ডোমের চাকরির জন্য ইঞ্জিনিয়ার, স্নাতকোত্তর ও স্নাতকদের আবেদন

আবেদনপত্রে কোনও রকম প্রমাণপত্র চাওয়া হয়নি, উল্লেখিত পদের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শেণি

আবেদনপত্রে কোনও রকম প্রমাণপত্র চাওয়া হয়নি, উল্লেখিত পদের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শেণি

  • Share this:

#কলকাতা: সম্প্রতি এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS Medical College Hospital) ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিলজি বিভাগে ছয়টি ল্যাবরেটরি অ্যাসিসটেন্ট পদের জন্য প্রায় ৮০০০ আবেদন জমা পড়েছে। এনআরএস থেকে জানানো হয়েছে, ৮০০০ আবেদনকারীদের মধ্যে ৫০০ জন স্নাতকোত্তর, ২২০০ জন স্নাতক এবং ৫০০ জন ইঞ্জিনিয়ার প্রার্থী রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন, আপাতত ৭৮৪ জন আবেদনকারীকে বাছাই করা হয়ছে। এদের মধ্যে প্রায় ৮৪ জন মহিলা রয়েছেন। এই ৭৮৪ জনকে লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার তারিখ ধার্য হয়েছে ১ অগস্ট, ২০২১। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা ভালো, ল্যাবরেটরি অ্যাসিসটেন্ট পদের মাসিক বেতন ১৫,০০০ টাকা।

উল্লেখিত পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। এই পদের জন্য ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ যোগ্যতা সম্পূন্ন প্রার্থীদের কথা বলা হয়েছিল। আপাতত যে ৭৮৪ জন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে তাদের মধ্যে সদ্য ১৮ উত্তীর্ণ প্রার্থী যেমন রয়েছে তেমনি ৪৪ বছরের ঊর্ধে থাকা প্রার্থীও আছেন। এই মুহূর্তে এনআরএসে ৪ জন ডোম রয়েছেন যাদের মধ্যে মহিলার সংখ্যা এক। পরবর্তীতে মহিলাদের পদসংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

আবেদনপত্রে কোনও রকম সার্টিফিকেট বা প্রমাণপত্র চাওয়া হয়নি যেহেতু উল্লেখিত পদের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শেণি।

এনআরএসের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কথায়, “বিজ্ঞপ্তিতে যে শিক্ষাগত যোগ্যতার আবেদনপত্র চাওয়া হয়েছিল তার থেকে অনেক বেশি যোগ্যতা সম্পূন্ন আবেদনপত্র জমা পড়েছে। যেহেতু ডোমে পদের জন্য আবেদন চাওয়া হয়েছিল আমরা ভাবতেই পারিনি এতজন স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা ইঞ্জিনিয়াররা আবেদন করবেন। অন্যান্য সময়ে সাধারণত তারাই এইসব পদে বেশি আবেদন করেন যাদের পরিবারের কোন না কোন সদস্য এই ধরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি আরও জানান, “আবেদনকারীদের বাছাই করতে গিয়ে এত বেশি সংখ্যায় মহিলাদের আবেদনপত্রও আমাদের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।”

অন্য আরেক কর্মকর্তার কথায়, “আমরা কোভিড-১৯-এর সময়েও রিক্রুটমেন্ট করেছিলাম। কিন্তু তখন এত সংখ্যায় উচ্চ শিক্ষিত আবেদনকারীরা ছিলেন না।”

কিন্তু আসল ছবিটা অন্যরকম। এই ধরণের ঘটনা এই প্রথম ঘটেনি। এর আগেও ২০১৭ সালে মালদা মেডিকেল কলেজে (Malda Medical College) মরদেহ বহন করার পদের জন্য এমফিল ও পিএইচ. ডি ডিগ্রিদারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করেছিলেন। ২টি গ্রুপ ডি ল্যাবরেটরি অ্যাসিসটেন্ট পদের জন্য সেবারে আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় ৩০০টি। প্রত্যেক চার জন আবেদনকারীর মধ্যে একজন পিএইচ. ডি অথবা এমফিল ডিগ্রিধারী প্রার্থী ছিল বলে জানা গিয়েছিল।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: