Home /News /education-career /
ফের অস্বস্তিতে পর্ষদ, TET নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ হাইকোর্টে 

ফের অস্বস্তিতে পর্ষদ, TET নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ হাইকোর্টে 

কলকাতা হাইকোর্টে ফের বিপাকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ৷

কলকাতা হাইকোর্টে ফের বিপাকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ৷

৩ তৃণমূল বিধায়কের লেটারহেড প্যাডে রোল নাম্বার দিয়ে একাধিক চাকরির সুপারিশ করার অভিযোগ মামলায়।

  • Share this:

#কলকাতা: ফের কলকাতা হাইকোর্টে অস্বস্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ৷ প্রাথমিক টেট ২০১৪ সাল থেকে টেট-এর মাধ্যমে নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে, এই অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা করেন বিজেপি নেতা তাপস ঘোষ। মামলা গ্রহণযোগ্য বলে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷

২০১৪ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে টেট-এর৷ পরীক্ষা নেওয়া হয় ২০১৫ সালে।প্রথম দফায়  ২০১৬ সালে প্রায় ৪২৮০০ শিক্ষক নিয়োগ হয়। দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ ২০২১ সালে৷ নিয়োগের সংখ্যা প্রায় ১৬৫০০। দুই দফায় রাজ্যে নিযুক্ত হন ৫৯০০০ প্রাথমিক শিক্ষক।

মামলাকারীর আইনজীবী  তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জানান, "টেট ২০১৪ মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া সব নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলেই সিবিআই ও ইডি তদন্ত চেয়েছি। যোগ্যদের চাকরি আর অযোগ্যদের চাকরি বাতিলের আবেদন আমাদের।"

মামলায় অভিযোগ ছিল, ১) টেট শংসাপত্র জাল তা দেখিয়ে চাকরি করছেন অনেকে। উত্তর দিনাজপুরেই এরকম ১৩ জনের প্রমাণ উঠে এসেছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বেঞ্চের নির্দেশে। ২) টেট ফেল করেও চাকরি। ৩) টেট-এ নম্বর বৈষম্য। ৪)একাধিক শাসকদলের জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছেন টেট ২০১৪ নিয়োগ নিয়ে। মহুয়া মিত্র, দমদমের নেতার উদাহরণ দেওয়া হয় মামলায়।

আরও পড়ুন: কলকাতা মেট্রোর  ইতিহাসে প্রথম এই সুবিধা শিয়ালদহ স্টেশনে, কী সেটা? 

তিন তৃণমূল বিধায়কের লেটারহেড প্যাডে রোল নম্বর দিয়ে একাধিক চাকরির সুপারিশ করার অভিযোগ ওঠে মামলায়। নাম জড়ায় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়, অখিল গিরি, অসীম মাজির। প্রধান বিচারপতি  ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের যুক্তি ছিল, প্রাথমিক টেট ২০১৪ নিয়োগ অনিয়ম সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ডিভিশন বেঞ্চে। নতুন করে জনস্বার্থ মামলা আদালতগ্রাহ্য হতে পারেনা।

উত্তর দিনাজপুরের ১৩ জন প্রাথমিক শিক্ষকের টেট শংসাপত্র সংক্রান্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। কাজেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলা গুরুত্বহীন। ৩ বিধায়কের লেটার হেডে রোল নম্বর দিয়ে সুপারিশ পত্রের তারিখ, ২০১৩ সালের অগাস্ট মাসের। ২০১৪ টেট পরবর্তী নিয়োগে ওই চিঠির কোনও গুরুত্ব নেই।

মামলাকারীদের আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারি, তরুণজ্যোতি তিওয়ারিরা পাল্টা যুক্তি দেন, জনস্বার্থ মামলা বিচারের ক্ষমতা না থেকেও কীভাবে ১৭/১/২০২২ আদালতের তৈরি জনস্বার্থ মামলা শুনানি হয় এবং তার নিষ্পত্তি হয়।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বেঞ্চে চাকরি ফিরে পেতে মামলা করেন উত্তর দিনাজপুরের স্বদেশ দাস। স্বদেশ জানায়, উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ তাঁর নথি ভেরিফিকেশন পর্বে আটকে দেয়। তাঁর টেট শংসাপত্র জাল বলে চাকরি বাতিল করে দেয়।

আরও পড়ুন: 'ছুটি চাইতে হবে মোদি-শাহের কাছে!' বিজেপি-র বিধায়ক, সাংসদদের কড়া বার্তা দলের

স্বদেশ দাস বলেন,তাঁর চাকরি বাতিল হলে কেন আরও ১২ জনের হবেনা। বাকি ১২ জনের টেট শংসাপত্র তাঁর মতোই। টেট শংসাপত্র ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে স্বদেশ দাস মামলাটি জনস্বার্থ মামলায় পরিবর্তন করে দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। চাকরি ফেরত পাননি স্বদেশ দাস।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।  জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্য বক্তব্যেই পরিষ্কার, টেট চাকরিতে দুর্নীতি হয়েছে। সব পক্ষের সওয়াল জবাবের পর মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়ে জানায়, প্রায় ৫৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগ অনিয়মের জনস্বার্থ মামলা হাইকোর্টে গ্রহণযোগ্য।

প্রাইমারি দুর্নীতি মামলায় আদালতে ফ্রন্টফুটে বিজেপি। মামলা গ্রহণযোগ্য, রাজ্যের যুক্তি খারিজ করে জানায় প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। এক মাসেরও মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রাথমিক পর্ষদ এবং রাজ্যকে।পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা প্রকাশ, সিবিআই এবং ইডি- কে দিয়ে তদন্তের আবেদনে মামলা করেন বিজেপি নেতা তাপস ঘোষ। সেই মামলাতেই মঙ্গলবারের নির্দেশ।

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

Tags: Calcutta High Court, TET

পরবর্তী খবর