শুধু ATM নয়, বিমান সংস্থার সার্ভার হ্যাক করেও জালিয়াতি করেছিল রোমানিয়ান চক্র

শুধু ATM নয়, বিমান সংস্থার সার্ভার হ্যাক করেও জালিয়াতি করেছিল রোমানিয়ান চক্র
  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাতা: সদ্য সামনে আসা কলকাতার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও রোমানিয়ানরা বিখ্যাত জালিয়াত হিসেবেই। তাদের জালিয়াতির যা নজির রয়েছে তাতে কলকাতার এই ব্যাঙ্ক জালিয়াতি তাদের কাছে খুব সাধারণ ব্যাপার। বিভিন্ন দেশে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ছাড়াও রোমানিয়ানরা সারা বিশ্বে 'খ্যাতি' অর্জন করেছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সার্ভার হ্যাক করে। বিখ্যাত এই বিমান সংস্থার সার্ভার হ্যাক করে কয়েকশো কোটি টাকা পকেটে পুরেছে রোমানিয়ান চক্র।

কীভাবে? সূত্রের খবর, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে গ্রাহকরা ব্রিটিশ এয়ারওয়াজের টিকিট কেটেছিলেন তারাই এই রোমানিয়ানদের ফাঁদে পড়েছেন। সংস্থার ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ থেকেই সব থেকে বেশি প্রতারণা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। টাকার অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা।

তদন্তে জানা যায়, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সার্ভার হ্যাক করেছিল রোমানিয়ানরাই। সেই সময় যারা তাদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ডিটেইলস দিয়ে টিকিট কেটেছেন তাদের সব তথ্য চলে যায় রোমানিয়ান হ্যাকারদের কাছে।

IMG-20191209-WA0025

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ হ্যাকিং চক্রে যুক্ত রোমানিয়ান এবং এটিএম জালিয়াতির রোমানিয়ানরা আলাদা হলেও, কলকাতায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির তদন্তে নেমে লালবাজারের গোয়েন্দারা রোমানিয়ানদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন। এটিএম জালিয়াতি শুধু নয়, প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও বড় জালিয়াতি করাও তাদের কাছে কোনও ব্যাপার নয়। লালবাজারের এক গোয়েন্দা বলেন, "রোমানিয়ানরা জেরার সময় সেই টুকুই তথ্য দেয় যেটুকু আমরা জানি। আমরা যা জানি না সে বিষয়ে ওরা মুখও খুলবে না। ওদের মুখ থেকে কথা বের করা খুব মুশকিল। তবে ওদের যা টেকনিক্যাল জ্ঞান তাতে এটিএম স্কিমিং খুব মামুলি ব্যাপার।"

লালবাজারের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, কলকাতা ছাড়াও দিল্লি ও অন্যান্য শহরের নাগরিকরাও এদের টার্গেট ছিল। ট্যুরিস্ট ভিসায় দিল্লিতে এসে অ্যাপ দিয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানেই স্কিমার ডিভাইস তৈরি করত। তারপর নিজেরাই এটিএমে যন্ত্র বসাতো। তারপর পিন হোল ক্যামেরা বসিয়ে গ্রাহক কি পিন দিচ্ছে সেটা লাইভ দেখতো। লালবাজারের এক কর্তা বলেন, "এই স্কিমিং জালিয়াতিতে একমাত্র রোমানিয়ানরাই এক্সপার্ট। স্কিমিংয়ে তারা নিজেদের আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে। নতুন প্রযুক্তি আনারও চেষ্টা করছিল।"

যাদবপুর ও চারু মার্কেট এলাকায় যে গ্রাহকরা স্কিমিং প্রতারণার শিকার হয়েছে সেই মামলায় আপাতত একজন রোমানিয়ান গ্রেফতার হয়েছে। আরও চারজন রোমানিয়ান যুক্ত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে লালবাজার। তবে চলতি বছরে মোট ২৫০ জন রোমানিয়ান দেশে এসেছে ৷ যা এই মুহূর্তে আরও উদ্বেগের কারণ।

First published: December 11, 2019, 8:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर