নৃশংস! মানুষের পক্ষে এমন কাজও সম্ভব, মাকে মেরে কেটে খেল ২৮ বছরের ছেলে

মানুষের পক্ষে এমন কাজও সম্ভব! মাকে মেরে কেটে খেল ২৮ বছরের ছেলে!

জানা গিয়েছে যে বচসার জেরে মাকে হত্যা করেছিল আলবের্তো। তবে তার এই অপরাধের কথা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি প্রতিবেশীরা

  • Share this:

#মাদ্রিদ: ১৯৪৮ সালে আলফ্রেড হিচককের (Alfred Hitchcock) রোপ (Rope) নামে একটা ছবি মুক্তি পেয়েছিল। সেখানে দেখা গিয়েছিল যে দুই ভাই এক বন্ধুকে হত্যা করে, তার দেহ একটা বাক্সের ভিতরে ভরে রেখে সেটাকেই ব্যবহার করছে টেবিল হিসেবে, সন্ধের পার্টিতে আসা অতিথিরা বুঝতেও পারছেন না যে মৃতদেহের উপর থেকে খাবার তুলে নিয়ে মুখে দিচ্ছেন তাঁরা! কিন্তু এই ছিল ছবির গল্প! এবার স্পেনের যে অপরাধের ঘটনা প্রকাশ্যে এল, তা স্তম্ভিত করে দিয়েছে বিশ্বকে। মাকে মেরে ছেলে কেটে খেতে পারে, এ কী বিশ্বাস করা যায়!

বিশ্বাস করা না গেলেও এমন ঘৃণ্য অপরাধ ঘটেছে স্পেনের মাদ্রিদের ভেন্তাস এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে যে ২৮ বছরের আলবের্তো সানচেজ গোমেজ (Alberto Sanchez Gomez) তার ৬৮ বছরের মা মারিয়া সোলেদাদ গোমেজকে হত্যা করে কেটে খেয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৯ সালের। তখন থেকেই স্পেনের অডিয়েন্সিয়া প্রভিন্সিয়াল কোর্টে এই মামলার বিচার চলছে। যার রায় সম্প্রতি দিয়েছেন বিচারক। ঘটনায় হত্যা এবং নরখাদকতার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে আলবের্তোকে।

জানা গিয়েছে যে বচসার জেরে মাকে হত্যা করেছিল আলবের্তো। তবে তার এই অপরাধের কথা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি প্রতিবেশীরা। মারিয়ার একটা কিছু হয়েছে- এই সন্দেহ প্রথম উঁকি দেয় এক বন্ধুর মনে। তিনি পুলিশে খবর দেন এবং জানান যে মারিয়ার সঙ্গে তাঁর এক মাসের উপর হয়ে গেল দেখাসাক্ষাত হচ্ছে না। এর পরে পুলি ঘটনার তদন্ত করার জন্যে যখন গোমেজদের বাড়িতে জানায়, আলবের্তো স্বীকার করে নেয় যে সে তার মাকে হত্যা করেছে!

পুলিশ জানিয়েছে যে মারিয়ার ঘরে বিছানার উপরে তারা মৃতার কাটা মাথা, হাত এবং হার্ট পড়ে থাকতে দেখেছে। শরীরের বাকিটুকু সব মিলিয়ে প্রায় হাজারটা টুকরো করেছিল আলবের্তো। সেই টুকরোর কিছু কিছু রেফ্রিজারেটরে টাপারওয়্যার বক্সে বন্দী অবস্থায় আবিষ্কার করেছে পুলিশ। সারা বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে তারা নানা ড্রয়ারের ভিতর থেকে খুঁজে পেয়েছে মারিয়ার হাড়!

BBC প্রকাশিত প্রতিবেদন জানিয়েছে যে আলবের্তো অনেক দিন ধরেই পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে ভুগছিল এবং বেকার এই যুবক ড্রাগের নেশাতেও অভ্যস্ত ছিল। দুইয়ের প্রভাবেই এমন নারকীয় কাজ সে ঠাণ্ডা মাথায় করে উঠতে পেরেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: