দ্বিতীয় স্ত্রী-র একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক! প্রতিবাদ করেছিলেন স্বামী, তার পরিণামেই কি ব্যবসায়ীকে খুন ?

দ্বিতীয় স্ত্রী-র একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক! প্রতিবাদ করেছিলেন স্বামী, তার পরিণামেই কি ব্যবসায়ীকে খুন ?
Photo- Representive

হয় টাকা নয় দুশ্চরিত্র স্ত্রী -কোন কারণে ব্যবসায়ী হত্যা, তদন্তে নেমে বিভিন্ন দিকে মিলছে দিশা

  • Share this:

# কলকাতা : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি,পাঁশকুড়া রেলের সাইডিংয়ে খালি ট্রেনের কামরা় থেকে ট্রলির ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছিল মৃত দেহ।দেহ শনাক্ত হয়,১ দিন পর।

মৃতদেহটি ছিল কলকাতার বি বি গাঙ্গুলী স্ট্রিটের এক নামী ব্যবসায়ী, হাসান আলির (৫৫)। পরিবার সূত্রে জানানো হয়, হাসান, দীঘার একটি ঠিকায় নেওয়া হোটেলের ১০ লক্ষ টাকা দিতে গিয়েছিলেন।কিন্তু ওই  হোটেল ' প্রতিমা গেস্ট ইন' এর মালিকের কথায়,১১ মাসের জন্য ২১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল হাসানের সঙ্গে।১৫ লক্ষ টাকা আগেই কয়েক কিস্তিতে দিয়েদিয়েছিল হাসান।বাকি ছিল,৬লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে ওই হোটেল হস্তান্তর হওয়ার কথা ছিল।

 এই ঘটনায়  হাসানের ছায়াসঙ্গী ছিল রাজু হালদার নামে এক যুবক।যেদিন থেকে ব্যবসায়ী  নিখোঁজ ছিলেন,তার পর থেকে রাজুর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে যে বাড়িতে ভাড়া থাকত রাজু,সেই বাড়িতে নেই।রাজু কি পলাতক,না রাজুও খুন হয়েছে সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তদন্তকারীদের। একমাত্র রাজু জানত হাসান দীঘায় যাবে ৷ এর পুরো বয়ানটি পাওয়া গেছে রঞ্জন নামের ব্যক্তির বয়ানের ভিত্তিতে ৷ এরমধ্যে টাকা সংক্রান্তও গণ্ডগোল নিয়ে প্রশ্ন থাকছে ৷

তবে এই হত্যারহস্যের মধ্যে এই আর্থিক লেনদেন ছাড়া আরও সমস্যার ইঙ্গিতও রয়েছে ৷ মৃত ব্যবসায়ী হাসানের দুই স্ত্রী।প্রথম স্ত্রী থাকেন খিদিরপুরে।দীর্ঘদিন আগে বিচ্ছেদ হয় ওদের। একটি ছেলে রয়েছে।যার বয়স ২০ বছর।মায়ের সঙ্গেই থাকে সে।তবে বাবার সঙ্গে কয়েক দিন আগে মতানৈক্য তৈরি হয় ছেলেটির।এই বিষয়টা তেমন ভাবিয়ে তুলছে না তদন্তকারীদের।

অন্য দিকে হাসানের দ্বিতীয় স্ত্রী সীমা খাতুন। বাপের বাড়ি হাসানের গ্রাম গোবিন্দ নগরের পাশে, মাইসোরাতে।এই দুজনের একটি ১৬ বছরের ছেলে রয়েছে।বেশ কিছুদিন ধরে হাসান ও সীমার মধ্যে সম্পর্ক খুব খারাপ হয়েছিল।সীমার সঙ্গে একাধিক পুরুষের সম্পর্ক রয়েছে।যা নিয়ে ওদের মধ্যে গন্ডগোল।সীমা পেশায় বিউটিশিয়ান।গন্ডগোলের সীমা অতিক্রম করলে,হাসান সীমার বিরুদ্ধে,বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ও আর্থিক তছরুপের মামলা করে। তারপর সীমা বাড়ি ছেড়ে মাস চারেক আগে শিলিগুড়িতে গিয়ে থাকা শুরু করে।অনেকের বক্তব্য সীমা অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে থাকছিল।

স্থানীয়দের কথায় ,সেই সময় হাসান তার অফিসে বসে খুব কান্না করত।পরিবারের অন্য সদস্যরা কোনো ভাবে সীমাকে সংসার করার জন্য বোঝাতে পারেনি।    অবশেষে অবুঝ সীমাকে বাড়িতে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করে হাসান।সীমার বিরুদ্ধে থেকে মামলা তুলে নিতে হবে,সেই চুক্তিতে নিখোঁজের ৩ দিন আগে,কলকাতার বাড়িতে ফেরে সীমা।    ২৩ শে ফেব্রুয়ারী,হাসানের এক শালীর বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য সস্ত্রীক পাঁশকুড়া যায়। সেখানে গিয়ে,বিয়ের অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা বেলা দুজনের মধ্যে চরম অশান্তি হয়।তারপর দুজনে রাতে কলকাতার বাড়িতে ফিরে আসে।

  পরের দিন খুব সকালে হাসান বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।আত্মীয়দের কথা অনুযায়ি,দীঘায় গিয়েছিল।এর কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।খুন করা হয়েছে শ্বাস রোধ করে,এটা পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।    হাসান নিখোঁজ হওয়ার পর,ওর ভাইরা কোনো কিছু অঘটনের আঁচ পাচ্ছিল।কিন্তু সেই সময় সীমা একেবারে নিরুত্তাপ ছিল।মৃত্যুর পর সীমা সঙ্গে সঙ্গে ওর ভাইদের দিকে আঙুল তুলেছিল। সবাইয়ের ধারণা,হোটেল ঠিকা নেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে খুন না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।    তাহলে খুনের কারণ কি হতে পারে?,ওদের দাম্পত্য কলহ ? নাকি স্বামী হিসেবে সীমার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিরোধিতা?

SHANKU SANTRA

First published: February 28, 2020, 2:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर