Home /News /education-career /
Online-Offline Examination Controversy|| অনলাইন-অফলাইন বিতর্ক চলছেই, কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষার সওয়াল এসএফআইয়ের?

Online-Offline Examination Controversy|| অনলাইন-অফলাইন বিতর্ক চলছেই, কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষার সওয়াল এসএফআইয়ের?

Online-Offline Examination Controversy: অনলাইন না অফলাইন? কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে তা নিয়ে কার্যত দ্বিধা বিভক্ত রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা।

  • Share this:

#কলকাতা: অনলাইন না অফলাইন? কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে তা নিয়ে কার্যত দ্বিধা বিভক্ত রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ বারাসাত কলেজে এই বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। সম্প্রতি সংস্কৃত কলেজে নিজেদের দাবির সমর্থনে বিক্ষোভ দেখায় দু'পক্ষই। অফলাইনে পরীক্ষা হওয়ার দাবিদার ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ জানিয়ে বলেছে, "টুকে পাশ করার জন্যই অনলাইনে পরীক্ষা করার কথা বলছে কিছু পড়ুয়া।" আবার বিপক্ষে অনলাইনে পরীক্ষার সওয়াল করা ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন, "অফলাইনে সিলেবাসই শেষই হয়নি তাই অনলাইনে পরীক্ষা হওয়া উচিত।"

আরও পড়ুন: দাম বাড়ছে প্রতিমার, করোনা-মূল্যবৃদ্ধির জোড়া ধাক্কা সামলাতে লাইফ লাইন খুঁজছে কুমোরটুলি

এ ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতির পক্ষেই সওয়াল করেছে এসএফআই। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, "এসএফআই প্রচলিত পঠনপাঠনে যত দ্রুত ফেরা যায় তার পক্ষে। কিন্তু ছাত্রদের যে অভাব অভিযোগগুলো আছে, তাঁদের যে আশঙ্কাগুলো আছে, সিলেবাস শেষ করা হয়নি ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনার মধ্যে রাখা উচিত। এসএফআই মনে করে, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা এবং তৃণমূল ছাত্রপরিষদ ছাত্রদের উস্কে এই গোলমালের জায়গা তৈরি করেছে। সিলেবাস যতদূর হয়েছে তার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হোক বা সেমিস্টার প্রসারিত করা হোক। সেমিস্টারের সময়টা। তাহলে এই সমস্যাটা অনেকটা মিটবে বলে মনে হয়। টিএমসিপি ছাত্রদের বুঝিয়েছে আমাদের সঙ্গে থাকো আমরা অনলাইন পরীক্ষা করিয়ে দেবো। এরপর যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যখন অফলাইন বলতে শুরু করেছে, টিএমসিপি একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। আর রাজ্যসরকারের এটা অনেক আগে ঠিক করা উচিত ছিলো। একটা বিশ্ববিদ্যালয় বলছে অফলাইন একটা বলছে অনলাইন পরীক্ষা নেবে। এরপর দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা চাকরির পরীক্ষা দিতে যাবে নম্বরের তারতম্য হয়ে থাকবে। ছাত্রছাত্রীদের এই বিপদে ফেলার কী কারন। আমাদের বক্তব্য যতদূর অফলাইনে পরীক্ষা নিয়েছো ততোদূর অফলাইনে পরীক্ষা নাও। সিলেবাস শেষ না করে পরীক্ষা নয়।"

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে রাজ্যসভার তিন আসনে জয়ী বিজেপি, রাজস্থানে তিন আসন কংগ্রেসের

সংগঠনের তরফেও একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, "বিগত কিছুদিন ধরে রাজ্যজুড়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি কি হবে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। করোনা ভাইরাস ও লকডাউন এর ফলে যে দীর্ঘ সময় প্রচলিত পঠন পাঠন পদ্ধতির রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছিলো তার প্রভাবে ব্যাপক অংশের ছাত্ররা ড্রপআউট হয়ে গেছে আমাদের রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে। এমতাবস্থায় আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির চরিত্রগত বৈচিত্র ও বিন্যাস মাথায় রেখে অনেক আগেই রাজ্য সরকারের উচিত ছিলো ছাত্র, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী সর্বাংশের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করে পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি সমন্ধে ঐক্যমতে পৌঁছনো। আমরা মনে করি পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও গণতান্ত্রিক মনোভাবের অভাব আজ ছাত্রদের পরীক্ষার ঠিক প্রাক্কালে এই বিপদের সামনে এনে হাজির করেছে। শাসক দলের ছাত্রসংগঠন সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের লক্ষ্যে অনলাইন পরীক্ষা গ্রহণের প্রশ্নে ছাত্রসমাজের একাংশকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন যখন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের দাবিদাওয়া জানাতে গিয়ে রাজ্য সরকারের পুলিশের হাতেই আক্রান্ত হচ্ছে, তখন শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীদের আর দেখা যাচ্ছে না। ছাত্রদের ভুলপথে চালিত করে পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলার জন্য আমরা তাঁদের ধিক্কার জানাই। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি আক্রমণের। আমরা যতদূর সম্ভব প্রচলিত পঠনপাঠন পদ্ধতিতে ফেরার পক্ষে। কোভিড ও লকডাউনের অজুহাতে রাজ্য সরকার মাসের পর মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে সমস্ত দায়দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির লাগামছাড়া মুনাফার সুযোগ করে দিতে চেয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অফলাইনে সিলেবাস সম্পূর্ণ করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ করলে যতটুকু সিলেবাস অফলাইনে পড়ানো গিয়েছে তার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়াই শ্রেয়। আমরা এর আগেও সিলেবাস পুনর্বন্টন বা সেমিস্টারের সময়কাল প্রসারিত করার দাবি জানিয়েছি। মূল্যায়ন পদ্ধতি কী হবে সেটাও বিবেচনার মধ্যে রেখেই পরীক্ষা গ্রহনের পদ্ধতি স্থির করা উচিত। সকল ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতে লেখাপড়া করার সুনিশ্চিত করে অবিলম্বে ছাত্র সমাজের অভাব অভিযোগ আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করে ছাত্র, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মীদের মতামত নিয়ে এ সমস্যা সমাধান করার প্রশ্নে রাজ্য সরকারের উদ্যোগী হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।"

UJJAL ROY

Published by:Shubhagata Dey
First published:

Tags: Cpim, SFI

পরবর্তী খবর