আফিম উৎপাদনে প্রথম সারিতে কালিয়াচক, চোরাকারবার বন্ধে নজরদারিতে ড্রোন

Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Dec 12, 2017 06:35 PM IST
আফিম উৎপাদনে প্রথম সারিতে কালিয়াচক, চোরাকারবার বন্ধে নজরদারিতে ড্রোন
নিজস্ব চিত্র
Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Dec 12, 2017 06:35 PM IST

#মালদহ: মালদহের কালিয়াচকের তিনটি ব্লক বেআইনি আফিম উৎপাদনের শীর্ষে। মাদক কারবারিদের স্বর্গরাজ্য থেকে আফিম পৌঁছে যায় উত্তর ভারতেও। পোস্ত গাছ নষ্ট করেও বেআইনি এই ব্যবসায় লাগাম টানতে হিমশিম জেলা প্রশাসন। মাদক চোরাকারবার বন্ধে মরিয়া আধিকারিকদের হাতিয়ার এবার ড্রোন।

জাল নোট পাচার, অস্ত্র চোরাচালান তো ছিলই, কালিয়াচকের বেআইনি পোস্ত চাষও প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে। কালো টাকার যোগান, স্থানীয় দুষ্কৃতী ও রাজনৈতিক আঁতাঁত মাদক কারবারিদের নিশ্চিন্ত করেছে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই চার মাসেই মুনাফা লোটে বেআইনি পোস্ত কারবারিরা।

-জমি মালিকদের থেকে বিঘা প্রতি ১৫-২০ হাজার টাকায় জমি নেওয়া হচ্ছে

-চাষের জন্য প্রতি বিঘায় গড়ে ৪০ হাজার টাকা খরচ ধরা হয়

-বিঘায় ৩-৪ কেজি আফিম মেলে

-প্রতি কেজি ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকায় বিকোয় আফিম

পোস্ত চাষ বন্ধে বিএসএফের সাহায্যে বেশ কয়েকবার অভিযানে নেমেছিল জেলা প্রশাসন। তাতে অবশ্য লাভ তেমন কিছু হয়নি। বেআইনি মাদক কারবারের শিকড় অনেকটাই গভীরে।

-২০১২-য় জেলার ২ হাজার ২৪৩ বিঘা জমির পোস্ত গাছ নষ্ট করা হয়

-২০১৩-য় ৯৫৪ বিঘা জমির পোস্ত গাছ নষ্ট হয়

-২০১৪-য় জমির পরিমাণ বেড়ে হয় ৩ হাজার ৪২ বিঘা। মামলা রুজু হয় ১৪টি

-২০১৫-য় ৮ হাজার ৮০৫ বিঘা জমির গাছ নষ্ট হয়। মামলা হয় ৩৩টি

-২০১৬-য় পোস্ত গাছ নষ্টের অভিযান হয় ১২ হাজার ২৭০ বিঘা জমিতে। এ বছর ৮৭টি মামলা রুজু হয়

বারবার পোস্ত চাষের অভিযোগ উঠলেও তা বন্ধ করতে ব্যর্থ প্রশাসন। তাই এবার জেলা প্রশাসনের মরিয়া পদক্ষেপ। কোনওভাবেই যেন জেলার কোথাও এই চাষ কেউ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয়েছে যৌথ অভিযান।

সচেতনতা বাড়াতে বাইক বাহিনী তৈরি করেছে জেলা পুলিশ। কোথাও ফাঁকা জমি পড়ে থাকলেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। এরপরও চোরাগোপ্তা চাষ ঠেকাতে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে চলছে নজরদারি।

জেলা প্রশাসনের এহেন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন সকলে। আফিমের আঠা ব্যবহার করেই তৈরি হয় ব্রাউন সুগার। প্রতি কেজিতে যার বাজার মূল্য প্রায় দশ লক্ষ টাকা। জেলা থেকে পোস্ত চাষ নির্মূল করতে পুলিশ ও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

First published: 06:35:06 PM Dec 12, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर