‘ঝিঙ্কু নাকুড় করতে পারলে কিগান মাণ্ডিটাও করতে জানতে হবে’-জিৎ

‘ঝিঙ্কু নাকুড় করতে পারলে কিগান মাণ্ডিটাও করতে জানতে হবে’-জিৎ

‘বাচ্চা শশুর’-এর আগে ‘অসুর’-এর চিত্রনাট্যই শুনিয়েছিল পাভেল। ছবির জন্য পুজোর কিছু শ্যুটিংয়ের দরকার ছিল।

  • Share this:

#কলকাতা: আপনাকে অভিনেতা বলবো, না প্রযোজক?

জিৎ: দু’টোই বলো। দু’টো কাজই মন দিয়ে করি। কতটা পারি জানি না।

‘অসুর’-এর প্রযোজনা করতে রাজি হলেন কেন?

জিৎ: ‘বাচ্চা শশুর’-এর আগে ‘অসুর’-এর চিত্রনাট্যই শুনিয়েছিল পাভেল। ছবির জন্য পুজোর কিছু শ্যুটিংয়ের দরকার ছিল। তাই ক’দিন অপেক্ষা করলাম। পুজোয় একটা পার্ট শ্যুট করলাম। পুজোর সঙ্গে যোগ আছে বলে ভেবেছিলাম পুজোর সময়ই রিলিজ করবো। কিন্তু পুজো নিয়ে মানুষের সব সময়ই আবেগ থাকে। ভাল ছবি হলে দর্শক দেখবেন। তাই আর অপেক্ষা না করে ২০২০-র গোড়াতেই ছবি নিয়ে হাজির হলাম।

জন্মদিনে ট্রেলর লঞ্চ করলেন, ইচ্ছে করেই ট্রেলরে ধোঁয়াশা রেখেছিলেন?

জিৎ: এটাই আমাদের টার্গেট ছিল, কে অসুর? সেটা যেন সকলকে ভাবায়, তাই হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেকের জানা হয়ে গিয়েছে, অনেকে আবার ছবিটা দেখেননি, তাঁদের জন্য সারপ্রাইজটা এখনও রয়েছে।

অভিনেতারা পরিচালক হতে চান, প্রযোজক হওয়ার ইচ্ছে টলিউডে সচর-আচর কোনও অভিনেতা প্রকাশ করেন না। প্রযোজনায় এলেন কেন?

জিৎ: পরিচালনা করার ইচ্ছেও রয়েছে, তবে এখনই নয়। পরিচালনা করার জন্য যে সময়টা দেওয়া প্রয়োজন, সেটা এখনই দিতে পারব না। অভিনয়, প্রযোজনা করে সময় বের করতে পারি না। ব্যবসায়ীর ঘরের ছেলে তো, ব্যবসাটা চলে আসে।

পছন্দ মতো ছবির চিত্রনাট্য পাচ্ছিলেন না, সেখান থেকে কি ছবি প্রযোজনা করার কথা মাথায় আসে?

জিৎ: না না তেমন কিছু নয়। এই প্রসঙ্গে একটা মজার গল্প বলি। আমি যখন অভিনয় করতে এসেছিলাম। আমার কোনও কনফিডেন্স ছিল না যে, লোকে আমাকে গ্রহণ করবেন কি, করবেন না। আমি পরিচালক-প্রযোজকদের জিজ্ঞেস করতাম, ‘‘আমাকে চার-পাঁচ বছর পর্যন্ত লোকেরা গ্রহণ করবেন?’’ তাঁরা বলতেন ‘‘দেখো না কী হয়’’। ভগবানের আশীর্বাদে টিকে গিয়েছি।

শুধু টিকে গেলেন?

জিৎ:হিট করে গেলাম। এখন আমার ফোকাসটা অন্য দিকে।

কী সেটা?

জিৎ: আমি স্টুডিও গড়ে তুলতে চাই। প্রযোজনা সংস্থাটাকে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রযোজক জিৎ এবং অভিনেতা জিৎ এঁদের ভাবনার ধরন কি আলাদা?

জিৎ: আলাদা নয়। দু’ক্ষেত্রেই আমি গাট ফিলিং-এ বিশ্বাসী। আমার প্রথম যেটা মনে হয় সেটাকেই গুরুত্ব দিই।

‘অসুর’ একটু অন্য ধরনের ছবি। আপনি তো আউট অ্যান্ড আউট কমার্শিয়াল নায়ক। ইচ্ছে করে ব্যালেন্স বজায় রাখতে চান?

জিৎ: সেটা তো রাখা প্রযোজন। ‘ঝিঙ্কু নাকুড়’ করতে পারলে কিয়ান মাণ্ডিটা করতে জানতে হবে। একজন অভিনেতার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওনা হলো এক জীবনে বহু জীবন বাঁচার সুযোগ মেলে। সেটা পুরোটা উপভোগ করি। অন্য ধরনের ছবি করব ভেবে স্ক্রিপ্ট শুনি না। চিত্রনাট্য ভাল লাগলে সেই ছবি করি।

আবির চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘দ্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার’-এর পর আবার ‘অসুর’-এ কাজ করলেন এবং নুসরতের প্রথম ছবি আপনার সঙ্গে। আবার ওঁদের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগলো?

জিৎ: দু’জনকেই চোখের সামনে গ্রো করতে দেখেছি। আবির সঙ্গে যখন ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ করলাম, তখন আবির খুব বড় স্টার ছিল, এমনটা নয়। আজ যখন একসঙ্গে কাজ করলাম, আউডোরে গিয়ে টের পেলাম ওর জনপ্রিয়তা কতটা। অভিনেতা হিসেবে, মানুষ হিসেবে আবির অসাধারণ।

নুসরতের ব্যাপারে কী বলবেন? ও তো এখন সাংসদও।

জিৎ: নুসরতকে আমি আনকোড়া দেখেছি। ওর ডে ওয়ান আমার মনে আছে। নিজেকে গ্রুম করেছে। এবং এরই মাঝে ও সাংসদ হয়ে গেল। নুসরত ন্যাশন্যালিও প্রভাব ফেলেছে। নিজেকে বেশ ভালই ক্যারি করে নুসরত৷ নুসরতকে দেখে মাঝে মাঝে অবাক হই। কলেজ পাস আউট থেকে সাংসদ পুরোটাই আমার দেখা।

আবির দা এবং আপনি দু’জনই তো ভাল অভিনেতা? রিলের টক্কর হয়েছে?

জিৎ: (হেসে) আবির ভাল অভিনেতা। আমি শিখছি। একটা সিনেমা অনেক গুলো সিন নিয়ে হয়। সিনে একাধিক অভিনেতা থাকেন। প্রত্যেকটা অভিনেতা নিজের সেরাটা দিয়ে যদি সিনটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন তবেই সিনটা ওয়ার্ক করবে। একা কিছু করা যায় না। নিজের চরিত্রের সঙ্গে সৎ থাকা প্রয়োজন। আমি কিগান, আমি যদি বোধি হওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে ছবি কখনই ভাল হবে না। আবির আর আমি একে অপরকে সম্মান করি। কখনও মনে হয়নি আবির আমাকে বা আমি আবিরকে ছোট করব। ​

First published: 07:51:52 PM Jan 07, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर