ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে মায়ের হাতেই রক্তের দাগ! ভালোবেসেই খুন অর্জুন-রাখী?

ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে মায়ের হাতেই রক্তের দাগ! ভালোবেসেই খুন অর্জুন-রাখী?

অর্জুন দলুই ও রাখী প্রামাণিক।

নিজের ছেলে ও বউমাকে খুনের অভিযোগে ভ্যালেন্টাইন ডে - এর দিনেই গ্রেফতার মা-সহ পাঁচ জন |

  • Share this:

#হাওড়া: ভালোবেসে নিজের প্রিয়জনকে বিয়ে করার অপরাধ মায়ের হাতেই সস্ত্রীক খুন হতে হলো ছেলেকে| নিজের ছেলে ও বউমাকে খুনের অভিযোগে ভ্যালেন্টাইন ডে - এর দিনেই গ্রেফতার মা-সহ পাঁচ জন |

হুগলির আরমবাগের মনসায়লার বাসিন্দা অর্জুন দলুই ও প্রতিবেশী রাখী প্রামাণিক দুই জনের মধ্যে অনেকদিনের প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক | তবে দুজনের পরিবারের কেউই তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিত না , কয়েকদিন আগেই দশম শ্রেণীর ছাত্রী  রাখির পরিবারের তরফে রাখির অন্যত্র বিয়ে ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছিল | সেই সময় রাখি ও অর্জুন ঠিক করে তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করবে | সেই অনুযায়ী ২৬ জানুয়ারী সবার অলক্ষ্যে রাখী আর অর্জুন পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে, বেশ কয়েকদিন এদিক ওদিক ঘুরে ডোমজুড়ে অর্জুনের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয় |

খবর পেয়ে অর্জুনের মা অর্জুন ও পুত্রবধূ কে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ডোমজুড়ে আসে |  সেখানেই তাদেরকে বুঝিয়ে আলাদা করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে | কারণ রাখি নাবালিকা হওয়ায় রাখির পরিবারে পক্ষ থেকে আরামবাগ থানায় অপহরণ মামলা রুজু করা হয়েছিল | অর্জুনের মায়ের দাবি ছিল, এখন তাঁরা বাড়ি ফিরুক পরবর্তীকালে রাখীর বিয়ের বয়েস হলে তাদেরকে সামাজিক ভাবে বিয়ে দেওয়া হবে |

অর্জুন ও রাখী সেই প্রস্তাবে রাজি না থাকায় আত্মীয়দের সাথে পরিকল্পনা করে  অর্জুন আর রাখীকে খুন করে দেহ একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে দেয় | এই মাসের নয় তারিখ ডোমজুরের নারনা এলাকা থেকে দুজনের দেহ উদ্ধার করে ডোমজুড় থানার পুলিশ | তদন্তে নেমে দুজনের পরিচয় খুঁজতে পুলিশ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় উদ্ধার হাওয়া দেহের ছবি পাঠিয়ে দেয় | সেখানেই নিখোঁজ থাকা অর্জুন ও রাখীর ছবির সাথে মিলিয়ে আরামবাগ থানার পুলিশ মৃতদেহের পরিচয় খুঁজে পায় |

তদন্তে নেমে অর্জুনের মা কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশই জেরায় ছেলে ও পুত্রবধূকে খুনের কথা স্বীকার করে | তদন্তে জানা যায় দুজনকে শ্বাসরোধ করে খুন করে | মৃত্যু সুনিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র গরম করে শরীরের একাধিক জায়গায় কোপানো হয় | অস্ত্র গরম করে কোপানো হয় যাতে শরীর থেকে রক্তক্ষরণ না হয় | এমন ভাবে ক্ষত করা হয় যাতে দেহ দেখে মনে হয় আত্মহত্যা করেছে তাঁরা | এই ঘটনায় অর্জুনের মা-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ | মা তার নিজের ছেলেকে এই ভাবে নৃশংস খুন করতে পারে সে কথা বিশ্বাস করতে চাইছেন না | শুধুকি পরিবারের অনিচ্ছায় বিয়ে করার জন্যই খুন না রয়েছে অন্য কোনো বিষয় | অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সেই ঘটনা উন্মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছে হাওড়া ও হুগলি পুলিশ |

Published by:Arka Deb
First published: