ক্রাইম

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

টেকনিক্যাল কাজ করার নাম করে বেরিয়ে দুঃসাহসিক সব চুরি, সোনারপুর এলাকায় ত্রাস তৈরি করা দল গ্রেফতার

টেকনিক্যাল কাজ করার নাম করে বেরিয়ে দুঃসাহসিক সব চুরি, সোনারপুর এলাকায় ত্রাস তৈরি করা দল গ্রেফতার

নেশার টাকা জোটানোর তাগিদেই এই পথে নেমেছিল ১৮-২৫ -র এই তরুণরা

  • Share this:

#কলকাতা :   'একা থাকলে কোন প্রকারে ফুটিয়ে খাই, আর একসঙ্গে সবাই জুটে গেলে পিকনিক করি।'ঠিক তেমনই একজন দুজন থাকলে ছোটখাটো চুরি, আর সবাই একসঙ্গে হয়ে গেলে ডাকাতি। এই ভাবেই বেশ চালাচ্ছিল জনা ৬-র দল। লকডাউন এর বাজারে চুরি করতে অনেকটা অসুবিধা হচ্ছিল চোরদের। রাতের বেলায় রাস্তায় কেউ জিজ্ঞাসা করলেই উত্তর দেওয়াটা বড় অসুবিধার হয়ে গেছিল ওদের। যে কারণে ধরা পড়ে গেল চোরের দল।

 লকডাউন ওঠার পরে চুরির সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছিল। সোনারপুর থানা এলাকায় পরপর চুরির কিনারা করে ফেলল পুলিশ। ধরে ফেলল পাঁচজনকে। চুরি যাওয়া বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে তাদের কাছ থেকে।   চোরেদের বয়স আঠারো থেকে পঁচিশ। প্রত্যেকে হেরোইন ,ব্রাউন সুগার এর মত ভয়ঙ্কর মাদকের নেশা করে। এক একজনের প্রতিদিনের এই নেশার খরচ আটশ  থেকে এক হাজার টাকা লাগে। সেই টাকা জোগাড়ের জন্য, প্রতিদিন ঘুটিয়ারি শরিফ থেকে সন্ধ্যাবেলা বেরিয়ে পরে নাইট ডিউটি দিতে। যেহেতু টেকনিক্যাল কাজ, সঙ্গে ছুরি ,হাতুড়ি, প্লাস ,শাবল - এগুলো থাকে।

৫ জুলাই রাত দুটো নাগাদ সোনারপুর থানার রাতের টহলদারি পুলিশ ,দুটি ছেলেকে দেখতে পান পিঠে ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সোনারপুর স্টেশন থেকে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছে। সেই সময় পুলিশ ওদেরকে দাঁড় করিয়ে পিঠের ব্যাগ খুলে দেখতেই, বেরিয়ে পড়ে টেকনিক্যাল কাজের যন্ত্রপাতি। সঙ্গে চুরির কিছু মালপত্র। ব্যাস তারপর পুলিশের জেরায় স্বীকার করে ফেলে সমস্ত কীর্তি।   পরে পুলিশ ঘুটিয়ারি শরিফ থেকে বাসার আলি খান, ইসারুল মোড়ল, রাজেশ শেখ, রাকেশ শেখকে গ্রেফতার করে।

এদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘুটিয়ারি শরিফের মাদারতলা এলাকা থেকে ইসলাম মোল্লা নামে একজনকে গ্রেফতার করে। এই ইসলাম মোল্লা চোরের কাছ থেকে চুরির মালপত্র কিনত।   মাদার তলাতে ইসলাম মোল্লার বাড়িতে গিয়ে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। ওর বাড়ি ? না, ছোটখাটো একটি শপিং মল! ভালো দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি থেকে আরম্ভ করে মোবাইল, কাপড়, জামা প্যান্ট, বাসন সবই পাওয়া যায়। পাশের গ্রাম ও বিভিন্ন জায়গা থেকে খরিদ্দাররা এসে অর্ধেকের কম দামে ইসলামের কাছ থেকে জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যেত৷

ইসলামকেও সোনারপুর থানার পুলিশ গ্রেফতারও করেছে।   এই চোরের দল মাঝে মাঝে কলকাতা এবং তার সংলগ্ন এলাকাতে ডাকাতি ও করেছে। এর আগে কলকাতার মুচিবাজার থানাতে এরা ধরা পড়েছিল। এদের বয়সটা এমনই, এদেরকে দেখে তেমন ভাবে কেউ সন্দেহ করতে পারে না।   তবে সোনারপুর থানা এলাকায় পরপর চুরির কিনারাতে খুশি অভিযোগকারীরা। পুলিশ এদেরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো বেশ কিছু চুরির কিনারা করতে চাইছে। পুলিশের দাবি এদের কাছ থেকে দক্ষিণ কলকাতা এবং সোনারপুর, বারাইপুর ,নরেন্দ্রপুর এই সমস্ত থানা এলাকাগুলির বেশির ভাগ চুরির কিনারা করা সম্ভব।

SHANKU SANTRA

Published by: Debalina Datta
First published: July 8, 2020, 12:17 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर