বিনোদন

corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘কোনও কিছু আঁকড়ে রেখে, ওটাকে চুইংগামের মতো টানলে কোনও লাভ হয় না।'- অনিন্দিতা

‘কোনও কিছু আঁকড়ে রেখে, ওটাকে চুইংগামের মতো টানলে কোনও লাভ হয় না।'- অনিন্দিতা

কয়েক বছর পরই পেয়ে গেলেন টিকিট টু বলিপাড়া। কেরিয়ার এগিয়েছে তড়তড়িয়ে।

  • Share this:

#কলকাতা: কাকতালিয় ভাবেই অভিনেতা হয়েছেন তিনি। ছোটপর্দা দিয়ে ইনিংস শুরু। তারপর ছবি, ওয়েব। কয়েক বছর পরই পেয়ে গেলেন টিকিট টু বলিপাড়া। কেরিয়ার এগিয়েছে তড়তড়িয়ে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে চড়াই-উৎরাই কম ছিল না। ‘পাতাল লোক’ অনেকটা লাইমলাটে এনে দিল অনিন্দিতা বসুকে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর ওয়েব সিরিজ ‘মাফিয়া’। অভিনয়, বিভিন্ন মাধ্যম, বর্তমান সম্পর্ক--সব কিছু নিয়ে নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে গল্প জমালো অনিন্দিতা।

প্রঃ ‘বউ কথা কউ’ থেকে ‘মাফিয়া’ মাঝখানে অনেক কাজ করেছেন। নিজেকে একেবারে বদলে ফেললেন কী করে? বয়সের সঙ্গে বেশ কিছুটা বদল আসে। ‘বউ কথা কউ’ যখন করেছিলাম আমার তখন মাত্র ২৩ বছর বয়স। ১১ বছর হয়ে গেল। আগে থেকে কোনও প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়নি। কাজ করতে গিয়ে হাতে কলমে শিখেছি। সিনে জগতে কয়েক দিনের ব্যবধানে জিনিস বদলায়। নিজেকে না পাল্টালে, পিছিয়ে পড়তে হবে। আর ৩০-এর কোটায় এলে মেয়েরা এমনিতেই অনেকটা পরিণত হয়ে যায়।
প্রঃ মুম্বাইয়ে কাজ করতে গিয়েই কী বদল ঘটলো? ৩ বছর আগে মুম্বাইয়ে কাজ করতে আসি। আগেই বললাম কোথাও অভিনয় শিখিনি। কোনও দিন থিয়েটারও করিনি। এখানে এসে বুঝতে পারলাম, আমি অনেক কিছুই জানি না। ২-৩ বছর প্রচুর অডিশন দিলাম। প্রত্যাখিত হলাম। মুম্বাইয়ে আলাদা একটা কাজের ফ্লেভার রয়েছে, সেটা ধরতে একটু সময় লেগেছিল। ১১ বছর কাজের অভিজ্ঞতা, তারপর মুম্বাইয়ে যা শিখলাম, সব মিলিয়ে বলতে পারেন, অনেকটা গ্রো করেছি। প্রঃ নিঃসন্দেহে আপনি ভাল অভিনেত্রী হয়ে উঠেছেন, তবে আপনি আঁকতেন। অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছে বোধহয় একেবারেই ছিল না। তাই তো? এটা সত্যি। প্রডাকশন ডিজাইনার হতে কলকাতায় এসেছিলাম। একটা চ্যানেলের জন্য কয়েক মাস প্রডাকশন ডিজাইনও করেছি। তবে ভাগ্যে অন্য কিছু লেখা ছিল। প্রঃ হঠাৎ কোনও চরিত্রর জন্য অডিশন দিলেন কেন? চ্যানেলের হেড যিনি ছিলেন, তিনি ‘বউ কথা কউ’-এর জন্য অডিশন দিতে বললেন। আমি প্রবাসী বাঙালি। মুম্বাইয়ে বড় হয়েছি। তখন বাংলা উচ্চারণও স্পষ্ট ছিল না। চরিত্রর জন্য এরকমই একজনকে দরকার ছিল, যার বাংলা পরিষ্কার নয়। প্রথম কাজ এভাবেই পেয়ে গেলাম। ‘গানের ওপারে’-তেও তাই প্রবাসী বাঙালির চরিত্র। প্রথম ধারাবাহিকের পর ঋতুদার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ, হাতছাড়া করার মানেই হয় না। তারপর ছবি করার প্রস্তাব পলাম। ভাল কাজ আসতে থাকলো, আর ঘটনাচক্রে অভিনেতা হয়ে গেলাম। প্রঃ আপনার আর ক্যাটরিনা কাইফের বেশ মিল। দু’জনেই প্রবাসীর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন। (হেসে) তা বেশ বলেছেন। তুলনাটা ভাল। প্রঃ‘মাফিয়া’ করতে রাজি হলেন কেন? ‘মাফিয়া’ একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। এমন কাজ আগে কখনও করিনি। চিত্রনাট্য খুব ভাল লেগেছিল। তা ছাড়াও এটা আমার প্রথম দ্বিভাষিক কাজ। বীরসাদার সঙ্গে অনেক দিন পর কাজ করলাম। অনেক দিন আগে ওঁর ‘জানি দেখা হবে’ ছবিতে একটা ছোট্ট চরিত্র করেছিলাম। আবার কাজ করে খুব ভাল লাগলো। প্রঃ‘পাতাল লোক’-এ আপনি একেবারে অন্য রকম। ছোট চরিত্র, কিন্তু তার প্রধান্য অনেক। এরকম একটা সেক্স সিম্বল বা সাহসী চরিত্র যাই বলি, করা নিয়ে মনে কোনও দ্বিধা ছিল? একেবারেই না। এত কিছু মাথায় রাখলে, কাজ করাই যাবে না। আমার মনে হয়েছিল আমি এই চরিত্রটা যথাযত ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবো। তাই করেছি। যদি আমার মনে হতো পারবো না, বা স্ত্রিনে আমাকে খারাপ লাগবে, তাহলে করতাম না। প্রঃ এই চরিত্রটা কঠিন ছিল? এধরনের চরিত্র খুব সূক্ষ্ম হয়। একটু বেশি বা কম হলে, খুব খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু চিত্রনাট্য খুব ভাল ছিল। এত সুন্দর করে সব বিস্তারে লেখা ছিল। আমাকে কিছু করতেই হয়নি। প্রঃ টেলিভিশন, ছবি, ওয়েব তিনটেই সাবলিল ভাবে কাজ করছেন। চিত্রনাট্য বাছার ক্ষেত্রে মাধ্যম অনুযায়ী আলাদা-আলাদা জিনিস মাথায় থাকে? না। তেমন নয়। ছবি করব বা ওয়েব করবো, এমন কিছু ভাবি না। প্রতিটা মাধ্যমে সমান ভাবে কাজ করতে চাই। টেলিভিশন করতাম  যখন, সেটা করতেও খুব ভালবাসতাম। এত ভালবাসা পেয়েছি। সকলের বাড়ির মেয়ে হয়ে গিয়েছিলাম যেন। একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। প্রঃ কী ঘটনা বলুন? ‘বউ কথা কউ’-এ আমি তখন অন্তঃসত্ত্বা। একদিন একটা বইয়ের দোকানে গিয়েছি। দু’জন মহিলা এসে অনেক কিছু বললেন। যাওয়ার সময় বললেন, ‘এই সময় না একটু সাবধানে থাকতে হয়।’ ঘটনাটা মজার। কিন্তু ভাবুন একবার, মানুষ কতটা ধারাবাহিকের চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। প্রঃ ঠিকই, টেলিভিশনের ব্যাপ্তি অনেক বেশি। এবার একটা ক্লিশে প্রশ্ন করবো। প্রেম বেশ ভালই করছেন, বিয়ে করছেন কবে? এখনও বিয়ের জন্য ঠিক প্রস্তুত নই। যেদিন মনে হবে, এটা ঠিক সময়, করে ফেলবো। এই মুহূর্তে কোনও পরিকল্পনা নেই। প্রঃ লং ডিসটেন্স-এর জন্য সৌরভ আর আপনার অসুবিধে হচ্ছে না? এটাই আমার সৌরভের ব্যাপারে খুব ভাল লাগে। ও সব পরিস্থিতিতে আমার পাশে দাঁড়ায়। মাসের পর মাস মুম্বাইয়ে মাঝেমধ্যেই থাকি। ও সেটাকে খুব সাপোর্ট করে। আমাকে সারপ্রাইজ দিতে মম্বাইয়ে চলে আসে হট করে। দু’জনেরই এটা কেরিয়ার গড়ার সময়, সেটা ভুললেও চলবে না। এমনিতে বেশ প্রেমেই রয়েছি। প্রঃ সম্প্রতি আপনার প্রাক্তন স্বামী গৌরবের সঙ্গে একটা ব্র্যান্ডের জন্য কাজ করলেন। কোনও তিক্ততা নেই নিশ্চয়ই? অতীত না ভুললে, এগনো সম্ভব নয়। ভুলে যাওয়া ও ক্ষমা করা, দু’টোই প্রয়োজন। গৌরবের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই করবো। কোনও কিছু আঁকড়ে রেখে, ওটাকে চুইংগামের মতো টানলে কোনও লাভ হয় না। গৌরব আর আমি দু’জনেই বিষয়টা বুঝি। সবচেয়ে ভাল ব্যাপার হলো, সৌরভ আর গৌরব দারুণ ভাল বন্ধু। কোনও অস্বস্তি নেই। প্রঃ আপনার বিয়ে, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত কথা হয়, খারাপ লাগে না? না, সত্যি লাগে না। আমি যে ধরনের পেশায় রয়েছি, তাতে আমার জীবন নিয়ে যে কথা হবে, সেটা আমার জানা। সব কিছুতে আঘাত পেলে, এই পেশায় থাকা সম্ভব নয়। লোকে কথা বলবেই। আর কিছু মিথ্যে তো বলছেন না। যা ঘটেছে, সেটা নিয়েই আলোচনা করছেন। প্রঃ ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন কখনও কাজে প্রভাব ফেলেনি? প্রভাব ফেলেনি। কারণ অভিনয়ের মধ্যে ডুবে থেকেই আমি ব্যক্তিগত ক্ষতগুলো ভুলতে পেরেছি। বরং জীবনের সমস্যার জন্য আরও ভাল অভিনেতা হতে পেরেছি। প্রঃ অনেকটা ‘রকস্টার’-এর মতো, আঘাত পেলে বড় শিল্পী হওয়া যায়। (হেসে) আঘাত পেলে অনেক কিছু বোঝা যায়। গভীরতা বাড়ে।
Published by: Akash Misra
First published: July 28, 2020, 9:04 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर