ক্রাইম

corona virus btn
corona virus btn
Loading

আইপিএলের বেটিংয়ে বাধা, মা ও বোনকে খুন হায়দরাবাদের যুবকের !

আইপিএলের বেটিংয়ে বাধা, মা ও বোনকে খুন হায়দরাবাদের যুবকের !
Representative Image

আত্মীয়স্বজনদের চাপে খুনের কথা স্বীকার করে সাইনাথ রেড্ডি। পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দিলে তারা এসে সাইনাথকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে মা ও বোনকে খুনের কথা স্বীকার করে নেয় সে।

  • Share this:

#হায়দরাবাদ: IPL বেটিংয়ে টাকা লাগিয়ে আগেই খুইয়েছিলেন অনেক টাকা। যা জানতে পেরে পরের বার বেটিংয়ে টাকা লাগাতে বাধা দেন মা ও বোন। যার জেরে তাঁদের খুন করল হায়দরাবাদের মেদচালের যুবক। মা ও বোনের খাবারে বিষ মিশিয়ে তাঁদের খুন করে সে। তাঁদের শ্রাদ্ধের পর আত্মীয়স্বজনদের চাপে খুনের কথা স্বীকার করে সাইনাথ রেড্ডি। পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দিলে তারা এসে সাইনাথকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে মা ও বোনকে খুনের কথা স্বীকার করে নেয় সে।

মেদচাল জেলার রাওয়ালকোল এলাকায় বাড়ি সাইনাথ রেড্ডির। M.Tech পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করে সে। তাঁর বাবা প্রভাকর রেড্ডি বেশ কয়েকবছর আগে পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। মা সুনীতা রেড্ডি একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন ও বোন অনুষা রেড্ডি M.Pherma-র পড়ুয়া। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রভাকর রেড্ডির মৃত্যুর পর ইনসিওরেন্স ও অফিস থেকে বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন সুনীতা। সঙ্গে কিছু জমি বিক্রি করে মোট ২০ লক্ষ টাকা রেখে দিয়েছিলেন ব্যাঙ্কে। ছিল কিছু গয়নাও। এই সঞ্চিত টাকা ও গয়নার কথা জানত সাইনাথ।

IPL শুরু হতেই কিছু অসাধু লোক প্রতি বছরের মতো এ বছরও বেটিংয়ের ফাঁদ পাতে। যাতে ধরা দেন সাইনাথ এবং মা-বোনকে না জানিয়েই ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে বেটিংয়ে লাগান তিনি। পরে তার মা-বোন জানতে পারেন যে ওই বেটিংয়ে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি জমিয়ে রাখা গয়নার ১৫০ গ্রাম বিক্রি করে সে টাকাও জুয়ায় লাগিয়েছে সাইনাথ। কিন্তু লাভ হয়নি কিছুই, উল্টে খুইয়েছেন পুরোটাই। বিষয়টি নিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বলে, তাকে বেটিংয়ে টাকা না লাগানোর পরামর্শ দেন সুনীতা। একই কথা বলেন অনুষাও। তাঁরা সাইনাথকে আর কোনও রকম টাকা দেবেন না বলেও জানিয়ে দেন। সে সময়ে তাঁদের সঙ্গে সে ভাবে তর্ক না করলেও খুনের ছক কষতে থাকেন, এ কথা তিনি স্বীকার করেছেন।

একদিন অফিস যাওয়ার আগে মা ও বোনের খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়ে যায় সাইনাথ। যা খেয়ে মুহূর্তের মধ্যেই পেটে ব্যথা শুরু হয় দু'জনের। যে খাবার তাঁরা খেয়েছিলেন, সেটারই কিছুটা অফিস নিয়ে গিয়েছিলেন সাইনাথ। পেটে ব্যথা শুরু হতেই তড়িঘড়ি তাঁকে ফোন করে সে খাবার খেতে বারণ করেন সুনীতা। মা ও বোন অসুস্থ শুনে দ্রুত অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন সাইনাথ। কিন্তু মা ও বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি তিনি। তাঁরা অজ্ঞান হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তার পর তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করে সে। ২৭ তারিখ সেখানে মৃত্যু হয় সুনীতার।পরের দিন অর্থাৎ ২৮ তারিখ হাসপাতালে মৃত্যু হয় অনুষার।

তাঁদের শ্রাদ্ধের কাজ নিয়ম মতোই করে সাইনাথ। পরে আত্মীয়দের সন্দেহ হলে সাইনাথকে চাপ দেন তাঁরা। খুনের কথা স্বীকার করেন তিনি। পুলিশে অভিযোগ জানালে তারা সাইনাথকে গতকাল গ্রেফতার করে। আপাতত পুলিশি হেফাজতেই সাইনাথ রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: November 30, 2020, 11:00 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर