade)। নবাগতা পরিণীতি চোপড়ার (Parineeti Chopra) সঙ্গে তাঁর অন স্ক্রিন সম্পর্কের রসায়ন ও গল্প মানুষের পছন্দ হয়। তবে, ২০১২ সালেই যে তিনি বলিউডে পা রাখেন এমনটা নয়। এর আগে অভিনেতা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতেন নিখিল আদবানির (Nikkhil Advani) কাছে। সম্প্রতি সেই কাজেরই কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তিনি। জানান, প্রথম অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ কাল হো না হো (Kal Ho Naa Ho)-তে, যেখানে খুবই খারাপ একজন সহকারীর ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

অর্জুন কাপুর বলিউডের অন্যতম স্টার কিড। কথিত আছে এই জগতে স্টার কিডরা না কি অগ্রাধিকার পায়। এই নিয়ে বিস্তর মত পার্থক্য থাকলেও স্টার কিড আর বাইরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, স্ট্রাগলটা যে আলাদা, সেটা অনেকেই স্বীকার করেন। যেমন করলেন অর্জুনও। তাঁর কথায়, বলিউডে পা রাখা স্টার কিডদের জন্য অল্প হলেও সহজ। বিশেষ করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের পদে কাজ পাওয়া। তাঁর কথায়, অনেকে বলেছিলেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের কাজটিও না কি খুব সহজ। কিন্তু তার পরই তিনি কাজ করতে গিয়ে বোঝেন, বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়।

সম্প্রতি The Bollywood Film Club-এর ক্লাব হাউজ় সেশনে জেনিস সিকুইরে (Janice Sequeira) ও অনিরুদ্ধ গুহর (Aniruddha Guha) সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অর্জুন কাপুর জানান, প্রাথমিক স্তরের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ঙ্কর। তিনি বলেন, "আমি যখন কাজ শুরু করি তখন আমি খুবই খারাপ কাজ করতাম। আমার কাজ ভয়ঙ্কর ছিল। আমি ভেবেছিলাম কাজটা খুব সহজ হবে। আসলে সিনেমার পরিবেশে বড় হওয়া অনেকেই এমন বলে থাকেন, কিন্তু আমি তা বলি না। হ্যাঁ আমি অগ্রাধিকার পেয়েছি, যেমন অনেকেই পেয়ে থাকে। কিন্তু তার মানে এই নয় আর্থিকক্ষেত্রে আমি অগ্রাধিকার পেয়েছি। আসলে এক্ষেত্রে পরিচিত কারও কাজে কোয়ালিফিকেশন না থাকার সত্ত্বেও কাজ করা, ভুল করা, আবার শেখা সবটা হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ভুল করেছি, শুধরে নেওয়ার সুযোগও পেয়েছি।"

এসবের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি শেয়ার করেন যে বাইরের হাউজে কাজ করার আগে তিনি বাবা বনি কাপুর (Boney Kapoor)-এর কাছেই কাজ করেছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে। শক্তি: দ্য পাওয়ার (Shakti: The Power) ছবির জন্য তিনি এডিটিং করেছেন বলেও জানান। এই ছবির ট্রেলরের জন্য সেই কাজ করেন তিনি। পরে নিখিল আদবানির সহযোগী হিসেবে কাজ করতে যান।

অর্জুন বলেন, "কাল হো না হো সিনেমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ছিলাম আমি। মারাত্মক অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। আমি সেটে ঘুমিয়ে পড়তাম, সেটে পৌঁছাতাম নিখিল স্যারের পরে। যে কাজ ১৫ মিনিটে করা যায়, সেই কাজ আমি করেছি ৪ ঘণ্টা ধরে। তবে, কাজগুলো করতে আমার ভালো লেগেছে।"

এর পরের কাজে অবশ্য অনেকটা পরিবর্তন এসেছিল। অর্জুন জানান, কাল হো না হো'র পরে তিনি নিখিল আদবানির অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন সালাম-এ-ইশক (Salaam-e-Ishq)-এ। সেখানে তিনি কাজ ঠিকঠাক করা শুরু করেন। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করেন।

পরে অবশ্য এই কাজ ছেড়ে তিনি পুরোপুরি অভিনয়ে ঢুকে যান; বর্তমানে একাধিক ছবি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।

Published by:Piya Banerjee
First published: