এটিএমের পিন নম্বর কি দিলেন, 'লাইভ' দেখত রোমানিয়ানরা

এটিএমের পিন নম্বর কি দিলেন, 'লাইভ' দেখত রোমানিয়ানরা
  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাতা: ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনায় ধৃত জালিয়াতরা এটিএম কাউন্টেরকেই 'স্টুডিও'তে পরিণত করেছিল। যেখানে স্কিমার যন্ত্র বসিয়ে শুধু গ্রাহকের তথ্যই নিত না, সেখানে কে ঢুকছে, কি করছে, পিন নম্বর কত দিচ্ছে হোটেলে বসে সবকিছুর উপর সরাসরি 'লাইভ স্ট্রিমিং'য়ের মাধ্যমে নজর রাখত। এমনই তথ্য উঠে এসেছে পুলিশি জেরায়।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, যে এটিএমকে টার্গেট করত রোমানিয়ানরা, তার খুব কাছেই কোনও হোটেল ভাড়া নিত তারা। তারপর রেইকি করে সব দেখে নেওয়ার পর সুযোগ বুঝে সেখানে স্কিমিং যন্ত্র বসাতো। যেখানে ডেবিট কার্ড ঢোকানো হয়, সেখানেই চিপ-সহ স্কিমার বসানো হত। তারপর যেখানে পিন দেওয়ার কি-বোর্ড থাকে ঠিক তার উপরে বসানো হত পিন হোল ক্যামেরা। এক গোয়েন্দা অফিসার বলেন, "প্রত্যেকটা ডিভাইস রোমানিয়ানের মোবাইলের সাথে যুক্ত থাকতো বলেই মনে হচ্ছে। কোন পদ্ধতিতে তারা এই লাইভ স্ট্রিমিং করে দেখতো সে বিষয়ে জেরা করা হচ্ছে।"

গোয়েন্দারা মনে করছে, ওয়াইফাই-এর মাধ্যমে স্কিমার যন্ত্র ও পিনহোল ক্যামেরা যুক্ত থাকতো রোমানিয়ানদের মোবাইল বা অন্য কোনও ডিভাইসের সঙ্গে। সেই জন্যেই এটিএমের খুব কাছেই হোটেল নিত।লালবাজার সূত্রে খবর, ধৃত সিলিভিউ ফ্লোরিন স্পিরিডন রোমানিয়ান চক্রের হয়ে স্কিমিং যন্ত্র তৈরি করত। এই কাজে বিশেষজ্ঞ সে। তৈরির পাশাপাশি কিভাবে তা এটিএমে বসাতে হবে, কিভাবে সেই যন্ত্র কাজ করবে সবটাই ধৃত এই রোমানিয়ান করত। তাই তাকে গ্রেফতার করে চক্রের বাকিদের খোঁজ পাওয়ার পাশাপাশি যন্ত্র তৈরির প্রযুক্তিও জানা সম্ভব হবে। স্কিমিং জালিয়াতির ঘটনায় গঠিত 'সিট'-এর এক অফিসার বলেন, "কিভাবে এটিএম থেকে লাইভ স্ট্রিমিং করা হত সেটা জানা জরুরি। তাই এই রোমানিয়ান গ্রেফতার তদন্তে গতি আনবে।"

পুলিশ মনে করছে, মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের রক্ষীবিহীন এটিএমকেই টার্গেট করত রোমানিয়ানরা। সম্প্রতি যাদবপুর, চারু মার্কেট থানা এলাকায় ৭০টির বেশি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতেও রোমানিয়ান গ্যাংয়ের জালিয়াতির শিকার হয়েছিল শহরের বহু মানুষ। কয়েকশো মানুষের তথ্য তখন রোমানিয়ানদের কাছে চলে গিয়েছিল। সেই তথ্য দিয়েই জালিয়াতি করেছে তারা। সেই ঘটনা সামনে আসার পর ব্যাংকগুলি এটিএমের প্রযুক্তি বদলানোর নতুন করে কোনও গ্রাহকের তথ্য হাতাতে পারেনি তারা।

লালবাজার সূত্রে খবর, দিল্লির গ্রেটার কৈলাসের যে ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানেই তার 'স্কিমিং ল্যাব' ছিল। গ্রেফতারের সময় স্কিমার তৈরির বেশকিছু সামগ্রীও মিলেছে তার থেকে। রবিবার ফিল্মি কায়দায় অটোতে করে ধাওয়া করে এক রোমানিয়ানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও বাকিরা পালায়। তাদের খোঁজে দিল্লিতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে লালবাজার।

First published: 02:15:23 PM Dec 10, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर